এ সময়ে অর্থনীতি, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সংস্কারকে সামনে রেখে সরকার একগুচ্ছ কর্মসূচি ঘোষণা ও বাস্তবায়ন শুরু করেছে। সরকারের প্রকাশিত ৯০ দিনের অগ্রগতির তথ্যে বড় অবকাঠামো প্রকল্প থেকে শুরু করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, নদী পুনরুদ্ধার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য ভাতা চালুর মতো উদ্যোগগুলো বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে গতকাল ৬০ হাজার কোটি টাকার বড় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বন্ধ কলকারখানা চালুসহ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে এ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আশা প্রকাশ করেছেন যে এ তহবিলের মাধ্যমে ২৫ লাখ কর্মসংস্থান হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের প্রথম ১০০ দিনের সামগ্রিক পদক্ষেপে এখন একদিকে যেমন সামাজিক নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে অর্থনীতিতে স্থবিরতা কাটিয়ে শিল্প ও কর্মসংস্থান পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নীতিনির্ধারক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, গত তিন মাসে গ্রহণ করা কয়েকটি প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোয় ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে। বিশেষ করে পানি ব্যবস্থাপনা, সামাজিক নিরাপত্তা, জ্বালানি ও বিনিয়োগ সহায়তা খাতের উদ্যোগগুলো আগামী কয়েক বছরে সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করছে। একই সঙ্গে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি ‘সক্রিয় হস্তক্ষেপমূলক’ অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করছে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় উদ্যোগগুলোর একটি হচ্ছে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকেন্দ্রিক পানি ব্যবস্থাপনা ও নদী পুনরুজ্জীবনে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ২৪ জেলার নদীপারের মানুষ উপকৃত হবে। এতে ৬২৪টি নদীতে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা, ১৯ লাখ হেক্টর জমিকে সেচের আওতায় আনা এবং ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ওই অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট কমবে, লবণাক্ততা হ্রাস পাবে এবং মৃতপ্রায় নদীগুলো পুনরুজ্জীবিত হবে। কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশেও ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এ ধরনের পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প ভবিষ্যতে খাদ্যনিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একই সঙ্গে নদী ও জলাধার ব্যবস্থাপনায় বড় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ১৮০ দিনে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এরই মধ্যে ৫৪ জেলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকার আশা করছে, নদী ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা কমবে, কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও দখলের কারণে দেশের প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশ উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারের সবচেয়ে বড় ও আলোচিত উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। নারীপ্রধান পরিবারকে কেন্দ্র করে আগামী চার বছরে পর্যায়ক্রমে চার কোটি পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে ৫৩ হাজার ৯৬টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হয়েছে। প্রতিটি পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পাচ্ছে।
সরকার বলছে, এটি কেবল ভাতা কর্মসূচি নয়; বরং নারীর আর্থিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের একটি নতুন কাঠামো। আগামী অর্থবছরের জুলাই থেকে তৃতীয় ধাপে সারা দেশে এ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে পরিবারভিত্তিক ডিজিটাল কাঠামোয় আনার চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে কল্যাণমূলক ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের বৃহৎ কর্মসূচি পরিচালনায় সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন, তথ্যভাণ্ডার ও আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করাই এখন চ্যালেঞ্জ।
একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। বয়স্ক ভাতা ৬০০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ভাতা ৫৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা, প্রতিবন্ধী ভাতা ৮৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির ভাতা ৮০০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
যদিও মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় এ বৃদ্ধি সীমিত বলে মনে করছে বিশ্লেষকদের একটি অংশ, তবু সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের জায়গায় রাখছে, এমন বার্তা স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সরকার সরাসরি নগদ সহায়তা ব্যবস্থার দিকে বেশি ঝুঁকছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
নদী রক্ষায় আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগও নিয়েছে সরকার। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধনের একটি খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। এতে নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ১৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান যুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।
