চট্টগ্রাম ইপিজেড

বিদেশী বিনিয়োগে আস্থার সূচনা

১৯৮৩ সালে চট্টগ্রাম ইপিজেড প্রতিষ্ঠার পর গার্মেন্টস পণ্যের মাধ্যমে আমেরিকা ও ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং শুরু হয়। অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই এই ইপিজেডে বিশ্বের খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের পণ্য উৎপাদন শুরু হয়,

চট্টগ্রাম ইপিজেডের সূচনা ‘ফ্রি পোর্ট’ হয়ে ওঠে বিনিয়োগ-রফতানির সূতিকাগার

১৯৮৩ সালে চট্টগ্রামের দক্ষিণ হালিশহর এলাকায় ৪৫৩ একর জমির ওপর যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা বাংলাদেশের প্রথম ইপিজেড। এটি শুধু একটি শিল্পাঞ্চল নয়, বরং রফতানিমুখী উৎপাদন খাতে বাংলাদেশের সাহসী অগ্রযাত্রার প্রতীক।

তখনকার ছায়াঘেরা উপকূলীয় এলাকা ছিল আধা-গ্রামীণ পরিবেশে ঘেরা। ইপিজেড গড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যায় চিত্র নির্মিত হয় প্রশস্ত সড়ক, আধুনিক কারখানা ভবন, আন্তর্জাতিক মানের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। পুরো এলাকা পরিণত হয় শুল্কমুক্ত অঞ্চলে; বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি বা প্রস্তুত পণ্য রফতানিতে কোনো শুল্ক নেই, কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ, বন্দরের একেবারে কাছাকাছি অবস্থান, আর্থিক লেনদেনে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা—সব মিলিয়ে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি হয়ে ওঠে স্বপ্নের গন্তব্য।

ইপিজেডে তৈরি পণ্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি না হয়ে সরাসরি বিদেশে রফতানি হয়। বিনিয়োগকারীরা পান দীর্ঘমেয়াদি করছাড়, মুনাফা নির্বিঘ্নে বিদেশে পাঠানোর সুযোগ এবং শ্রমিক নিয়োগে সর্বোচ্চ নমনীয়তা—এসব কিছুর বিবেচনায় শুরুর দিকে স্থানীয়দের কাছে ইপিজেড পরিচিত হয় ‘ফ্রি পোর্ট’ নামে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ‘ফ্রি পোর্ট শব্দটি ধীরে ধীরে স্থান ছেড়ে দেয় ইপিজেড নামকে। কারণ শুধু চট্টগ্রামে নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হতে শুরু করে ইপিজেড। যদিও দক্ষিণ হালিশহর মৌজার বন্দরটিলা এলাকাটি স্থানীয়দের কাছে এখনো ফ্রিপোর্ট হিসেবেই পরিচিত। সময়ে পরিক্রমায় চট্টগ্রামের এই ‘ফ্রি পোর্ট’ হয়ে ওঠে দেশের রফতানিমুখী শিল্পের এক প্রতীকী কেন্দ্র, যা আজও বিনিয়োগ, রফতানি, কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় শিল্পে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

বিনিয়োগ, রফতানি ও কর্মসংস্থানে শীর্ষে চট্টগ্রাম ইপিজেড

বাংলাদেশের রফতানিমুখী শিল্প উন্নয়নের প্রধান আস্থার নাম চট্টগ্রাম ইপিজেড। দেশের প্রথম ও প্রাচীনতম এই ইপিজেড বিনিয়োগ, রফতানি ও কর্মসংস্থানে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

চট্টগ্রাম সমুদ্র ও বিমানবন্দর নিকটে হওয়ায় কাঁচামাল আমদানি ও পণ্য রফতানিতে সময় ও খরচ কম হওয়ায় এটি বিনিয়োগকারীদের প্রধান পছন্দ। এখানে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় বিভিন্ন পণ্যে ১৩টি দেশের বিনিয়োগ হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলার। এই ইপিজেড থেকে মোট রফতানি হয়েছে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। বর্তমানে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক এখানে কাজ করছেন, যাদের আয় ও জীবনমানের উন্নয়ন স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সিয়াম’স সুপিরিয়র বিনিয়োগের প্রথম পদচিহ্ন

