বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে আস্থা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুজ্জীবিত করার উপায়

বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং দীর্ঘদিন ধরে মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। যে দেশে বেশির ভাগ মানুষ ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করে, সেখানে ইসলামী নিয়ম মেনে কাজ করে এমন ব্যাংকগুলো অর্থ সঞ্চয়ের জন্য একটি বিশ্বস্ত স্থান।

বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং দীর্ঘদিন ধরে মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। যে দেশে বেশির ভাগ মানুষ ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করে, সেখানে ইসলামী নিয়ম মেনে কাজ করে এমন ব্যাংকগুলো অর্থ সঞ্চয়ের জন্য একটি বিশ্বস্ত স্থান। বিশেষ করে গ্রামীণ পরিবারগুলো প্রায়ই এ ব্যাংকগুলোর দিকে ঝুঁকেছে, কারণ এটি তাদের সঞ্চয় সংরক্ষণে একটি নিরাপদ ও সৎ উপায় প্রদান করে। বছরের পর বছর ধরে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এবং অন্যান্য ইসলামী ব্যাংক ইসলামী নিয়ম অনুসরণ করার ফলে একটি শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করেছে। ইসলামী ব্যাংকগুলো সুদ নেয় না, বরং তাদের গ্রাহকের সঙ্গে লাভ-ক্ষতি ভাগ করে নিয়ে থাকে। ফলে ইসলামী ব্যাংকে অর্থ সংরক্ষণে মানুষ অধিক নিরাপত্তা বোধ করে।

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংকগুলোর কর্মক্ষমতা আগের রেকর্ড ধরে রাখতে সক্ষম হয়নি। কারণ নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনায় অসচেতনতা, সেকেলে নিয়ম এবং সঠিক তত্ত্বাবধানের অভাবের মতো নানা সমস্যা একসময় মানুষের বিশ্বাসকে আঘাত করেছে। এসব হতাশাজনক ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল পূর্ববর্তী সরকারের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও এস আলম গ্রুপের প্রভাব। তাদের কর্মকাণ্ড ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও তাদের আর্থিক পরিস্থিতির অনেক ক্ষতি করেছে, ফলে বৃহত্তর অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে। অনেক আমানতকারী তাদের আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন, সেই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও গ্রামীণ সম্প্রদায়ের ওপর এর তীব্র প্রভাব পড়েছে।

এ নিবন্ধে বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকিং কীভাবে তার সাম্প্রতিক হতাশাজনক রেকর্ড থেকে পুনরুদ্ধার পেতে পারে তা খতিয়ে দেখা হয়েছে। এখানে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ইতিহাস, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এর অবদান, এস আলম গ্রুপের দ্বারা করা ক্ষতি এবং অর্থনীতি কীভাবে ধীরে ধীরে উন্নতি করছে তা অন্বেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন, সরকারি নথি এবং সংবাদ সূত্র থেকে প্রাপ্ত প্রমাণ আমাদের সমস্যাগুলো বুঝতে এবং এগিয়ে যাওয়ার পথ নির্দেশ করতে বেশ সহায়তা করে। সহজ ভাষায় বিশ্বাসই মূল বিষয়। যখন মানুষ তাদের ব্যাংকে বিশ্বাস করে, তখন তারা অর্থ সঞ্চয় করার মাধ্যমে ছোট ব্যবসাকে সহায়তা করার পাশাপাশি অর্থনীতির বিকাশে সহায়তা করে।

বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং সেবার পটভূমি

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাত্রা শুরু করে। সে সময়ে বাংলাদেশে ইসলামী নিয়মকানুন ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের ধারণাটি নতুন ছিল। সুদ ছাড়াই অর্থ সঞ্চয় এবং ঋণ নেয়ার উপায় প্রদানের জন্য ব্যাংকটি তৈরি করা হয়েছিল। তৎকালীন এটি একটি আকর্ষণীয় ধারণা ছিল, যেখানে বেশির ভাগ মানুষ ইসলাম অনুসরণ করে। বছরের পর বছর ধরে ইসলামী ব্যাংক দেশের বৃহত্তম ইসলামী ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটিতে পরিণত হয়। অনেক মানুষ, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মানুষ ইসলামী ব্যাংককে বেছে নেয়, কারণ তারা মনে করত যে এটি তাদের অর্থ সঞ্চয়ের একটি নিরাপদ স্থান। ব্যাংকটি ইসলামী শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে কঠোর নিয়ম অনুসরণ করত। তাদের নিয়মগুলো নিশ্চয়তা দিয়েছিল যে ব্যাংকটি সুদ নেয়া ছাড়ায় ন্যায্যভাবে পরিচালিত হবে। ফলে আমানতকারীরা বিশেষ করে ছোট কৃষক ও গ্রামীণ শহুরে পরিবার—প্রায়ই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাংকে তাদের সঞ্চয় জমা রাখত।

