বর্তমানে দেশে ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের উচ্চ শিক্ষার্থীদের প্রায় চার লাখ অধ্যয়ন করছে, যা এ খাতের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ইউনেস্কো অন্তত মোট বাজেটের ২০ শতাংশ বা জিডিপির প্রায় ৪-৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের সুপারিশ করে থাকে। সে তুলনায় বাংলাদেশের বর্তমান বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কম, যা দীর্ঘমেয়াদে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দিতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বর্তমান সরকার তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারে জানিয়েছে, শিক্ষা খাতে জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে। এ ধরনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলে তা নিঃসন্দেহে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বর্তমানে প্রায় সম্পূর্ণভাবে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি-নির্ভর। ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কারণে শিক্ষা ব্যয় বেড়েই চলেছে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাসামগ্রী, ক্যাম্পাস নির্মাণ বা বর্ধিত করণে প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও যন্ত্রপাতির ওপর আরোপিত কর/ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, সহজ শর্তে শিক্ষা ঋণ চালু এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি বৃত্তির সুযোগ সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়া গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে দেশের মোট গবেষণা ব্যয় জিডিপির খুবই সামান্য অংশ, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক কম।
নীতিগত স্থিতিশীলতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ঘনঘন নীতিমালা পরিবর্তন, জটিল অনুমোদন প্রক্রিয়া ও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই একটি পূর্বানুমানযোগ্য, সহায়ক ও বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন সময়ের দাবি।
সবশেষে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দেয়া অত্যন্ত জরুরি।