কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্রুত বিস্তারের ফলে বিশ্বজুড়ে ‘চাকরির মহাবিপর্যয়’ তৈরি হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান। বিশেষ করে অফিসভিত্তিক চাকরিতে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে আগে যে আশঙ্কা করেছিলেন, বাস্তবে পরিস্থিতি ততটা ভয়াবহ হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ায় আয়োজিত এক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে অল্টম্যান বলেন, ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি চালুর সময় প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বিষয়ে তাদের পূর্বাভাস মোটামুটি সঠিক ছিল। তবে এআইয়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে তাদের ধারণা পুরোপুরি সঠিক হয়নি।
অল্টম্যান বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, এখন পর্যন্ত এআইয়ের কারণে প্রাথমিক পর্যায়ের অনেক চাকরি হারিয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। এ বিষয়ে আমি ভুল প্রমাণিত হওয়ায় খুশি।’
তিনি আরো বলেন, ‘তখন আমি মনে করেছিলাম এটি একটি বাস্তব ঝুঁকি এবং এ নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। এখনো ভবিষ্যতে এমন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তবে বর্তমান বাস্তবতা আমার আগের ধারণার চেয়ে ভিন্ন।’
যদিও মঙ্গলবারের বক্তব্যে অল্টম্যান নির্দিষ্ট কোনো চাকরি হারানোর পরিসংখ্যান উল্লেখ করেননি, এর আগে তিনি এআইয়ের কারণে বিভিন্ন শিল্পখাতে বড় ধরনের কর্মসংস্থান সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন। ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এআইয়ের কারণে কর্মীসংখ্যা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।
অল্টম্যান বলেন, বিভিন্ন পেশায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও এখনো মানুষের উপস্থিতি ও মানবিক যোগাযোগের গুরুত্ব অটুট রয়েছে। তিনি জানান, একসময় তিনি নিজের স্ল্যাক ও ই-মেইলের উত্তর দিতে এআই ব্যবহার করতেন। সেখানে ‘দিস ইজ স্যাম’স এআই’ পরিচয়ে বার্তা পাঠানো হতো। কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন, মানুষ পারস্পরিক যোগাযোগকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়।
তার ভাষায়, ‘আমরা সত্যিই মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ও যোগাযোগকে গুরুত্ব দিই। আমার কাজের বড় একটি অংশ আমি এখনো এআইয়ের হাতে পুরোপুরি তুলে দিতে পারছি না।’
এ অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি মনে করছেন, অনেক চাকরিতে মানুষের যে সামাজিক ও মানবিক ভূমিকা রয়েছে, তা সহজে এআই দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে না।
অল্টম্যান বলেন, ‘এটি আমাকে বুঝিয়েছে যে ভবিষ্যতের চাকরির চিত্র আমাদের আগের ধারণার চেয়ে ভিন্ন হতে পারে। আমি মনে করি না, এআইয়ের কারণে এমন কোনো চাকরিবিপর্যয় হবে, যেটি নিয়ে প্রযুক্তিখাতের কিছু প্রতিষ্ঠান আশঙ্কা প্রকাশ করে থাকে।’