ব্যাংকিং শিল্পে অবদান

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ কেবল অর্থ নিরাপদই রাখেনি বরং এটি ছোট ব্যবসা, কৃষক ও শিল্পকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ব্যাংকটি মানুষকে তাদের ব্যবসা শুরু ও বৃদ্ধি করতে সহায়তা করেছে। এটি টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পকেও সমর্থন করেছে, যা বাংলাদেশের রফতানি আয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন উপায়ে ইসলামী ব্যাংক দেশের অর্থনীতি গঠনে সহায়তা করেছে।

ব্যাংকটি তার সৎ লেনদেন ও ইসলামী আইন অনুসরণের জন্য পরিচিত ছিল। ব্যাংকটি এমন একটি দেশে প্রতিষ্ঠিত ও জনপ্রিয় হয়েছিল, যেখানে বেশির ভাগ মানুষ আর্থিক বিষয়ে সততা ও ন্যায্যতার সঠিক মূল্য দিত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ এলাকায়ও ইসলামী ব্যাংক শাখার একটি বৃহৎ নেটওয়ার্ক তৈরি করে, এমনকি যেখানে নিয়মিত ব্যাংকের প্রবেশাধিকার সীমিত ছিল। এ নেটওয়ার্ক এমন জায়গায় আর্থিক পরিষেবা পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছিল, যেখানে আগে কখনো দেখা যায়নি। গ্রামীণ পরিবারগুলো যারা আগে বাড়িতে নগদ অর্থ সঞ্চয় করত তাদের ওপর বিশেষ দৃষ্টি রেখে আইবিবি কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মহিলাদের কাছ থেকে এ ব্যাংক সঞ্চয় সংগ্রহ করে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শাখাগুলো সুদ ছাড়াই ক্ষুদ্র ঋণ, কৃষি ঋণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় তহবিল সরবরাহ করে। ২০০০-১৫ সালের মধ্যে আইবিবির আমানতের ভিত্তি বার্ষিক ১৮ শতাংশ বেড়েছে এবং এর গ্রামীণ প্রচারণা অনৈতিক মহাজনদের ওপর অতিরিক্ত হারে নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করেছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) গবেষণায় ২০১৫ সালের মধ্যে গ্রামীণ অঞ্চলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ৩৯ থেকে ৫৬ শতাংশে উন্নীত করার জন্য ইসলামী ব্যাংকগুলোকে কৃতিত্ব দেয়া হয়েছে।

২০১৫ সালের মধ্যে আইবিবি ৪০ লাখেরও বেশি গ্রামীণ ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করেছে, যা লুণ্ঠনকারী মহাজনদের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে। ব্যাংকটি কৃষি, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও নারী নেতৃত্বাধীন সমবায়গুলোকে অর্থায়ন করেছে, ফলে গ্রামে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ৩৯ থেকে ৫৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে (BIBM, ২০১৫)। এর সাফল্য আরো ১০টি ইসলামী ব্যাংককে অনুপ্রাণিত করেছে, যারা ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ব্যাংকিং সম্পদের ২৫ শতাংশ সম্মিলিতভাবে ধারণ করেছে। ইসলামী ব্যাংক এমন একটি সমাজে নির্ভরযোগ্যতার আলোকবর্তিকা ছিল, যেখানে আস্থা অর্জন করা সত্যিই কঠিন। গ্রামীণ পরিবারগুলো প্রায়ই ব্যাংককে এমন একটি অংশীদার হিসেবে দেখত, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়, জরুরি অবস্থা মোকাবেলা, এমনকি নতুন সুযোগে বিনিয়োগ করতে সহায়তা করে। দরিদ্রদের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং স্থানীয় প্রকল্পের জন্য তহবিল সরবরাহে এর ভূমিকা দেশজুড়ে এটিকে সম্মানিত করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ ব্যাংকের প্রভাব

