এটি তারল্য সংকট সৃষ্টি করছে, আমানতকারীদের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে এবং নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে। পাশাপাশি তহবিল সংগ্রহের উচ্চ ব্যয়ের কারণে এনবিএফআইগুলোকে তুলনামূলক বেশি সুদে ঋণ দিতে হয়, যা ব্যাংক খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তাদের পিছিয়ে রাখছে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য শক্তিশালী বন্ড মার্কেটের অভাব, করপোরেট গভর্ন্যান্সের দুর্বলতা এবং কিছু প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম খাতটির সামগ্রিক আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এছাড়া তারল্য সংকট, আমানত প্রবাহে স্থবিরতা, জটিল নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও তুলনামূলক উচ্চ করহার খাতটির স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এ খাতের সংকট সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত ও কার্যকর নীতিগত উদ্যোগ। প্রথমত, লক্ষ্যভিত্তিক ও কাঠামোবদ্ধ তারল্য সহায়তা চালু করা প্রয়োজন, যা শুধু আমানত ফেরত প্রদানে সীমাবদ্ধ না থেকে উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগে ব্যবহৃত হবে। দ্বিতীয়ত, খেলাপি ঋণ কমাতে কার্যকর ঋণ পুনর্গঠন এবং দ্রুত পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে ক্রেডিট অ্যাপ্রেইজাল ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা বাড়ানো জরুরি। তৃতীয়ত, ব্যাংক ও এনবিএফআইয়ের মধ্যে সমতাভিত্তিক নীতিমালা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। চতুর্থত, তহবিল ব্যয় কমাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস সম্প্রসারণ করতে হবে।
এছাড়া এ খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি নিশ্চিতে লক্ষ্যভিত্তিক নীতিগত সংস্কার অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের সম্ভাব্য নগদ প্রবাহ বিবেচনায় নিয়ে পুনঃতফসিলের মেয়াদ নির্ধারণ এবং কাঠামোগত কিস্তি পদ্ধতি চালুর সুযোগ রাখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে মূলধন পর্যাপ্ততার হার ও ঋণ শ্রেণীকরণের হার কঠোরভাবে প্রয়োগের ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে খাতভিত্তিক দক্ষতা, পূর্ববর্তী পারফরম্যান্স বিবেচনায় নীতিগত কিছু শিথিলতা আনা হলে অধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠান এ সুবিধার আওতায় আসতে পারবে। পাশাপাশি এসএমই, নারী উদ্যোক্তা ও সবুজ অর্থায়ন খাতে রিফাইন্যান্স স্কিমের পরিধি সম্প্রসারণ করা হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত হবে এবং রাজস্ব বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।