বিলাসী চাহিদায় পরিণত হচ্ছে শিশুর খেলাধুলার অধিকার

বিশ্বের প্রায় ১৬ কোটি শিশু খেলাধুলার বদলে শ্রমে নিযুক্ত। তাদের শৈশব কাটছে কল-কারখানা, খামার বা ঘরোয়া কাজের বেড়াজালে। যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও বাস্তুচ্যুতির ফলে লাখ লাখ শিশু প্রতিনিয়ত তাদের খেলার অধিকার হারাচ্ছে।

খেলাধুলা শিশুর জন্মগত অধিকার। তবে বর্তমানে খেলাধুলা এক বিলাসী চাহিদায় পরিণত হচ্ছে। শিশুদের হাতে নেই সময়, নেই পর্যাপ্ত খেলার জায়গা। সে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশে পালিত হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল ডে অব প্লে বা আন্তর্জাতিক খেলা দিবস। খেলা শুধু আনন্দের উৎস নয়, এটি শিশুর মানসিক, সামাজিক ও শারীরিক বিকাশের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, ৭১ শতাংশ শিশু মনে করে খেলা তাদের খুশি রাখে। আর ৫৮ শতাংশ শিশু জানিয়েছে, খেলার মাধ্যমে তারা বন্ধু তৈরি করতে ও সময় উপভোগ করতে পারে।

তবে বর্তমান বাস্তবতা অনেকটাই আশঙ্কাজনক। বিশ্বের প্রায় ১৬ কোটি শিশু খেলাধুলার বদলে শ্রমে নিযুক্ত। তাদের শৈশব কাটছে কল-কারখানা, খামার বা ঘরোয়া কাজের বেড়াজালে। যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও বাস্তুচ্যুতির ফলে লাখ লাখ শিশু প্রতিনিয়ত তাদের খেলার অধিকার হারাচ্ছে।

শুধু শ্রম নয়, শহুরে জীবনের চাপেও খেলার পরিসর দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। শহরের শিশুদের মধ্যে প্রতি চারজনে মাত্র একজন নিয়মিত খেলার সুযোগ বা সময় পায়। অধিকাংশ বাবা-মা-ই বাইরে খেলাধুলাকে সময় নষ্ট বা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন। ফলে শিশুদের বড় অংশ প্রযুক্তি বা পড়াশোনার চাপে ঘরে বন্দি হয়ে পড়ছে।

শিশুদের খেলার সঙ্গী হয়ে উঠছে স্মার্টফোন। আর এতে তারা ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, ইমো, ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্ত হয়ে পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই ‘অসীম ও নিয়ন্ত্রণহীন বিস্তার’ শিশু ও কিশোরদের মধ্যে বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন মানসিক স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করছে বলে জানিয়েছে শিশু অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা কিডস রাইটস। সংস্থাটির মতে, বিশ্বজুড়ে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রতি সাতজনের মধ্যে একজন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। এ বয়সী শিশু ও কিশোরদের মধ্যে আত্মহত্যার গড় হার প্রতি লাখে ছয়জন।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি ও সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে কিডস রাইটস। পদক্ষেপের অংশ হিসেবে শিশুবান্ধব পার্ক তৈরি, স্কুলে নির্ধারিত খেলার সময় চালু, এমনকি শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খেলার পরিবেশ উন্নয়নে সরকারি পরিকল্পনাও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও