বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, যা গত দুই দশকে উচ্চশিক্ষার বড় অংশ বহন করছে, এখনো ‘মানবসম্পদ বিনিয়োগ’ নয়, বরং ‘সেবা খাত’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১০৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এ খাতে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি শিক্ষক এবং ১২ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত—অর্থাৎ সরাসরি প্রায় ২৮ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এ খাত একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক কার্যক্রমও গড়ে উঠছে, যেখান থেকে সরকার কর, ভ্যাটসহ বিভিন্ন উৎসে রাজস্ব পেয়ে থাকে।
তবে বাস্তবতা হলো শিক্ষাকে এখনো অনেকাংশে একটি ‘সেবা খাত’ হিসেবে বিবেচনা করে সাধারণ কর ও ভ্যাট কাঠামো প্রয়োগ করা হচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব সরঞ্জাম, প্রযুক্তি, সফটওয়্যার, অবকাঠামোসহ নানা ক্ষেত্রে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা ও রিপোর্টিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও এ খাতের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শিক্ষা খাতকে ‘মানবসম্পদ উন্নয়ন বিনিয়োগ খাত’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া অত্যন্ত জরুরি।
শিক্ষা ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট সরঞ্জামে কর–ভ্যাটে যৌক্তিক ছাড়, নীতিমালার সরলীকরণ এবং সহায়ক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে শুধু নিয়ন্ত্রক নয়, বরং সহায়ক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে, যাতে গবেষণা, উদ্ভাবন, শিল্প–একাডেমিয়া সহযোগিতা এবং দক্ষতা উন্নয়ন আরো জোরদার হয়।
এছাড়া কর্মসংস্থান, গবেষণা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে এগিয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য প্রণোদনা চালু করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দক্ষ মানবসম্পদ ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে। তাহলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, বাড়বে উৎপাদনশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্বও আরো টেকসই ও শক্তিশালী হবে। এখনই সময় শিক্ষাকে সেবা নয়, বিনিয়োগ হিসেবে দেখার।