নদী দখল ও দূষণ দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির বড় সংকট। আইন বাস্তবায়ন কার্যকর হলে শিল্প দূষণ ও অবৈধ দখল নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তারা বলছেন বাস্তব চ্যালেঞ্জ হবে স্থানীয় প্রভাবশালী দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা কার্যকর করা।
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে সরকার। পাশাপাশি শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
জ্বালানি খাতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি মোকাবেলায় নতুন করে অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর কয়েক দশক ধরে দেশের সমুদ্রসীমা ও অফশোর সম্পদ পর্যাপ্তভাবে অনুসন্ধান করা হয়নি। এখন আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে অফশোর অনুসন্ধান শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নতুন রিগ কেনা এবং আন্তর্জাতিক কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে অনুসন্ধানে অংশগ্রহণের কৌশল নেয়া হয়েছে। সরকারের ধারণা, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বৈদেশিক লেনদেনের স্থিতিশীলতার সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে অফশোর অনুসন্ধান সফল হলে তা শিল্প বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় অংকের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে।
একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন ‘ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেন্ডলি’ সৌরনীতি প্রণয়নের কাজ চলছে। সরকার বলছে, বর্তমানে ব্যাটারি স্টোরেজে উচ্চ করহার থাকায় বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। নতুন নীতিতে এ খাতে প্রণোদনা বাড়ানো হতে পারে।
সরকারের লক্ষ্য মেয়াদ শেষে অন্তত ৫ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ খাতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের বিকল্প নেই। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও সরকার বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়াতে চাইছে।
স্থবির অর্থনীতি ও শিল্প খাত সচল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন তহবিল এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে সরবরাহ করা হবে।
ঘোষিত প্যাকেজ অনুযায়ী, বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকা, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পে ৫ হাজার কোটি, কৃষি খাতে ১০ হাজার কোটি এবং রফতানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন করা হবে। পাশাপাশি চামড়া ও জুতা শিল্প, স্টার্টআপ, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি, হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি রফতানি এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের মতো খাতেও বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, এ প্যাকেজ বাস্তবায়ন হলে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। ঋণের সুদহার গ্রাহক পর্যায়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি সুদের অংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে দেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ সুদহার, ডলার সংকট ও শিল্প খাতের তারল্যচাপের মধ্যে এ ধরনের প্রণোদনা স্বল্পমেয়াদে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে কিছুটা গতি ফিরিয়ে আনতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগ আস্থার উন্নয়ন ছাড়া কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও বেশকিছু নতুন কর্মসূচি চালু করেছে। সরকার ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইত ও বৌদ্ধবিহারের দায়িত্বশীলদের জন্য মাসিক সম্মানী চালু করেছে। পাইলট পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইমাম, পুরোহিত ও বিহার অধ্যক্ষ মাসে ৫ হাজার টাকা; মুয়াজ্জিন, বিহার উপাধ্যক্ষ ও সেবাইতরা ৩ হাজার টাকা এবং খাদেমরা ২ হাজার টাকা সম্মানী পাবেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় উৎসবে বিশেষ ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহজ করতে প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন খাতে লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সরলীকরণ, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং অপ্রয়োজনীয় অনুমোদন কমানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। নীতিনির্ধারকদের মতে, বিনিয়োগে সময় ও ব্যয় কমানো এখন অগ্রাধিকার। বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ ও স্থানীয় শিল্প সম্প্রসারণের জন্য ব্যবসাবান্ধব প্রশাসনিক পরিবেশ তৈরির কথাও বলা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছে, ঘোষিত কর্মসূচিগুলোর সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও অর্থায়নের ওপর। বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ ও সীমিত রাজস্ব আহরণের বাস্তবতায় বড় প্রকল্প ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ব্যয় ব্যবস্থাপনা সহজ হবে না।
তাদের মতে, সরকার এখন এমন এক বাস্তবতায় রয়েছে যেখানে একই সঙ্গে জনকল্যাণমূলক ব্যয় বাড়ানো এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে আগামী বাজেট ও নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোই নির্ধারণ করবে, সরকারের এ প্রথম ১০০ দিনের উদ্যোগগুলো কতটা কার্যকর রূপ পাবে।
প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রম থেকে ধারণা করা যায় রাষ্ট্রকে শুধু প্রশাসনিক নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবেও পুনর্গঠনের একটি বার্তা দিতে চায় সরকার—এমনটাই বলছেন অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন নজর থাকবে বাস্তবায়ন শুরু হওয়া এবং ঘোষিত কর্মসূচিগুলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতিতে কতটা কার্যকর প্রভাব ফেলতে পারে সে বিষয়ে।