ছোট্ট একটা কাজে হাজারো ইচ্ছেপূরণ

এই রমজানে রবি নিয়েছিল একটি ছোট্ট উদ্যোগ। আর সেই ছোট্ট উদ্যোগই প্রমাণ করল যে, একটুখানি যত্নই পারে হাজারো মানুষের ইচ্ছেপূরণ করতে।

বাংলাদেশে রমজান এলে প্রতিদিনের ছন্দটা বদলে যায়। ভোর হয় আরও আগে, সন্ধ্যা নামে একটু ধীরে, আর মানুষ হয়ে ওঠে আশপাশের মানুষের প্রতি আরও সচেতন।

এই মাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নিজের বাইরেও একটা পৃথিবী আছে, যেখানে অন্যদের কথা ভাবার সময় এসেছে।

আর একই সাথে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে দেখা যায় রমজানের দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নির্মিত হৃদয়ছোঁয়া সব বিজ্ঞাপন। তবেএবার রমজানের শুরুতেই রবি নিয়ে আসে একটা ভিন্ন ভাবনা-'ছোট্ট একটা কাজে হাজারো ইচ্ছেপূরণ'। প্রচলিত বিজ্ঞাপনের বদলে রবি সময় আর শ্রমটুকু ঢেলে দেয় সত্যিকারের কিছু কাজে, যা চারপাশের মানুষ আর সমাজে জন্য বয়ে আনতে পারে ইতিবাচকতা।

ধারণাটা ছিল সহজ- সঠিক সময়ে করা একটা ছোট কাজই পারে কারও জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে। আর এইসব ছোট ছোট উদ্যোগ অনুপ্রাণিত করতে পারে আরও ছোট ছোট উদ্যোগকে, যা সামষ্টিকভাবে রাখতে পারে বিরাট অবদান। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে রবি এই ছোট ছোট কাজগুলো বাস্তবে রূপ দিয়েছে।

ঢাকা ও চট্টগ্রামে, ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে যানজটে আটকে পড়া পথচারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল খেজুর আর পানি। সারাদিন রোজা রেখে দীর্ঘ কর্মদিনের পর যাঁরা পথে ছিলেন, এই ছোট্ট উপহারটুকুই তাঁদের জন্য বয়ে আনে বিরাট স্বস্তি।

'ভালো কাজের হোটেল'- যারা সমাজের অসহায় মানুষদের জন্য ভালো কাজের বিনিময়ে খাদ্যের ব্যবস্থা করে থাকে, তাদের এই উদ্যোগের পাশেও দাঁড়ায় রবি।'ভালো কাজের হোটেল'-এরউদ্যোগকে আরও বড়ো করে তুলতে রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিকসহসমাজের দরিদ্রশ্রেণির মানুষের জন্য ইফতার আয়োজনে রবি তাদের সহযোগী হয়।

ঢাকায় বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতালে যেসব শিশু চিকিৎসার জন্য বেশিরভাগ সময় হাসপাতালেই কাটায়, তাদের জন্য রবি তৈরি করে একটি প্লে জোন। শিশুদের হাসি আর আনন্দে বদলে যায় হাসপাতালের পরিবেশটাই।

চাঁদপুরে একটি এতিমখানায়পরিবারহীন শিশুদের হাতে রবি তুলে দেয় ঈদের নতুন পোশাক আর উপহার। যাদের উদযাপন করার মতো পরিবার নেই, তাদের জন্য এই সামান্য আয়োজনই ঈদের উপলক্ষ্যকে করে অনেক আনন্দের।

আর সিলেটের মুরাইছড়া চা বাগানে, স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক সাগর তির্কীর পরিচালিত একটি ছোট্ট স্কুলে রবি পাঠিয়েছে বই, স্কুলব্যাগ, খেলার সরঞ্জাম, একটি স্মার্ট টিভি আর ইন্টারনেট সংযোগ। প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলটিকে একাই বাঁচিয়ে তোলেন সাগএ তির্কী। তার হার-না-মানা সংগ্রামের সাথে দাঁড়িয়ে রবি এই স্কুলটির শিশুদের জন্য দিয়েছে স্বপ্ন দেখার নতুন সাহস।

লক্ষ্য ছিল না দৃষ্টি আকর্ষণ, লক্ষ্য ছিল পরিবর্তন।

প্রতিটি কাজই হয়তো ছিল ছোট। কিন্তু একসাথে এই কাজগুলো পৌঁছে গিয়েছিল সেইসব মানুষদের কাছে, যাদের সত্যিই এই সাহায্যটুকু দরকার ছিল। ছোট ছোট এই কাজগুলো আরও হাজারটা ছোট ছোট কাজকে অনুপ্রাণিতও করেছে।

এটাই ছিল 'ছোট্ট একটা কাজে হাজারো ইচ্ছেপূরণ'-এর মূল চেতনা।

আরও