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের কর্মক্ষমতা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর একটি প্রধান কারণ ছিল এস আলম গ্রুপের অসৎ কর্মকাণ্ডের তৎপরতা। গ্রুপটি ইসলামী ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে এস আলম গ্রুপ ব্যাংক পরিচালনায় ব্যর্থ হয়। তাদের বিরুদ্ধে অনুপযুক্ত ঋণ প্রদান এবং ব্যাংকের তহবিল স্বচ্ছ নয় এমনভাবে ব্যবহার করার অভিযোগ আনা হয়েছে। যখন গ্রুপটি নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে, তখন ইসলামী ব্যাংকের বিশ্বস্ত ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। যারা একসময় ব্যাংককে তাদের অর্থ রাখার নিরাপদ স্থান হিসেবে দেখতেন তারা উদ্বিগ্ন হতে শুরু করেন। সঠিক চেক ছাড়াই দেয়া ঋণ এবং তহবিলের অপব্যবহারের খবর প্রকাশ হয়। এসব অসাধু পদক্ষেপের কারণে ইসলামী ব্যাংকের সুনামকে দুর্বল করে দেয় এবং অনেক আমানতকারী তাদের অর্থ তুলে নিতে বাধ্য হন।

বিশ্বাস ও অর্থনীতির ক্ষতি

বিশ্বাস যেকোনো ব্যাংকের ভিত্তি। ইসলামী ব্যাংক বহু বছর সে আস্থা অর্জন করার চেষ্টা করে যাচ্ছিল তাদের সততা ও স্পষ্ট অনুশীলনের মাধ্যমে। তবে এস আলম গ্রুপের ভুল পদক্ষেপগুলো সে আস্থাকে দুর্বল করে দেয়। যখন আমানতকারীরা আস্থা হারিয়ে ফেলেন, তখন তারা ব্যাংকে সঞ্চয় করা বন্ধ করে দেন। সঞ্চয়ের এ ক্ষতি অর্থনীতিতে তীব্র প্রভাব ফেলে। ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কৃষকরা, যারা ঋণের জন্য ব্যাংকের ওপর নির্ভর করতেন, তাদের কাজ শুরু বা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। গ্রামীণ এলাকায় যেখানে সঞ্চয় ও ঋণ নেয়ার বিকল্প সীমিত, সেখানে আস্থার এ ক্ষতি বিশেষভাবে চিন্তার উদ্রেক করেছিল। ইসলামী ব্যাংকের ওপর সীমিতসংখ্যক লোকের আস্থা তৈরি হওয়ায় ব্যাংক খাতের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ অস্থিরতা কেবল ব্যাংককেই নয়, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেও প্রভাবিত করেছিল।

সংবাদ সূত্র ও সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকের সমস্যাগুলো ব্যাংকিংয়ের লেনদেনের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা হ্রাস করেছে। ফলে ব্যাংকগুলো জনসাধারণের কাছ থেকে একদিকে যেমন ততটা অর্থ সংগ্রহ করতে পারেনি, তেমনি ঋণ দেয়ার ক্ষমতাও কমেছে। এ পরিস্থিতি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে স্থবির করে দিয়েছে, বিশেষ করে ঋণের সহজলভ্যতার ওপর নির্ভরশীল খাতগুলোয় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

কীভাবে এটি ঘটেছিল

জামানত ঘাটতি: অপর্যাপ্ত জামানতের বিপরীতে ঋণ অনুমোদন করা হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, এস আলম গ্রুপ জমি ব্যবহার করে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৩০০ শতাংশ তহবিল সংগ্রহ করেছিল (বাংলাদেশ ব্যাংক অডিট, ২০২১)।

রাজনৈতিক প্রভাব: প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর নিয়ম শিথিল করার জন্য চাপ দিয়েছিল এ গ্রুপ। ২০২২ সালের দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে যে এস আলমে গ্রুপের ৪০ শতাংশ ঋণের যথাযথ নথিপত্রের অভাব ছিল।

আস্থা ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব

আমানতকারীদের ভীতি: গ্রামীণ ক্লায়েন্টরা ক্ষতির ভয়ে ২০২১-২২ সালে আইবিবি থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছিলেন।