থাইল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান সিয়াম’স সুপিরিয়র লিমিটেড ছিল চট্টগ্রাম ইপিজেডে বিনিয়োগের প্রথম সাহসী পথিকৃৎ। ১৯৮৩ সালে বেপজার অনুমতি পাওয়ার পর ১৯৮৪ সালের জুনে প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। তাদের এই পদক্ষেপকে অনুসরণ করে অল্প সময়ের মধ্যেই ডিলাইট নিটিং, রিজেন্সি গার্মেন্টস, ইউনিভোগ গার্মেন্টস, পেনিনসুলা গার্মেন্টসসহ বেশ কয়েকটি দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে এগিয়ে আসে।

সময়ের ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম ইপিজেডে গড়ে উঠেছে অসংখ্য কারখানা। শুরুর দিকের কিছু বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে, কিছু মালিকানা পরিবর্তন করে নতুন নামে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে রিজেন্সি ও ইউনিভোগের মতো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই টিকে আছে এবং ধারাবাহিকভাবে সফল উৎপাদন বজায় রেখেছে। এই দীর্ঘ ইতিহাস প্রমাণ করে যে চার দশকের বেশি সময় ধরে চট্টগ্রাম ইপিজেড বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করেছে চট্টগ্রাম ইপিজেড

মোঃ আব্দুস সোবহান

নির্বাহী পরিচালক, চট্টগ্রাম ইপিজেড

১৯৮৩ সালে চট্টগ্রাম ইপিজেড প্রতিষ্ঠার পর গার্মেন্টস পণ্যের মাধ্যমে আমেরিকা ও ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং শুরু হয়। অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই এই ইপিজেডে বিশ্বের খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের পণ্য উৎপাদন শুরু হয়, যা বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পরিচিতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে নতুন নতুন বিদেশী বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট হয়ে এখানে ব্যবসা শুরু করেন। এতে উৎপাদন ক্ষেত্রের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পায় এবং রফতানি বাজারও আরো প্রসারিত হয়। ক্রমে চট্টগ্রাম ইপিজেডে উৎপাদিত পণ্য বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড ইমেজ গড়ে তোলে। মূলত বিনিয়োগকারীদের উদ্যোগ এবং চট্টগ্রাম ইপিজেডে উৎপাদিত মানসম্মত পণ্যই বাংলাদেশকে বিশ্ববাজারে স্বতন্ত্রভাবে ব্র্যান্ডিং করেছে।

চট্টগ্রাম ইপিজেডে ইয়ংওয়ানের যাত্রা শুরু

সম্প্রতি বাংলাদেশের সম্মানসূচক নাগরিকত্ব পাওয়া ইয়ংওয়ান করপোরেশনের চেয়ারম্যান কিহাক সাং বাংলাদেশে তার ব্যবসা শুরু করেন চট্টগ্রাম ইপিজেডে কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে। দক্ষিণ কোরীয় এ শিল্প উদ্যোক্তা বাংলাদেশে বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনায় আস্থা রেখে ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম ইপিজেডে ব্যবসা শুরু করেন। ইয়ংওয়ান মূলত হাই এন্ড গার্মেন্টস, স্পোর্টসওয়্যার, আউটডোর পোশাক এবং বিশেষায়িত অ্যাথলেটিক গার্মেন্টস উৎপাদনে বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

পণ্যের উৎপাদনে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে তারা দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। চট্টগ্রাম ইপিজেডের সফলতার ধারাবাহিকতায় ঢাকা ইপিজেডে ইয়ংওয়ান তার ব্যবসা সম্প্রসারণ করে, যা বেপজাধীন ইপিজেডগুলোর বিনিয়োগ-পরিবেশের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থারই এক উজ্বল প্রমাণ। বর্তমানে চট্টগ্রাম ও ঢাকা ইপিজেডে ইয়াংওয়ান গ্রুপের ১২টি কারখানা চালু রয়েছে, যেখানে প্রায় ৪৫ হাজার শ্রমিক কর্মরত।

