ওরেগনে আগুনে পুড়ছে বিশ্বের অন্যতম লম্বা গাছ

হার্পারের মতে, আপাতত পুরো গাছটি পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেই।

এই আগুনের ফলে গাছটি বৈশ্বিক উচ্চতার র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে পড়তে পারে বলে মনে করেন হার্পার। তিনি বলেন, ‘আগুন এবং কিছু অংশ ভেঙে পড়ে প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আমি জানি না এর পর এটি কোথায় থাকবে, তবে এটি এখনো একটি বিশাল গাছ।‘

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা গাছগুলোর একটিতে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে। খবর এপি।

৪৫০ বছরের পুরনো এই ডোয়ার্নার ফির গাছটির উচ্চতা ৩২৫ ফুট (৯৯ মিটার) এর বেশি ছিল। এটি গত শনিবার থেকে ওরেগনের কোস কাউন্টির কোস্ট রেঞ্জে আগুনে পুড়ছে।

মঙ্গলবার একটি ইনফ্রারেড ড্রোন ফ্লাইটে গাছের উপরের অংশে কোনো সক্রিয় শিখা বা ধোঁয়া দেখা যায়নি। তবে ২৮০ ফুট উচ্চতায় গাছের কাণ্ডের একটি গর্তের মধ্যে তাপ শনাক্ত করা গেছে বলে জানিয়েছেন ফেডারেল ব্যুরো অব ল্যান্ড ম্যানেজমেন্টের মুখপাত্র মেগান হার্পার।

তিনি বলেন, 'গাছের পাশে এসে গর্তে পানি ঢালার উপায় খুঁজে বের করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যার মধ্যে আছে— স্ক্যাফোল্ডিং তৈরি করা, অথবা আরও ভালো অবস্থান পেতে পাশের গাছে আরোহণ করা, বা এটি নিজে থেকে জ্বলতে দেয়া এবং সেটি পুনরায় জ্বলে ওঠে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা।'

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং প্রয়োজনে পানি ফেলার জন্য একটি হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কোস ফরেস্ট প্রোটেক্টিভ অ্যাসোসিয়েশন সোমবার জানায়, হেলিকপ্টার থেকে পানি ফেলার কারণে গাছের উপরের অংশের আগুনের তীব্রতা কমেছে। তারা আরও জানায়, গাছের গোড়ায় পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং আগুন যাতে আর না ছড়ায় সে জন্য চারপাশে সুরক্ষা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে।

এই আগুনের ফলে গাছটি বৈশ্বিক উচ্চতার র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে পড়তে পারে বলে মনে করেন হার্পার। তিনি বলেন, ‘আগুন এবং কিছু অংশ ভেঙে পড়ে প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আমি জানি না এর পর এটি কোথায় থাকবে, তবে এটি এখনো একটি বিশাল গাছ।‘

ফেডারেল ব্যুরো অব ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানায়, আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা বজ্রপাতকে আগুনের কারণ হিসাবে বাতিল করেছেন। এলাকাটিতে একমাত্র ওই গাছেই আগুন জ্বলছে এবং আগুনের কারণ এখনো তদন্তাধীন।

হার্পারের মতে, আপাতত পুরো গাছটি পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেই। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে, এটি কোনো বিপদ নয়। গাছটি এত বড় এবং এর ভর এত বেশি যে এটি পুরোপুরি পুড়তে অনেক সময় লাগবে।‘

এদিকে, দমকলকর্মীসহ যারা এই আগুন নেভানোর কাজে জড়িত আছেন, তারা ঐতিহাসিক এই গাছটিকে বাঁচাতে সবকিছু করতে চান বলে জানান হার্পার। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় মানুষ এই গাছটিকে খুব ভালোবাসে। এর রয়েছে বিস্তৃত ইতিহাস এবং আমরা এটিকে হারাতে চাই না।‘

আরও