‘খরচ করার পর যা অবশিষ্ট থাকে, তা সঞ্চয় করো না; বরং সঞ্চয়ের পর যা অবশিষ্ট থাকে, তা’ই খরচ করো’ – বিনিয়োগ জগতের কিংবদন্তি ওয়ারেন বাফেটের এ উক্তি আজও ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীর কাছে সঞ্চয় মূলত ভবিষ্যতের বিষয়। ভালো চাকরি হলে ও আয় বাড়লে তখন সঞ্চয় করা যাবে এমন ধারণাই অনেকের মধ্যেই কাজ করে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আর্থিক সচ্ছলতা নয়, বরং নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাসই একসময় আর্থিক নিরাপত্তার ভিত্তি তৈরি করে। এ অভ্যাস কখনই কেবল আয়ের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না, বরং গড়ে ওঠে পরিকল্পনা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং ধারাবাহিকতার মাধ্যমে। প্রতি মাসে অল্প কিছু অর্থ নিয়মিত সঞ্চয় করাও সময়ের সাথে সাথে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি ভবিষ্যতের কোনো প্রয়োজন কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলাতেও সাহায্য করে।
বর্তমান প্রজন্মের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় ভিন্ন। কেউ উচ্চ-শিক্ষার জন্য বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তুতি নিতে চান, কেউ শখের দামি গেজেট কিনতে চান, কেউ ছোট ব্যবসা শুরু করতে চান তো কেউবা আবার নিজের প্রথম বাইক বা গাড়ি কিনতে চান। তবে এ স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের জন্য শুধু ইচ্ছাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সুপরিকল্পিত আর্থিক প্রস্তুতি।
বিষয়টি এমন নয় যে কারো সঞ্চয়ের ইচ্ছা নেই, বরং বাস্তবতা উল্টো। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পলিসি, নির্দিষ্ট অঙ্কের কিস্তি, কাগজপত্রের জটিলতা বা জটিল শর্তাবলী ইত্যাদি সেই ইচ্ছাকে অভ্যাসে পরিণত হতে বাধা সৃষ্টি করে। এই সমস্যাটি বিবেচনা করে সম্প্রতি একটি চমৎকার উদ্যোগ নিয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি। বাংলাদেশের তরুণদের আর্থিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে আইপিডিসি নিয়ে এসেছে ‘ইচ্ছে ডিপিএস’, যা নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক একটি সেবা।
‘ইচ্ছে ডিপিএস’ হলো তরুণদের মতোই স্বাধীন। গ্রাহকরা ডিপিএস চালুর পর সুবিধা মতো মাসের যে কোনো দিন যে কোনো পরিমাণ কিস্তি (শর্ত প্রযোজ্য) জমা দিতে পারবেন। আইপিডিসি’র বিশ্বাস, দুর্দান্ত এই সুবিধা তরুণ প্রজন্মকে অর্থ সঞ্চয়ে আরও আগ্রহী করে তুলবে। কারণ সঞ্চয় কেবল অর্থ জমা করার বিষয় নয়; এটি দায়িত্বশীল আর্থিক আচরণের ভিত্তিও গড়ে তোলে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আইপিডিসি’র ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। এছাড়া, ‘ইজি’ অ্যাপের মাধ্যমে আরও সহজে ‘ইচ্ছে ডিপিএস’সহ যে কোনো সঞ্চয় করা যাবে।
আর্থিক সফলতার শুরুটা বেশি বেতন দিয়ে নয়, বরং নিয়মিত সঞ্চয়ের মানসিকতা ও সিদ্ধান্ত থেকে হয়। এমন অভ্যাস ও চর্চা গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সবারই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সঞ্চয়কে যদি ভবিষ্যতের প্রয়োজন বা সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ হিসেবে দেখা যায়, তবে ব্যক্তিগত ও জাতীয় উভয় পর্যায়েই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বুঝতে হবে যে, প্রতি মাসের ছোট ছোট সঞ্চয়ের ওপর ভর করেই জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্নগুলো গড়ে উঠতে পারে।