ঋণ সংকট: ২০২২ সালে ইসলামী ব্যাংকগুলোর কৃষি ঋণ ১৭ শতাংশ কমেছিল, ফলে কৃষি উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়েছিল। বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধির দশমিক ৮ শতাংশ কমে গিয়েছিল।

খাতভিত্তিক অবিশ্বাস: ২০২৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে যে কেলেঙ্কারির পর ৬৫ শতাংশ গ্রামীণ পরিবার ইসলামী ব্যাংকের প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করে।

আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা

বিভিন্ন সমস্যার প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে সঠিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। ইসলামী ব্যাংকগুলোর ওপর তদারকি কঠোর করার জন্য নতুন নিয়ম চালু করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থাগুলোর মূল লক্ষ্য হলো ইসলামী ব্যাংককে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন ধরনের অব্যবস্থাপনা রোধ করা। ব্যাংক কর্মী ও শরিয়াহ তত্ত্বাবধান বোর্ডের সদস্যদের প্রশিক্ষণ উন্নত করার জন্যও জোর দেয়া। উন্নত প্রশিক্ষণ ও স্পষ্ট নিয়মের অর্থ হলো ব্যাংকগুলো আরো সহজ এবং স্বচ্ছভাবে কাজ করতে পারে।

পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো জনসাধারণের আস্থা পুনরায় ফিরিয়ে আনা। যখন ব্যাংকগুলো সততার সঙ্গে কাজ করে এবং তারা কঠোর নিয়ম মেনে চলে, তখন মানুষ আবার তাদের অর্থ জমা রাখার বিষয়ে এ ব্যাংককে নিরাপদ বোধ করতে শুরু করে। নতুন নিয়মগুলোয় নিয়মিত নিরীক্ষা এবং ব্যাংকগুলো কীভাবে পরিচালিত হয় সে সম্পর্কে আরো খোলামেলা প্রতিবেদনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ পরিবর্তনগুলো ধীরে ধীরে আমানতকারীদের মধ্যে আস্থা পুনরুদ্ধার করতে শুরু করেছে।

ফলে এ সংস্কারগুলোর প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে। পুনরুদ্ধার ধীর হলেও অর্থনীতিতে ইতিবাচক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আগের তুলনায় এখন আরো বেশিসংখ্যক মানুষ ইসলামী ব্যাংকগুলোয় আবার সঞ্চয় শুরু করছে। সরকারের প্রচেষ্টায় ছোট ব্যবসাগুলোকেও ঋণ নিতে উৎসাহিত করছে, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে চাঙ্গা করতে সহায়তা করে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে প্রমাণ হয় যে বাংলাদেশের সামগ্রিক ব্যাংক খাত ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে। ইসলামী ব্যাংকগুলোর প্রতি গ্রাহকের পুনরায় আস্থা রাখাই হলো এ উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। যখন গ্রাহক বিশ্বাস করবে যে তাদের জামানত অথবা টাকা নিরাপদ থাকবে, তখন তাদের মধ্যে তা জমা করার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। ফলে যখন ব্যাংকগুলোয় অধিক আমানত থাকে, তখন তারা ব্যবসা ক্ষেত্র এবং কৃষকদের আরো বেশি অর্থ ঋণ প্রদান করতে পারেন। এ ঋণ স্থানীয় শিল্পের বিকাশকে সমর্থন করে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।

গ্রামাঞ্চলে এ সুবিধাগুলো বিশেষভাবে প্রতীয়মান। এমনকি ক্ষুদ্র কৃষকরাও ঋণের সুবিধা পেতে পারে, যদি অধিক ব্যাংক শাখা খোলা হয় এবং দূরবর্তী গ্রাহকের কাছে সেবা পৌঁছানোর জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার সচল করা হয়। এ ঋণ তাদের উন্নত বীজ, সরঞ্জাম বা অন্যান্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে সুবিধা প্রদান করে, যা তাদের কাজের উন্নতির পাশাপাশি তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে।

ব্যাংক খাতটি স্থিতিশীল করার পদক্ষেপ

 কঠোর তদারকি: বাংলাদেশ ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য একক ঋণগ্রহীতার ঋণের হার ১৫ শতাংশ (৩৫ শতাংশ থেকে কম) সীমাবদ্ধ করেছে। ঋণের জন্য বাধ্যতামূলক ফরেনসিক অডিট চালু করা হয়েছে।

