সেমিপাকা বাড়ির জন্যও ঋণ সুবিধা দিচ্ছে মধুমতি ব্যাংক

২০১৩ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকেই গ্রাহকের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক ও যুগোপযোগী ব্যাংকিং পণ্য ও সেবা দিয়ে আসছে মধুমতি ব্যাংক পিএলসি।

আবাসন খাতে বিনিয়োগে মধুমতি ব্যাংকের পরিস্থিতি কী? কী কী প্রডাক্ট আছে এ খাতে আপনাদের?

২০১৩ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকেই গ্রাহকের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক ও যুগোপযোগী ব্যাংকিং পণ্য ও সেবা দিয়ে আসছে মধুমতি ব্যাংক পিএলসি। ব্যবসায়িক ঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ ও অটো লোনের পাশাপাশি গৃহ নির্মাণ ও ক্রয়ের ক্ষেত্রেও আমরা গ্রাহকদের পাশে আছি মধুমতি হোম লোন নিয়ে। বর্তমানে আমাদের দুটি হোম লোন প্রডাক্ট রয়েছে—‘মধুমতি ঠিকানা’ ও ‘মধুমতি আশ্রয়’। এর মধ্যে প্রথমটির মাধ্যমে ফ্ল্যাট বা বাড়ি ক্রয়, নতুন বাড়ি নির্মাণ, বিদ্যমান বাড়ি বা ফ্ল্যাট সম্প্রসারণ কিংবা সংস্কারের জন্য ঋণ সুবিধা পান গ্রাহকরা। এছাড়া অন্যান্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া হোম লোন টেকওভারের সুবিধাও রয়েছে এ প্রডাক্টের আওতায়। অন্যদিকে ‘মধুমতি আশ্রয়’ মূলত সেমি-পাকা বাড়ি অর্থায়নের জন্য দেয়া হয়।

এ খাতের ঋণে সুদহার কীভাবে নির্ধারণ করে মধুমতি ব্যাংক? আর ঋণ প্রক্রিয়াকরণ শেষ হতে কত সময় লাগে?

সুদের হার বাজারভিত্তিক হওয়ায় এটি অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের সঙ্গে ওঠানামা করে। মুদ্রাস্ফীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সুদহার এবং ব্যাংক খাতের তারল্য পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন সময় সুদহারে তারতম্য তৈরি হয়। গ্রাহকদের সুবিধার্থে সুদের হার-সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য নিয়মিত মধুমতি ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করি আমরা। আর মেয়াদ নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রডাক্ট বিবেচনায় নেয়া হয়। ‘মধুমতি ঠিকানা’ হোম লোনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেয়া হয়। আর ‘মধুমতি আশ্রয়’ হোম লোনের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর। উভয় ক্ষেত্রেই সুদের হার সাধারণত ভাসমান বা ফ্লোটিং হয়। অর্থাৎ বাজারে প্রচলিত সুদের হারের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সময়ের সঙ্গে সুদের হার বাড়তে বা কমতে পারে। আর প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে সাধারণত সাত কর্মদিবসের মধ্যেই হোম লোন অনুমোদন দেয় মধুমতি ব্যাংক।

আবাসন খাতে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কোন ধরনের গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দেয় মধুমতি ব্যাংক?

ব্যাংকের নীতিমালা, গ্রাহকের আর্থিক সামর্থ্য ও চাহিদা অনুযায়ী সাধারণত সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত হোম লোন দেয়া সম্ভব। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে চাকরিজীবী, স্বনিযুক্ত ও ব্যবসায়ী শ্রেণীর গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দেয় মধুমতি ব্যাংক। এছাড়া যাদের ক্রেডিট হিস্ট্রি ভালো এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে সম্পন্ন থাকে, তাদের ক্ষেত্রেও ঋণ অনুমোদন সহজ হয়।

আবাসন খাতে ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর অনাগ্রহ দেখা যায়। মধুমতি ব্যাংক এ খাতে কতটা আগ্রহী?