বাইসাইকেল রফতানির পথপ্রদর্শক আলিটা

বাংলাদেশ থেকে বাইসাইকেল রফতানি শুরু হয়েছিল চট্টগ্রাম ইপিজেড থেকে, যেখানে ১৯৯৪ সালে মালয়েশিয়াভিত্তিক আলিটা (বাংলাদেশ) লিমিটেড উৎপাদন শুরু করে। ১৯৯৫ সালে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লিখে বাইসাইকেল রফতানি শুরু করে এই প্রতিষ্ঠানটি, যা দেশের বাইসাইকেল রফতানি বাজারের পথপ্রদর্শক। আলিটার সফলতায় ইপিজেডের বাইরে আরো অনেক বাইসাইকেল কারখানা গড়ে উঠেছে।

ডেনিম সাম্রাজ্য

চট্টগ্রাম ইপিজেডের দেশীয় প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ বিশ্ব ডেনিম বাজারে এক অপ্রতিরোধ্য অবস্থান গড়ে তুলেছে। উদ্যোক্তা এম নাসির উদ্দিন ১৯৯৪ সালে এখানে প্রথম কারখানা স্থাপন করেন। বর্তমানে এই গ্রুপের অধীনে রয়েছে নয়টি পৃথক কারখানা ও ১২টি উৎপাদন ইউনিট, যেখানে কর্মরত প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক। প্রতি বছর এসব কারখানায় উৎপাদিত হয় প্রায় পাঁচ কোটি ইউনিট ডেনিম প্যান্ট, যা রফতানি হয় বিশ্বের শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোর কাছে। টেকসই উৎপাদনক্ষমতা ও মানের ধারাবাহিকতা প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপকে ডেনিম সরবরাহে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তাঁবু ও ক্যাম্পিং পণ্যে সাড়ে তিন দশকের যাত্রা

বিশ্বব্যাপী ক্যাম্পিং, আউটডোর, মিলিটারি ও রিক্রিয়েশনাল ব্যবহারের লক্ষ লক্ষ তাঁবুর একটি বড় অংশ তৈরি হয় চট্টগ্রাম ইপিজেডে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান এইচকেডি. ১৯৮৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নির্ভরযোগ্য তাঁবু সরবরাহ করে আসছে। বিশ্বের ক্যাম্পিং পণ্যের বাজারে এইচকেডির শেয়ার ৫০ শতাংশ আর তাদের পণ্য ২০টিরও বেশি দেশে রফতানি হয়। এইচকেডির নেতৃত্বে আরো অনেক আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে।

বিশ্ববাজারে চট্টগ্রামের লেন্স

১৯৯০ সালে ক্যামেরা লেন্স তৈরির উদ্দেশ্যে জাপানি মালিকানাধীন সানকো অপটিক্যাল চট্টগ্রাম ইপিজেডে যাত্রা শুরু করে। একসময় নাইকন, সনি, মিনোল্টা, কোনিকা ও অলিম্পাসের মতো বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ডের ক্যামেরা লেন্স তৈরি হতো এখানে। প্রযুক্তির বিবর্তনে ক্যামেরার লেন্সের চাহিদা কমে আসায় প্রতিষ্ঠানটি ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা, ফটোকপিয়ার লেন্স তৈরিতে মনোযোগ দেয়। সানকো এখন সিসিটিভি ক্যামেরা, প্রজেক্টর, স্ক্যানার, রাইফেল স্কোপ (স্পোর্টস), বাইনোকুলার, মেশিন ভিশন লেন্সসহ বিভিন্ন ধরনের লেন্স তৈরি করছে এবং মাসে ৭-১০ লাখ ডলারের রফতানি করছে বিশ্ববাজারে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গলফ শ্যাফট তৈরির একমাত্র কারখানা সিইপিজেডে