 স্বচ্ছতা ব্যবস্থা: আইবিবি এখন আমানতকারীদের কাছে প্রতি মাসে এসএমএসের মাধ্যমে ঋণ আদায়ের অগ্রগতি প্রকাশ করে। ফলে এস আলম নির্বাহীসহ খেলাপিরা এখন জনসাধারণের কাছে লজ্জার পাত্র।

 গ্রামীণ পুনঃসংযোগ: আস্থা ফিরে পেতে আইবিবি মোবাইল ব্যাংকিং প্রচার করছে। ডিজিটাল ওয়ালেট গ্রহণের পর সাতক্ষীরার কৃষকরা সঞ্চয় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে বলে জানা গেছে। ব্র্যাকের মতো এনজিওগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচি প্রদান করে, গ্রামবাসীদের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ পদ্ধতি শনাক্ত করতে শেখায়।

 অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন: ইসলামী ব্যাংকগুলো ২০২৩ সালে সৌরশক্তি প্রকল্পে অর্থায়ন করে, হাজার হাজার গ্রামীণ কর্মসংস্থান তৈরি করে। ২০২৪ সালের গোড়ার দিকে এসএমই ঋণ বাড়ে, যা তাঁত এবং হাঁস-মুরগি পালনে কুটির শিল্পকে সহায়তা করে।

উন্নত ভবিষ্যতের প্রমাণ

বিভিন্ন সমীক্ষা ও প্রতিবেদনগুলো প্রমাণ করে যে ব্যাংকগুলো আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার কাজ করছে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে কিছু সময় খারাপ গেলেও এখন ইসলামী ব্যাংকগুলোয় আমানত আবার বাড়তে শুরু করেছে। একইভাবে জরিপগুলো ইঙ্গিত দেয় যে ব্যাংকগুলো নতুন নিয়ম এবং উন্নত অনুশীলন গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহক সন্তুষ্টি উন্নত হচ্ছে। এ উন্নতিগুলো কেবল ব্যাংকগুলোর জন্য নয়, সমগ্র দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একটি শক্তিশালী ব্যাংক খাত, ব্যবসা ও পরিবারগুলোয় তহবিলের একটি স্থির প্রবাহ সরবরাহ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে চাঙ্গা করে। আশা করা হচ্ছে, আস্থা পুনর্নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে সঞ্চয় ও ঋণের চক্র আবার শুরু হতে পারে, যা আরো স্থিতিশীল এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে পরিচালিত হবে।

মূল কৌশল

ব্যাংকগুলো যেসব চ্যালেঞ্জগুলোর সম্মুখীন হয়েছিল [২০২৪ সালের গোড়ার দিকে আইবিবিতে খেলাপি ঋণ ১২ শতাংশে নেমে এলেও এখনো অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে]

 মুদ্রাস্ফীতি: ক্রমবর্ধমান ব্যয় ক্ষুদ্র আমানতকারীদের নিরুৎসাহিত করে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে গ্রামীণ ক্লায়েন্টরা সঞ্চয় কমিয়ে দেয় (BIBM, ২০২৩)।

 উত্তরাধিকার সূত্রে সমস্যা: এস আলমের খেলাপি ঋণের মাত্র ৪৫ শতাংশ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

 আস্থা ঘাটতি: গ্রামীণ পরিবারের অনেক পরিবার এখনো বাড়িতে সঞ্চয় রাখতে পছন্দ করে।

প্রমাণ ও অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এখানে কিছু পদক্ষেপ উল্লেখ করা হলো, যা বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকিং শিল্পকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করতে পারে:

১. স্পষ্ট ও সহজ নিয়ম

সরকারের উচিত ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জন্য একটি বিশেষ আইন তৈরি করা। এ আইনে স্পষ্ট নিয়ম নির্ধারণ করা হবে, যা সব ইসলামী ব্যাংককে অনুসরণ করতে হবে। এটিতে তহবিল পরিচালনা, মুনাফা ভাগাভাগি এবং সঠিক রেকর্ড কীভাবে রাখতে হবে তা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এ নিয়ম কী আশা করে তা সবাইকে জানতে সাহায্য করা, যা বিভিন্ন ভুল ধরা এবং সংশোধন করাও সহজ করে তুলবে।