ব্যাংক খাতে হোম লোন ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হলেও এখনো প্রত্যাশিত হারে সম্প্রসারণ হয়নি। মধুমতি ব্যাংক গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হোম লোন দিয়ে আসছে, কারণ এটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং টেকসই উন্নয়নে সহায়ক। তবে সামগ্রিকভাবে হোম লোন বৃদ্ধিতে কিছু কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উচ্চ সুদহারের কারণে অনেক গ্রাহকের জন্য কিস্তি পরিশোধ কঠিন হয়ে পড়ে। আয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কঠোর হওয়ায় যোগ্য গ্রাহক কম পাওয়া যায়। পাশাপাশি সম্পদমূল্যের অনুপাত সীমার কারণে গ্রাহককে বড় অংকের ডাউন পেমেন্ট দিতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত আছে রিয়েল এস্টেট বাজারে মূল্য ওঠানামার ঝুঁকি এবং ফ্ল্যাট বা বাড়ির পুনঃবিক্রয়মূল্য সবসময় নিশ্চিত না থাকা। এছাড়া হোম লোনে প্রশাসনিক ও অপারেশনাল ব্যয় তুলনামূলক বেশি। আবার ব্যাংকের আমানত অধিকাংশ সময় স্বল্পমেয়াদি; কিন্তু এ খাতের ঋণ দীর্ঘমেয়াদি হয়ে থাকে। তাই তারল্য ব্যবস্থাপনায় এ খাতে ঝুঁকি তৈরি হয়। জমির কাগজপত্র ও আইনি জটিলতাও অনেক সময় ব্যাংকারদের নিরুৎসাহিত করে। এসব কারণেই ব্যাংকগুলোয় এ খাতের ঋণ বিতরণে তুলনামূলক কম আগ্রহ দেখা যায়। যদিও মধুমতি ব্যাংক যোগ্য গ্রাহক পেলে এ খাতে ঋণ প্রদানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।

আবাসন খাতে মধুমতি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিস্থিতি কী?

মধুমতি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের হার ব্যাংক খাতের গড়ের তুলনায় কম। ২০২৪ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী মোট খেলাপি ঋণের হার প্রায় ২ দশমিক ৩০ শতাংশ। তবে হোম লোনের ক্ষেত্রে এ হার কিছুটা বেশি। এ খাতে বিতরণকৃত ঋণের ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ খেলাপি হয়েছে। মূলত অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এ খাতে আমাদের কিছু খেলাপি তৈরি হয়েছে। তবে শিগগিরই তা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক হোম লোনের সীমা ২-৪ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে। এ সিদ্ধান্ত বাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন আপনি?

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে উচ্চমূল্যের ফ্ল্যাটের চাহিদা বাড়বে এবং রিয়েল এস্টেট খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর হোম লোন দেয়ার আগ্রহও বাড়তে পারে। তবে সুদহার বেশি থাকলে অনেক গ্রাহকের জন্য কিস্তি পরিশোধ কঠিন হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকেও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। এছাড়া সম্পদমূল্যের সীমা অনুপাত তুলে দিয়ে জমি ও ফ্ল্যাটের আইনি জটিলতা দুর করলে এবং দেশে সেকেন্ডারি মর্টগেজ মার্কেট তৈরি করতে পারলে এ খাত আরো বেশি সম্প্রসারিত হবে।

শহরাঞ্চলে আবাসন খাত উন্নয়ন অনেকটাই কোম্পানিনির্ভর। এ খাতের উন্নয়নে কোম্পানিগুলোর কী কী পদক্ষেপ নেয়া উচিত?

আবাসন কোম্পানিগুলো ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রিমিয়াম হোম লোন প্যাকেজ চালু করতে পারে। ডাউন পেমেন্ট ও স্টেজড পেমেন্ট ব্যবস্থা সহজ করা, কাগজপত্র ও অনুমোদন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা এবং সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প বাড়ানো হোম লোন বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। পাশাপাশি অনলাইন ও ডিজিটাল প্রক্রিয়া সহজ করলে গ্রাহকের আগ্রহ আরো বাড়বে।

আরও