একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি ও ক্যাপাসিটি চার্জ সরকারি অর্থ ব্যবস্থার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে।
স্বল্পমেয়াদে চাহিদা ও সরবরাহ—উভয় দিকেই কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। নতুন শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে জ্বালানি দক্ষতার ন্যূনতম মান নিশ্চিত করা এবং বিদ্যমান শিল্পে অদক্ষ যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনে স্বল্পসুদে সময়াবদ্ধ অর্থায়ন চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং নেট মিটারিং ও ওপেক্স মডেলে রুফটপ সোলারের দ্রুত সম্প্রসারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়নের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট সিকিউরিটি ও ঋণঝুঁকি প্রশমন ব্যবস্থা গড়ে তোলাও অপরিহার্য।
মধ্যমেয়াদে ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহারে ভাসমান ও কৃষি-সমন্বিত সৌরবিদ্যুৎ, গ্রিড আধুনিকায়ন এবং এনার্জি স্টোরেজে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে গ্রিন বন্ড, অবকাঠামো বন্ড, ক্রেডিট গ্যারান্টি, ব্লেন্ডেড জলবায়ু অর্থায়ন এবং স্থানীয় মুদ্রাভিত্তিক অর্থায়নের মতো বহুমুখী আর্থিক উপকরণ ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের ভূমিকা একক ক্রেতা থেকে কার্যকর নিয়ন্ত্রক ও বাজার-সহায়কে রূপান্তরিত হওয়া উচিত। আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য, দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান এবং আত্মনির্ভর অর্থায়ন কাঠামোই বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত্তি গড়ে তুলবে।
এসএম মনিরুল ইসলাম: ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ইডকল