অনন্য সুইস শিক্ষা ব্যবস্থার গল্প

ঘড়ির কাঁটার মতোই নিখুঁত সুইজারল্যান্ডের অর্থনীতি যতটা বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক, তার পেছনের চালিকাশক্তিও ততটাই বিস্ময়কর: একটি দক্ষ ও কর্মঠ জনশক্তি।

ঘড়ির কাঁটার মতোই নিখুঁত সুইজারল্যান্ডের অর্থনীতি যতটা বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক, তার পেছনের চালিকাশক্তিও ততটাই বিস্ময়কর: একটি দক্ষ ও কর্মঠ জনশক্তি। কিন্তু প্রশ্ন হলো এ অসাধারণ মানবসম্পদ তারা গড়ে তোলে কীভাবে? সুইজারল্যান্ডে দক্ষতা অর্জন শুরু হয় অনেক আগেই। মাধ্যমিক স্তরের পর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে না হেঁটে পেশাভিত্তিক শিক্ষার দিকে এগিয়ে যায়। ১৫ বছর বয়স থেকে শুরু হওয়া এ ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (ভিইটি) প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও তাত্ত্বিক জ্ঞানের এক অনন্য সংমিশ্রণ দেয়।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষানবিশ—একসঙ্গে দুটি পরিচয়

ভিইটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো দ্বৈত ব্যবস্থা। যেখানে শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে তিন-চারদিন সরাসরি কোনো কোম্পানিতে কাজ করে এবং বাকি সময়টা ভোকেশনাল স্কুলে যায়। কাজের মাঠেই শেখা, আবার ক্লাসরুমে গিয়ে তাত্ত্বিক দক্ষতা অর্জন—এ মিশ্র পদ্ধতি একদিকে যেমন বাস্তব অভিজ্ঞতা দেয়, তেমনি চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলে। আর হ্যাঁ, এ সময় শিক্ষার্থীরা বেতনও পায়।

বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে আনুমানিক ২৫০টির বেশি স্বীকৃত পেশায় এ কোর্স করানো হয়। সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাণিজ্যিক কর্মী, স্বাস্থ্য সহকারী, খুচরা বিক্রয় বিশেষজ্ঞ, সামাজিক সেবা কর্মী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ।

পেশাভেদে এ কোর্সের মেয়াদ দুই থেকে চার বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। কোর্স শেষে মেলে ‘ফেডারেল ভিইটি ডিপ্লোমা’ বা ‘ফেডারেল ভিইটি সার্টিফিকেট’, যা গোটা সুইজারল্যান্ডজুড়েই স্বীকৃত।

যারা চান আরো উচ্চতর পড়াশোনার সুযোগ, তাদের জন্য রয়েছে ‘ফেডারেল ভোকেশনাল ব্যাচেলরিয়েট’। এটি মূল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি একাডেমিক পাঠ্যসূচি যুক্ত করে, যা ভবিষ্যতে অ্যাপ্লায়েড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির পথ খুলে দেয়। তবে এতে ভর্তির জন্য লাগে ভালো ফলাফল, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া ও নিয়োগকর্তার সম্মতি।

বেকার নয়, যোগ্য

সুইস ভিইটি সিস্টেমের সবচেয়ে বড় গুণ হলো—এটি চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে তৈরি। পেশাভিত্তিক দক্ষতা গড়ে তোলার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়, যাতে তারা সহজেই কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে। ফলে সুইজারল্যান্ডে যুব বেকারত্বের হার বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম।

এ ব্যবস্থার আরেকটি বিশেষ দিক হলো এর ‘পারমিয়াবিলিটি’ অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা চাইলে এক পথ ছেড়ে আরেক পথ নিতে পারে, চাইলে পেশা পরিবর্তন করতেও পারে। এক্ষেত্রে সামাজিক বাধা বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নেই বললেই চলে। (ইংরেজি থেকে অনূদিত)

আরও