বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স তাদের নবম স্টারশিপ পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের মাত্র ৩০ মিনিট পর রকেটটির নিয়ন্ত্রণ হারায়। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, রকেটটির ভেতরে জ্বালানি লিকের কারণে মহাকাশে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ঘুরতে শুরু করে স্টারশিপ এবং সে কারণেই বুধবার নির্ধারিত সময়ের আগেই এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসে। পরে এটি বিস্ফোরিত হয়।
স্পেসএক্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, রকেটটির 'র্যাপিড আনস্কেজুয়েলড ডিসঅ্যাসেম্বলি' অর্থাৎ অনিয়ন্ত্রিতভাবে ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘এ ধরনের পরীক্ষার সাফল্য নির্ভর করে আমরা কী শিখছি তার ওপর। আজকের এই পরীক্ষা স্টারশিপের নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।‘
৪০৩ ফুট (১২৩ মিটার) দৈর্ঘ্যের এই রকেটটি অতীতে ব্যর্থ হওয়া উৎক্ষেপণগুলোর তুলনায় অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পেরেছিল। তবে এটি ছিল চলতি বছরের দ্বিতীয় ব্যর্থ উৎক্ষেপণ; এর আগে ৬ মার্চও একটি স্টারশিপ উৎক্ষেপণের পরপরই বিস্ফোরিত হয়।
রকেট ধ্বংসের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সাময়িকভাবে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ চারটি ফ্লোরিডার বিমানবন্দরে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়। রকেটের ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
স্টারশিপ দিয়ে ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপন এবং চাঁদে আবার মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে কাজ করছে স্পেসএক্স ও নাসা। তবে ঘন ঘন ব্যর্থতার কারণে দক্ষিণ যুক্তরাষ্ট্র ও ক্যারিবীয় এলাকায় বেশ কয়েকবার ধ্বংসাবশেষ পড়ার ঘটনা ঘটেছে।
এফএএ সম্প্রতি স্পেসএক্সের বার্ষিক উৎক্ষেপণ সংখ্যা ৫ থেকে বাড়িয়ে ২৫ করেছে এবং পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে। তবে এর বিরুদ্ধে আপত্তি তুলেছে কিছু সংরক্ষণবাদী সংগঠন।
এদিকে ইলন মাস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এফএএর নজরদারি নিয়ে স্বার্থের দ্বন্দ্ব সংক্রান্ত প্রশ্নও উঠেছে। এর আগে তার স্টারলিঙ্ক প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন দপ্তরের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগও জমা পড়ে।