৩৬ বছর ধরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একমাত্র গলফ শ্যাফট কারখানা হিসেবে চট্টগ্রাম ইপিজেডের ‘মামিয়া-ওপি (বাংলাদেশ) লিমিটেড’ নিখুঁত গলফ শ্যাফট তৈরি করে আসছে। বিশ্বখ্যাত গলফার টাইগার উডসের পছন্দ ‘টেইলরমেড’ ব্র্যান্ডের শ্যাফট এখানেই তৈরি হয়, যেখানে কারিগরির স্পর্শ প্রযুক্তির সঙ্গে মিশে ফুটিয়ে তোলে উৎকর্ষের নতুন অধ্যায়। মাসে ৫০ হাজারেরও বেশি আর্চারি তীর উড়ে যায় দূর অরণ্যে, জাপানে অনুষ্ঠিত টোকিও অলিম্পিকেও ব্যবহৃত হয়েছে এই তীর।

পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম

চট্টগ্রাম ইপিজেড শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায়ও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কেন্দ্রীয় তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) প্রতিদিন প্রায় ৪৫ হাজার ঘনমিটার তরল শিল্পবর্জ্য পরিশোধন করে। বেপজার নিজস্ব ভবনসমূহ এবং বিভিন্ন কারখানা তাদের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করেছে, যেখান থেকে প্রায় ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে সহায়তা করছে। এছাড়া ইপিজেডের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ‘ওয়েস্ট হিট’ ব্যবহারের মাধ্যমে বাষ্প উৎপাদন করে পাইপলাইনের মাধ্যমে শিল্প কারখানায় সরবরাহ করা হয়, ফলে নিজস্ব বয়লার ব্যবহারের প্রয়োজন কমে ও গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাস পায়। এনভায়রনমেন্ট ল্যাবে নিয়মিত পানি ও শব্দের মান পরীক্ষা করে পরিবেশগত মানদণ্ড বজায় রাখে।

শ্রমিক কল্যাণ

ইপিজেড প্রতিষ্ঠার অন্যতম একটি লক্ষ্য কর্মসংস্থান ও শোভন কর্মপরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ইপিজেডে নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা ও সচেতনতা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়। বেপজা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রায় ২,৭০০ শিক্ষার্থীর বড় অংশ শ্রমিকদের সন্তান, যারা ৫০% কম টিউশন ফিতে পড়াশোনার সুযোগ পায়। রয়েছে ডে-কেয়ার সেন্টার, পরিচ্ছন্ন কারখানা পরিবেশ, ক্যান্টিন ও যাতায়াত সুবিধা, যা তাদের সঞ্চয় ও জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

চট্টগ্রাম ইপিজেডের অর্থনৈতিক অবদান ও ব্যাপক কর্মযজ্ঞের কারণে ২০১০ সালে লন্ডনভিত্তিক দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসএর এফডিআই ম্যাগাজিনের জরিপে চট্টগ্রাম ইপিজেড বিশ্বের ৭০০টি ইকোনমিক জোনএর মধ্যে Cost Effective Zone ক্যাটাগরিতে তৃতীয় স্থান এবং Best Economic Potential 2010-2011 ক্যাটগরিতে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে।

বৈচিত্র্যময় অন্যান্য পণ্য

কানাডার মাইডাস সেফটি নামক একটি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ইপিজেডে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি গ্লাভস উৎপাদন করে। তাদের পিভিসি গ্লাভস বিশ্ববাজারে বিশেষভাবে সমাদৃত। জাপানি প্রতিষ্ঠান অপ-সিড উৎপাদন করে এলইডি লাইট, ভেন্ডিং মেশিন পার্টস, ব্যাটারি চার্জার, অ্যাডাপ্টার; যা শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোর সরবরাহ চেইনে যুক্ত। আরেক জাপানি প্রতিষ্ঠান লুনা লাইট তৈরি করছে স্মল ইন্ডিকেটর ও মাল্টি এলইডি ল্যাম্প।

এছাড়া এখানে উচ্চমানের ফুটওয়্যার, ক্যাপ, জাহাজের অ্যাংকর রোপসহ পাট ও সিনথেটিক রশি, অটোমোবাইল পার্টস উৎপাদিত হচ্ছে। দেশের ইপিজেডগুলোর মধ্যে একমাত্র চট্টগ্রাম ইপিজেডেই শুরুর সময় থেকেই টেরি টাওয়েল উৎপাদিত হয়ে আসছে

আরও