২. সঠিক তদারকি

ব্যাংকগুলোর শক্তিশালী শরিয়াহ বোর্ডের প্রয়োজন, যারা ইসলামী আইন ও আধুনিক ব্যাংকিং উভয়ই বোঝেন। এ বোর্ডগুলো স্বাধীন হওয়া উচিত এবং ব্যাংকের পরিচালকদের খুব বেশি ঘনিষ্ঠ হওয়া উচিত নয়। এ বোর্ডগুলোর নিয়মিত চেক ও নিরীক্ষা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে যে ব্যাংকগুলো তারা যেন নীতি থেকে বিচ্যুত না হয় সেদিকে লক্ষ রাখা। যখন ব্যাংকগুলোকে এভাবে সতর্কতার সহিত পর্যবেক্ষণ করা হবে, তখন মানুষ তাদের ওপর আরো বেশি আস্থা রাখবে।

৩. নতুন আর্থিক পণ্য

ইসলামী ব্যাংকগুলোর উচিত বৃহৎ পরিসরের পণ্য সরবরাহ করা। মুরাবাহার ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে তাদের মুদারাবা ও মুশারাকার মতো লাভ এবং ক্ষতি উভয়ই ভাগ করে নেয়ার পদ্ধতি ব্যবহার করার চেষ্টা করা উচিত। এ পদ্ধতিগুলো অধিক রিটার্ন প্রদান করতে পারে এবং ঝুঁকি সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করতে পারে। ব্যাংকগুলো সুকুক বন্ডও ইস্যু করতে পারে, যা প্রচলিত বন্ডের মতো কিন্তু ইসলামিক নিয়ম অনুসরণ করে। নতুন পণ্যগুলো আরো বেশি গ্রাহককে আকৃষ্ট করবে। ফলে ব্যাংকগুলো আরো সম্প্রসারণ হবে।

৪. উন্নত তারল্য ব্যবস্থাপনা

তারল্যের সংকট সমাধানে ব্যাংকগুলোয় উন্নত সরঞ্জামের প্রয়োজন। ব্যাংক নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে কাজ করে সহজ, শরিয়াহ-সম্মত অর্থ বাজারের উপকরণ তৈরি করা উচিত। এ সরঞ্জামগুলো ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত নগদ একদিকে যেমন কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে অত্যধিক অলস অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে। সব উন্নত নগদ ব্যবস্থাপনা ব্যাংকগুলোকে আরো লাভজনক এবং ক্ষতির ঝুঁকি কমিয়ে তুলবে।

৫. গ্রামীণ এলাকায় পৌঁছানো

গ্রামীণ এলাকায় আরো শাখা এবং মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবা স্থাপন করা উচিত। প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক মানুষ ব্যাংকিং পরিষেবা সহজে গ্রহণ করতে পারে না। সেসব স্থানে ইসলামী ব্যাংকগুলো তাদের সেবা প্রসারিত করতে পারে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে সহায়তা করতে পারে। পদক্ষেপটি কেবল ব্যাংকগুলোকেই উপকৃত করবে না বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে।

৬. স্বচ্ছতার মাধ্যমে আস্থা পুনরুদ্ধার

ব্যাংকগুলোকে আস্থা পুনর্নির্মাণে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। তাদের কর্মক্ষমতা এবং তারা কীভাবে ইসলামিক নিয়ম অনুসরণ করে সে সম্পর্কে স্পষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত। যখন মানুষ দেখবে যে ব্যাংকগুলো তাদের কাজের প্রতি সৎ এবং জবাবদিহি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, তখন গ্রাহক তাদের অর্থ জমা দেয়ার ক্ষেত্রে নিরাপদ বোধ করবে। প্রকৃতপক্ষে জনসাধারণের আস্থা একটি শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভিত্তি।

৭. সম্প্রদায়কে সহায়তা ও সিএসআর

ইসলামী ব্যাংকগুলোর একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে, তা হলো বিভিন্ন সম্প্রদায়কে সাহায্য করা। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দারিদ্র্য নিরসনের প্রকল্পগুলোয় ব্যাংকগুলোর সহায়তা বাড়ানো উচিত। যখন ব্যাংকগুলো সম্প্রদায়কে সঠিক মূল্যায়ন করে, তখন মানুষ একটি ইতিবাচক ধারণা পোষণ করে, যেমন ব্যাংক সবার মঙ্গলে কাজ করছে। ফলে এটি শুধু আস্থাই তৈরি করে না বরং ব্যাংক ও তার গ্রাহকের মধ্যে বন্ধনকে শক্তিশালী করে।

