ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ হিউম্যান রিসোর্স অর্গানাইজেশনসের (এফবিএইচআরও) যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো 'প্রি-বাজেট রাউন্ডটেবিল ডিসকাশন' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত এ সভায় দেশের প্রখ্যাত নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, মানবসম্পদ পেশাজীবী এবং শিল্পখাতের নেতারা অংশগ্রহণ করেন এবং আসন্ন জাতীয় বাজেট নিয়ে মতামত ও সুপারিশ প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি তার বক্তব্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যতমুখী বাজেট প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা ও উদ্ভাবনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এবং এফবিএইচআরও’র সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী। তিনি তার বক্তব্যে অর্থনীতি ও কর্মবাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতি প্রণয়নে একাডেমিয়া, শিল্পখাত ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এফবিএইচআরও এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. মোশাররফ হোসেন। তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসন্ন বাজেটের জন্য বিভিন্ন প্রত্যাশা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বোর্ড সদস্য আবুল কাসেম হায়দার, এফবিএইচআরও’র মহাসচিব ও এসএলএসডি’র প্রেসিডেন্ট ও সিইও প্রফেসর মঈনউদ্দিন চৌধুরী, মাইজবস-এর সিইও ও এফবিএইচআরও’র পরিচালক মো. কামরুজ্জামান সবুজ, সিএসডি একাডেমির সিইও ও এফবিএইচআরও’র পরিচালক এম. শফাক হোসেন, ইউএন উইমেন বাংলাদেশ-এর ন্যাশনাল কনসালটেন্ট নিলুফার আহমেদ করিম এবং ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. আবুল বাশার খান। অনুষ্ঠানটি সঞ্ছালনা করেছেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের এসোসিয়েট প্রফেসর, এমবিএ-এর পরিচালক এবং এফবিএইচআরও এর পরিচালক তাসনুভা রহমান। এছাড়া ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অংশগ্রহণকারীরা মানবসম্পদ উন্নয়ন, যুব দক্ষতা বৃদ্ধি, নারীর কর্মসংস্থান, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাজেটে অধিক বরাদ্দের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশকে দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় বাজেটে মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার কোনো বিকল্প নেই বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের গঠনমূলক সংলাপ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন, যা প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।-বিজ্ঞপ্তি