বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহারে যেমন শিক্ষার্থীদের শেখার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে, তেমনি শিক্ষকতাও হচ্ছে সহজ ও কার্যকর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল শ্রেণীকক্ষ ও তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের কারণে এখন শিক্ষা আরো সহজ, সাশ্রয়ী, ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও ফলপ্রসূ হয়ে উঠছে।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ফলে এখন শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো শিখতে পারছে। প্রচলিত শ্রেণীকক্ষে সবার আলাদা চাহিদা মেটানো কঠিন হলেও এখন স্মার্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া পাচ্ছে, শেখার গতি বাড়াতে বা কমাতে পারছে। ভিজুয়াল উপস্থাপনা, প্রশ্নোত্তর কিংবা সিমুলেশনের মাধ্যমে একই বিষয় আলাদা উপায়ে শেখার সুযোগও পাচ্ছে সবাই। এতে শুধু সময় বাঁচছে না, বরং যারা ভিন্নভাবে শিখতে চায় বা যারা কিছু বিষয়ে পিছিয়ে, তারাও উপকৃত হচ্ছে।
পাশাপাশি ইন্টারনেটে নানা হোমস্কুলিং-ভিত্তিক পাঠ্যক্রম জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ভিডিও পাঠ, কম্পিউটার-ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর, আবার তাৎক্ষণিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ঘরে বসেই পুরো অধ্যায়ন করতে পারছে। অভিভাবকরাও এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্তানের অগ্রগতি নিয়মিত দেখতে পাচ্ছেন। অনেক পাঠ্যক্রমে এমন ব্যবস্থাও আছে, যেখানে নিজেই নিজের শিখন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারছে শিক্ষার্থীরা।
এছাড়া অনলাইনে এখন প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত সনদপ্রাপ্ত শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত স্কুলের চাহিদাও বেড়েছে। এসব স্কুলে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সিলেবাস অনুযায়ী ক্লাস করছে, নিয়মিত মূল্যায়ন পাচ্ছে। এছাড়া প্রয়োজনে মিলছে একক সহায়তাও। বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য বা যারা স্থায়ী কোনো সময়সূচিতে বাঁধা পড়তে চায় না, তাদের জন্য এ পদ্ধতি অনেক কার্যকর হচ্ছে।
ওপেনএআই সিইও স্যাম অল্টম্যান বলেন, ‘প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শেখার ধরন ও বিকাশে বড় প্রভাব ফেলবে। ১৮ বছর পরের শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারেই আলাদা রূপ নেবে।’
শিক্ষাক্ষেত্রে এখন এমন অ্যালগরিদমও তৈরি হয়েছে, যা শিক্ষার্থীর দুর্বলতা বুঝে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে পারে। এতে শিক্ষক ও অভিভাবক বুঝতে পারবেন কোন বিষয়ে শিক্ষার্থী পিছিয়ে আছে আর কীভাবে তাকে সাহায্য করা দরকার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি এখন অনেক অ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর দুর্বলতার ভিত্তিতে আলাদা গাইড বা প্রশ্নপত্র তৈরি করছে। শিক্ষকতাও সহজ হয়েছে। মূল্যায়ন, ক্লাস তৈরিসহ নানা কাজ এখন দ্রুত করা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে প্রযুক্তি এখন আর শুধু সহায়ক নয়, বরং শিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। নতুন প্রযুক্তির সংযোজন ও উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতের শিক্ষা হবে আরো নমনীয় ও অংশগ্রহণমূলক এবং সবার জন্য সহজলভ্য, শিক্ষার্থীরা যেখানেই থাকুক না কেন!
—টেকটাইমস অবলম্বনে