আইটু বাংলাদেশের উদ্বোধন, গড়ে উঠছে স্মার্ট সুইং ইকোসিস্টেম

ঢাকায় গতকাল সোমবার আয়োজিত হয়ে গেল 'স্মার্ট মেন্যুফেকচারিং ফিউচার- এআই লিডস অ্যাপারেল ট্রান্সফরমেশন' শীর্ষক 'আইটু বাংলাদেশ'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এতে বিকেএমইএ ও বিজিএমইএর প্রতিনিধিসহ দেশের ২০০টিরও বেশি পোশাক কারখানার নেতা এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ আয়োজনে একাধিক অত্যাধুনিক প্রযুক্তিপণ্য, যার মধ্যে ছিল এআই টেনপ্লাস এআই হ্যাংগিং সিস্টেমের উন্মোচন করা হয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক রূপান্তরের নতুন সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে জ্যাক টেকনোলজির গ্লোবাল মার্কেটিং প্রেসিডেন্ট স্টিভ বলেন, বাংলাদেশের বাজার আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বাজার এবং এখানে স্মার্ট ইকুইপমেন্টের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এ উদ্যোগের মূল প্রতিপাদ্য 'প্রতিস্থাপন নয়, ক্ষমতায়ন'। অর্থাৎ স্থানীয় সেবা ও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কারখানাগুলোকে দক্ষতা বৃদ্ধি ও ব্যয় হ্রাসে সহায়তা করা, যাতে মানবসম্পদের সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রেখে শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক শক্তি বাড়ানো যায়।

আইটু টেকনোলজির জেনারেল ম্যানেজার লু বিশ্বের প্রথম এআই সুইং মেশিন সমন্বিত এআই টেনপ্লাস এআই হ্যাংগিং সিস্টেম উপস্থাপন করেন। এ সিস্টেমে রয়েছে এআই ভিশন প্রযুক্তি, সম্পূর্ণ ডিজিটাল ফ্লেক্সিবল ফিডিং প্রযুক্তি এবং স্মার্ট হ্যাঙ্গিং সিস্টেম। এটি ডাইনামিক লাইন ব্যালান্সিং এবং একাধিক স্টাইলের মিশ্র উৎপাদন সক্ষম করে, যার ফলে উৎপাদন লাইনের দক্ষতা প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি এটি উৎপাদন লাইনের সমস্যাগুলো দ্রুত শনাক্ত ও সমাধানে সহায়তা করে এবং অর্ডার ডেলিভারির সময় কমিয়ে আনে। ফলে বড় ও ছোট উভয় ধরনের অর্ডারে দক্ষতা ও গুণগত মান বজায় রাখা সহজ হয়।

বুলমারের সিএমও কেভিন অনুষ্ঠানে 'এস-নাইনটি প্রো স্মার্ট কাটিং সল্যুশন' উন্মোচন করেন। চীন-জার্মান যৌথ গবেষণার মাধ্যমে তৈরি এ প্রযুক্তিতে রয়েছে ২০০টিরও বেশি পেটেন্ট। এতে ব্যবহৃত হয়েছে এআই সফটওয়্যার, আইস ব্লেড কাটিং টেকনোলজি এবং সাইক্লোন ভেক্যুম টেকনোলজি। সম্পূর্ণ স্মার্ট কাটিং রুম সল্যুশনের মাধ্যমে এটি কাপড় ও শ্রম ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমায় এবং কাটিংয়ের নির্ভুলতা ও গতি বৃদ্ধি করে।

জ্যাক টেকনোলজি বাংলাদেশ শাখার জেনারেল ম্যানেজার কার্টার ইন্টালিজেন্ট ওয়ারহাউসিং সল্যুশন উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, এজিভি, সিটিইউসহ বিভিন্ন স্মার্ট ডিভাইস এবং সিডাব্লিউএমএস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে কাপড়, কাট-পিস, অ্যাকসেসরিজ থেকে শুরু করে ফিনিশড গুডস পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকে ডিজিটালভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। এটি প্রচলিত গুদাম ব্যবস্থাপনার কম দক্ষতা, ভুলের ঝুঁকি এবং উচ্চ শ্রম ব্যয়ের মতো সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান দেয়। এরই মধ্যে একাধিক দেশে এ প্রযুক্তির সফল ব্যবহার হয়েছে।

অনুষ্ঠানে শিল্পখাতের সংগঠন প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড মালিক এবং অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উন্নয়নে আইটুর অবদানকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেন। মানবযন্ত্র সহযোগিতাভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং শিল্প উন্নয়নমুখী প্রযুক্তির প্রশংসা করেন তারা।-বিজ্ঞপ্তি

আরও