নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিঃসন্দেহে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ

মাসরুর আরেফিন

পরিবর্তিত বৈশ্বিক জ্বালানি বাস্তবতায় বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো ক্রুড ও পরিশোধিত জ্বালানির জন্য মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা;

মধ্যপ্রাচ্য ব্যতীত অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত ক্রুড পরিশোধনের জন্য একটি আধুনিক জ্বালানি পরিশোধনাগারের অভাব; অপরিশোধিত ক্রুড ও পরিশোধিত জ্বালানি সংরক্ষণের পর্যাপ্ত অভাব; অনশোর কূপ খনন দীর্ঘদিন পর শুরু করা এবং অফশোর ব্লক ইজারা দিতে যথেষ্ট দেরি করা; নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বেগবান না হওয়া; বৈদেশিক মুদ্রার অপ্রাপ্যতা; বেসরকারি খাতকে অন্তর্ভুক্ত না করা; সরকারের নীতির ঘন ঘন পরিবর্তন হওয়া, যা বিদেশী উদ্যোক্তাদের এখানে আসতে নিরুৎসাহিত করে; স্বাক্ষরিত চুক্তির ধারা পরিবর্তনের চেষ্টা করা; সরকারের প্রদত্ত অঙ্গীকার অনুযায়ী সময়মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন বিল পরিশোধ করা; একটি ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা, যা সময় সময় পরিবর্তনযোগ্য হবে।

পদক্ষেপ কী কী নেয়া যায়: ল্যান্ড বেজড এলএনজি টার্মিনাল চালু করা এখন সময়ের দাবি। এ কাজের জন্য অর্থের সংস্থান এবং একই সঙ্গে সময়সাপেক্ষ নির্মাণ সম্পন্ন করা হতে পারে আমাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। মধ্যমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে আরো একটি বা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল করা গেলে গ্যাসের সংকট কিছুটা সামাল দেয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য বাদে অন্যান্য উৎস থেকেও এলএনজি সংগ্রহ করা উচিত। অনশোর ও অফশোর কূপ খননও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে বিদ্যমান গ্যাস কূপগুলোর সংস্কার ও উত্তোলন বাড়ানো উচিত। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকেও সাময়িক উত্তোলন বাড়ানো যায়। শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের পুরনো ও অদক্ষ মেশিন বদল করে এবং বিদ্যুৎসাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্যাস ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ করা যায়। গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে মহেশখালী ও মাতারবাড়ীতে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজি টার্মিনাল বানানো প্রয়োজন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিঃসন্দেহে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ। সরকার নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে প্রকল্পগুলোর টেন্ডার, চুক্তি স্বাক্ষর ও নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা উচিত। সম্প্রতি সরকার ঘোষিত শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা ও কর অব্যাহতি ইতিবাচক। স্বল্প সুদে ও দীর্ঘমেয়াদে ঋণ না থাকা, সম্পূর্ণ অংকের জন্য ব্যাংকনির্ভরতা এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক। বি-বি-আই-এন (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল) কাঠামোর অধীনে নেপাল ও ভুটানের বিপুল জলবিদ্যুৎকে বাংলাদেশ, ভারত এবং এ অঞ্চলের সুবিধার জন্য কাজে লাগানো যেতে পারে। এনার্জি ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে নেপাল থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ আমদানি ও বিক্রির জন্য বেসরকারি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

মাসরুর আরেফিন: ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সিটি ব্যাংক পিএলসি.

আরও