নতুন কম্পিউটারে যেসব অ্যাপ ও সফটওয়্যার থাকা জরুরি

ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনে নতুন ডেস্কটপ কম্পিউটার কেনার পর বেশকিছু কাজ থাকে। তবে অনেকের কাছে পুরনো ডিভাইস থেকে ফাইল সরিয়ে নেয়া ও মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টে লগইন করাই মুখ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু নতুন কম্পিউটার ভালোভাবে চালানোর জন্য বেশ কিছু অ্যাপ ও সফটওয়্যার ইনস্টল করাও জরুরি। গিজচায়না সূত্রে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা গেছে।

ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনে নতুন ডেস্কটপ কম্পিউটার কেনার পর বেশকিছু কাজ থাকে। তবে অনেকের কাছে পুরনো ডিভাইস থেকে ফাইল সরিয়ে নেয়া ও মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টে লগইন করাই মুখ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু নতুন কম্পিউটার ভালোভাবে চালানোর জন্য বেশ কিছু অ্যাপ ও সফটওয়্যার ইনস্টল করাও জরুরি। গিজচায়না সূত্রে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা গেছে।

ব্রাউজার নির্বাচন করা: কম্পিউটার কিনে সেটআপ দিয়ে চালুর পর প্রথম যে বিষয়টি সামনে আসে সেটি হলো ব্রাউজার নির্ধারণ। সময়ের সঙ্গে মাইক্রোসফটের এজ ব্রাউজারে বিভিন্ন পরিবর্তন এসেছে। তবে অন্যান্য অ্যাপের মতো ব্যবহারকারী চাইলে নিজ পছন্দের ইন্টারনেট ব্রাউজার নির্ধারণ করতে পারবেন। অনেকের কাছে এজের ডিজাইন, অ্যানিমেশন, কাজের প্রক্রিয়া ভালো নাও লাগতে পারে। এজন্য ব্যবহারকারী চাইলে গুগল ক্রোম, ফায়ারফক্স বা অপেরাকে ব্রাউজার হিসেবে নির্ধারণ করে ইনস্টল করতে পারবে। ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিয়ে চিন্তা থাকলে ব্রেভ ব্রাউজার, টর রয়েছেই। তবে টর সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য নয়।

ক্লাউড স্টোরেজ অ্যাপ ইনস্টল করা: ব্রাউজারের পর গুরুত্বের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ক্লাউড অ্যাপ। সাধারণত সবাই গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করে থাকে। কেননা এতে ১৫ জিবি ফ্রি স্টোরেজ দেয়া থাকে। এছাড়া গুগলের সব পরিষেবা এ স্টোরেজের অন্তর্ভুক্ত। এর মাধ্যমে সব ধরনের ডিভাইসে নির্দিষ্ট অ্যাপ রয়েছে। এতে সহজেই যেকোনো ফাইলে প্রবেশ করা যায়। ডেস্কটপে উইন্ডোজের সঙ্গে ওয়ানড্রাইভ ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহারের সুবিধাও দেয়া হয়। তবে চাইলে গুগল ড্রাইভের সঙ্গে অন্য ব্যাকআপ সলিউশন যুক্ত করা যায়। ওয়ানড্রাইভ ছাড়া ড্রপবক্স ব্যবহারের সুবিধাও রয়েছে।

মিউজিক স্ট্রিমিং অ্যাপ ইনস্টল করা: আগে গান শোনার জন্য এমপিথ্রি ফাইল ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে হতো। বর্তমানে এর জায়গা দখলে নিয়েছে স্ট্রিমিং সার্ভিস। ফলে আলাদা করে কোনো অ্যালবাম দোকান থেকে কিনতে হবে না। স্ট্রিমিং সার্ভিসের মাধ্যমে গানের বিশাল সংগ্রহশালায় সহজেই প্রবেশ করা যায়। উইন্ডোজের জন্য বিভিন্ন মিউজিক স্ট্রিমিং অ্যাপ থাকলেও বিশ্লেষকদের মতে স্পটিফাই সবচেয়ে বেশি কার্যকর। কেননা এতে ফ্রি প্লাটফর্ম ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। কিছু সময় বিজ্ঞাপন দেখার মাধ্যমে এখানে কোনো বাধা ছাড়াই লম্বা সময় গান শোনা যায়। গানের পাশাপাশি স্পটিফাইয়ে পডকাস্টের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে।

উইন্ডোজের জন্য ফ্রি অফিস স্যুট অ্যাপ: অফিস অ্যাপগুলোর জন্য টাকা দিতে না চাইলে কম্পিউটারে ফ্রি অফিস অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে। এর মাধ্যমে কোনো ডকুমেন্ট তৈরি, এডিটসহ সব কাজ করা যাবে। উইন্ডোজের জন্য এ রকম কার্যকর সফটওয়্যার হলো লিব্রেঅফিস। ফ্রি হলেও এতে বিভিন্ন ফিচার রয়েছে। মাইক্রোসফট অফিস ব্যবহার করলে এতে অভ্যস্ত হতে কিছুটা সময় লাগবে। আরেকটি অ্যাপ হচ্ছে ফ্রিঅফিস। এটি ব্যবহারেও কোনো ফি দিতে হয় না।

ভিডিও প্লেয়ার অ্যাপ ইনস্টল করা: অনলাইন স্ট্রিমিংয়ে বর্তমানে সবার আগ্রহ বেশি। তবে ডাউনলোড করা কোনো ভিডিও দেখার জন্য আলাদা সফটওয়্যার বা অ্যাপ প্রয়োজন হয়। এদিক থেকে উইন্ডোজের জন্য ভিএলসি মিডিয়া প্লেয়ার পরিচিত ও বহুল ব্যবহৃত। ভিএলসির পাশাপাশি কেএম প্লেয়ার, পট প্লেয়ারসহ বিভিন্ন অ্যাপ রয়েছে। তবে ভিএলসি বেশি সংখ্যক ফাইল ফরম্যাট সাপোর্ট করে থাকে।

ছবি সম্পাদনা অ্যাপ: ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক কাজে কোনো এক সময় কম্পিউটারে ছবি সম্পাদনার প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে সাধারণ ব্লার (ঘোলা) করা থেকে শুরু করে অ্যাডভান্স কাজও করার প্রয়োজন হয়। এদিক থেকে অ্যাডোবির ফটোশপকে প্রাধান্য দেয়া হলেও এটি ফ্রিতে ব্যবহারযোগ্য নয়। ফ্রি অ্যাপ হিসেবে পেইন্ট ব্যবহার সহজ। এর ব্যবহারও সহজ এবং অনেক ব্যাসিক ফিচার রয়েছে। পেইন্ট ছাড়াও জিআইএমপি বা গিম্প নামের আরো একটি ফটো এডিটিং সফটওয়্যার রয়েছে। এতেও সম্পাদনায় সহায়ক বিভিন্ন ফিচার রয়েছে।

আরও