৮. গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে শক্তিশালীকরণ: গ্রামীণ সম্প্রদায়ের চাহিদার সঙ্গে পণ্যগুলোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে ব্যাংক বোর্ডের সিদ্ধান্তে কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

৯: প্রযুক্তির ব্যবহার: ঋণ বিতরণ ট্র্যাক ও তহবিলের বিচ্যুতি রোধ করতে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

১০. শরিয়াহ নিরীক্ষা শক্তিশালীকরণ: স্বাধীন শরিয়াহ প্যানেলগুলো শুধু কর্মকর্তাদের অভিযোগ নয়, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ঋণও পরীক্ষা করতে হবে।

উপসংহার

বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের গ্রামীণ পরিবারের মধ্যে আস্থা তৈরি এবং অর্থনীতিকে সমর্থন করার একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশকে একসময় সঞ্চয়ের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল এবং ছোট ব্যবসার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখা হতো। তবে সরকারের অব্যবস্থাপনা এ আস্থার ওপর বিরাট আঘাত হানে। আস্থা হারানোর ফলে কেবল ব্যাংকই নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়ে। অনেক ছোট ব্যবসা ও গ্রামীণ পরিবার এ ভুলের প্রভাব অনুভব করেছে।

তবে এখন আশার আলো দেখা যাচ্ছে। সরকার ও নিয়ন্ত্রকরা সমস্যা সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছেন। নতুন নিয়ম, উন্নত তত্ত্বাবধান ও নতুন আর্থিক পণ্যের ওপর মনোযোগ আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করছে। আস্থা ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আরো বেশি লোক ইসলামী ব্যাংকগুলোয় তাদের অর্থ সঞ্চয় করছে। এতে ব্যাংকগুলো আরো বেশি ঋণ দিতে এবং স্থানীয় প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করতে সক্ষম হয়। পুনরুদ্ধারের এ যাত্রা যদিও ধীরগতিতে চলছে, কিন্তু তা স্থির নয়। আস্থা পুনরুদ্ধার কর্মকাণ্ড এ পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। যখন মানুষ বিশ্বাস করে যে তাদের ব্যাংক সেবা সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে, তখন তাদের অর্থ জমা করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আস্থা, সঞ্চয় ও ঋণ দেয়ার এ চক্র অর্থনীতির বিকাশে আরো স্থিতিশীল আর্থিক পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। যদি এ নিবন্ধের বর্ণিত পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়, তাহলে বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং তার সাম্প্রতিক নিম্নাবস্থা কাটিয়ে অর্থনীতিতে একটি টেকসই শক্তিতে পরিণত হতে পারে। এটি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অনেকের জীবন উন্নত করতে সাহায্য করবে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মানুষ বেশি উপকৃত হবে। সুস্পষ্ট নিয়ম ও সৎ পরিষেবার ওপর নির্মিত বিশ্বাস একটি উন্নত ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করতে পারে।

তথ্যসূত্র

বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট রিপোর্ট (2021-2023)

BIBM, গ্রামীণ বাংলাদেশে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের প্রভাব (2015, 2023)

বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশে ইসলামিক ব্যাংকিংসংক্রান্ত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন (অক্টোবর-ডিসেম্বর 2023)।

প্রথম আলো, ইসলামী ব্যাংকিং প্রসারে ভূমিকা মানুষ বিশ্বাস কবির হাসান, ২০ নভেম্বর, ২০২০

Bangladesh Bank Audit Reports (2021–2023)

BIBM, Impact of Islamic Banking on Rural Bangladesh (2015, 2023)

Bangladesh Bank, Quarterly Report on Islamic Banking in Bangladesh (October–December 2023).

প্রথম আলো, ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রসারে ভূমিকা রেখেছে মানুষের বিশ্বাস মোহাম্মদ কবির হাসান, 20 November, 2020.

অধ্যাপক মোহাম্মদ কবির হাসান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্স ইউনিভার্সিটির মফেট চেয়ার অব ফাইন্যান্স

আরও