শহরকে সম্প্রসারণে নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা জরুরি

প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন

ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিপিডিএল

ক্রমবর্ধমান এ দেশে শহরকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। স্যাটেলাইট সিটির মাধ্যমে চট্টগ্রামকে এখনো বাইরে নিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে।

এ বিষয়টি সবাই বুঝলেও বাস্তবে তা পরিকল্পনার মধ্যেই আটকে থাকে। প্রশ্ন হলো, শহরের বাইরে নতুন গড়ে ওঠা এলাকায় মানুষ কেন যাবে? সেখানে বসবাস আকর্ষণীয় করতে হলে অবশ্যই কিছু প্রণোদনা দিতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন সুবিধা দিয়েই শহর সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নতুন এলাকায় ধীরে ধীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে ওঠে।

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর ওপারে আনোয়ারায় স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলার সম্ভাবনা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা ও নীতিগত সমর্থনের অভাবে কেন্দ্রীয়ভাবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে না। চট্টগ্রাম শহরে জমির মূল্য অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ফ্ল্যাট সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে আমরা শহরের কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে অপেক্ষাকৃত কম দামের জমিতে পরিকল্পিত নগরায়ণ গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।

আবাসন খাতে ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৮ সালে ১ হাজার ২০০ বর্গফুট ফ্ল্যাটের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্পসুদের একটি বড় তহবিল গঠন করেছিল, যা রিয়েল এস্টেট খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এ ধরনের উদ্যোগ আবারো নেয়া যেতে পারে।

নতুন শহর গড়ে তুলতে সরকারের সক্রিয় সহায়তা অপরিহার্য। শহরের বাইরে কৃষির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ খাসজমি রয়েছে, যেগুলো পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করলে আবাসনের জন্য উপযোগী করা সম্ভব। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে জমির বাজারদর ও মৌজা মূল্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য দেখা যায়। এসব বিষয় কাঠামোবদ্ধভাবে সমাধান করার জন্য সমন্বিত নীতিমালা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কার্যকর অবকাঠামো গঠন নিশ্চিত হলে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে শহরের বাইরে যেতে আগ্রহী হবে।

আরও