দেশীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বৈচিত্র্যময় পণ্য তুলে ধরতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) উদ্যোগে পাঁচ দিনব্যাপী ‘বিসিক শরৎ মেলা-২০২৬’ শুরু হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় তেজগাঁওয়ে বিসিক ভবনে মেলার উদ্বোধন করেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
দেশীয় ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের তৈরি মানসম্পন্ন পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৭ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত এ মেলা চলবে। মেলার উদ্বোধনের পর বিসিকের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্য নিয়ে প্রকাশিত ‘কারুপণ্য’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশের কারিগরদের জন্মগত মেধাকে কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তারা নজরকাড়া পণ্য তৈরি করছেন। কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আরো ভালো করার সুযোগ তৈরি করতে বিসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। শুধু পণ্য তৈরি করলেই হবে না, সেগুলো মানুষের কাছে পৌঁছাতে প্রচার ও বিপণনের সুযোগও বাড়াতে হবে। এতে কুটির শিল্পের বাজার আরো বড় হবে।
দেশীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ পণ্যের আধুনিক চাহিদার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জামালপুরের নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, মাটির তৈজসপত্র ও পোড়ামাটির কাজের মতো পণ্যের চাহিদা এখনো রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের পাশাপাশি মানুষ আবার প্রকৃতি ও ঐতিহ্যবাহী সুন্দর জীবনযাত্রার দিকে ফিরছে। এসব পণ্য সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরিতেও ভূমিকা রাখছে।
বিশেষ করে সমাজের পিছিয়ে থাকা নারীরা ঘরে বসে এসব কাজ করে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন এবং পরিবার ও সমাজে সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, বিসিকের মাধ্যমে দেশের ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত এগিয়ে যাচ্ছে। উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি তাদের পণ্যের প্রচারে বিসিক বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। এর মধ্যে মেলাও রয়েছে। উদ্যোক্তাদের পাশে থেকে পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণের কাজ অব্যাহত রাখবে বিসিক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণে প্রতি মাসে মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে বিসিক। উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে বাজার সম্প্রসারণ পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে।
বর্তমান সরকারের সৃজনশীল অর্থনীতির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিসিক কাজ করছে। পাশাপাশি সরকারের ‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য’ উদ্যোগ বাস্তবায়নেও বিসিক কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন, উদ্যোক্তাদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং ভোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের সরাসরি যোগাযোগ তৈরির লক্ষ্যেও মেলাটি আয়োজন করা হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্তারা তাঁদের তৈরি নান্দনিক, মানসম্পন্ন ও বৈচিত্র্যময় পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করছেন।
মেলায় মোট ৬০টি স্টল রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি বস্ত্রজাত, আটটি পাটজাত, ছয়টি গহনা, পাঁচটি খাদ্য ও খাদ্যজাত, তিনটি চামড়াজাত, তিনটি মধু, চারটি গৃহসজ্জা এবং দুটি বাঁশ ও বেতজাত পণ্যের স্টল।
এছাড়া সাতটি স্টলে জামদানি, শতরঞ্জি, শীতলপাটি, নকশিকাঁথা ও রাজশাহী সিল্কসহ ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের উদ্যোক্তারা অংশ নিয়েছেন।
মেলায় বিসিক নকশা কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্তারাও অংশ নিয়েছেন। দর্শনার্থীদের বিসিকের কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে বিসিক তথ্য কেন্দ্র ও নকশা কেন্দ্রের স্টলও রাখা হয়েছে।
—বিজ্ঞপ্তি