সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক হোম লোনে সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়ার অনুমতি দিয়েছে। আপনি এ পরিবর্তনকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি হোম লোনের সর্বোচ্চ সীমা ২ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা দেশের ব্যাংক খাত ও আবাসন খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন। নিঃসন্দেহে এটি সময়োপযোগী ও বাস্তবতাভিত্তিক সিদ্ধান্ত। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নির্মাণ ব্যয়, জমির দাম ও শহরকেন্দ্রিক আবাসন চাহিদা যেভাবে বেড়েছে, তাতে আগের ঋণসীমা দিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না। নতুন ঋণসীমা বর্তমান বাজার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শহর ও উপশহর এলাকার ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে। একই সঙ্গে এটি ব্যাংক খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগও তৈরি করবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক খেলাপি ঋণের হারের সঙ্গে হোম লোনসীমা সংযুক্ত করেছে। বিষয়টি কতটুকু কার্যকর সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন আপনি?
নতুন নীতিমালায় হোম লোনের ঋণসীমার সঙ্গে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) হার যুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এটিও একটি দূরদর্শী ও কার্যকর সিদ্ধান্ত। এ ব্যবস্থার ফলে ঝুঁকিভিত্তিক ব্যাংকিং আরো শক্তিশালী হবে এবং যেসব ব্যাংক নিয়মিতভাবে ঋণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্ষম, তারা স্বাভাবিকভাবেই বেশি সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে এটি ব্যাংক খাতে জবাবদিহিতা বাড়াবে এবং সম্পদের মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে, যা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
খেলাপি ঋণের এ শর্তে ব্র্যাক ব্যাংক কতটা শক্তিশালী অবস্থানে আছে?
ব্র্যাক ব্যাংক সবসময় কমপ্লায়েন্স, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও গ্রাহক স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে। নতুন এ নীতিমালার আলোকে এবং দায়িত্বশীল ব্যাংকিং নীতির মধ্যে আরো বৃহৎ পরিসরে গ্রাহকদের আবাসন চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। তাছাড়া দেশের ব্যাংক খাত যখন খেলাপি ঋণের ভারে ন্যুব্জ, তখন ব্র্যাক ব্যাংকের এনপিএলের হার খুবই কম। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ৫ শতাংশ সীমার অনেক নিচে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির এনপিএল হার। এ শক্তিশালী অবস্থান একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক সুশাসন, শক্তিশালী রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কাঠামো এবং স্বচ্ছ ব্যাংকিং সংস্কৃতির কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে শক্ত অবস্থান শুধু একটি পরিসংখ্যানগত অর্জন নয়, বরং এটি গ্রাহকদের জন্য আস্থার একটি বড় ভিত্তি। দীর্ঘমেয়াদি হোম লোনের মতো বিনিয়োগে গ্রাহকরা এমন ব্যাংকের সঙ্গেই যুক্ত হতে চান, যেখানে আর্থিক স্থিতিশীলতা ও নীতিগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা ব্যাংকগুলোকে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে আরো দায়িত্বশীল হতে উৎসাহিত করবে।
আবাসন খাতে অর্থায়ন বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্ত আবাসন খাতের ব্যবসায় কেমন প্রভাব রাখবে? এ বিষয়ে আপনি কী মনে করেন?
আবাসন খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে নির্মাণসামগ্রী, স্টিল, সিমেন্ট, টাইলস, ইঞ্জিনিয়ারিং সেবা এবং পরিবহনসহ বহু শিল্প। ঋণসীমা বাড়ার ফলে হোম লোনগ্রহীতার সংখ্যা বাড়বে, যা আবাসন বাজারে নতুন চাহিদা তৈরি করবে। অর্থায়নের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হওয়ায় একদিকে যেমন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে, অন্যদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন গ্রাহক ভিত্তিও তৈরি হবে। এর সুফল ধাপে ধাপে পুরো নির্মাণ ও শিল্প খাতে ছড়িয়ে পড়বে।
হোম লোনে ব্র্যাক ব্যাংকের বিশেষত্ব কী? গ্রাহক কেন এ ব্যাংককেই বেছে নেবে?
বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা কেবল একটি আর্থিক সিদ্ধান্ত নয়। এটি জীবনের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই ব্র্যাক ব্যাংক শুধু ঋণ প্রদানেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং গ্রাহকের বিনিয়োগের নিরাপত্তাকে সমান গুরুত্ব দেয়। আমাদের অভিজ্ঞ লিগ্যাল ও টেকনিক্যাল টিম প্রতিটি প্রপার্টির কাগজপত্র, মালিকানা ও কারিগরি দিক বিস্তারিতভাবে যাচাই করে, যাতে গ্রাহক কোনো ঝুঁকিতে না পড়েন। বড় অংকের ঋণের ক্ষেত্রে ব্র্যাক ব্যাংক গ্রাহকের আয়, ব্যয় ও নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণ করে কিস্তি নির্ধারণ করে। এতে গ্রাহক দীর্ঘমেয়াদে স্বাচ্ছন্দ্যে ঋণ পরিশোধ করতে পারেন। একই সঙ্গে ডিজিটাল ব্যাংকিং প্লাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ প্রক্রিয়া আগের তুলনায় দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়েছে। ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় গ্রাহকদের সময় ও ঝামেলা দুটোই কমছে। আর্থিক ও টেকনিক্যাল সিদ্ধান্তে ব্র্যাক ব্যাংকের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা রয়েছে।
গ্রাহকদের উদ্দেশে কী বলবেন?
২৫ বছরের যাত্রায় ব্র্যাক ব্যাংক সাধারণ মানুষের স্বপ্নপূরণে পাশে থাকার চেষ্টা করেছে। আমাদের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় সহজ ও ঝামেলাহীন ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেয়া। দেশজুড়ে বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার মাধ্যমে আমরা হোম লোন সুবিধাকে আরো দ্রুত ও সহজ করেছি। এ সেবা দেশের সব অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।
সর্বোচ্চ ২৫ বছর মেয়াদি হোম লোন একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। এ লম্বা সময়ে গ্রাহক ও ব্যাংকের মধ্যে আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সম্পর্ককে টেকসই করতে আমাদের এমন সব ব্যাংকিং পণ্য ও সেবা রয়েছে, যা গ্রাহকদের জীবনে বাস্তব ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গ্রাহকদের বাড়ির স্বপ্নপূরণে আমরা সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।