ইউনাইটেড টার্মিনাল কমপ্লেক্স

ঢাকার প্রবেশদ্বারে পূর্ণাঙ্গ ‘এয়ারপোর্ট ভিলেজ’

ঢাকার যানজট আন্তর্জাতিক অতিথিদের জন্য সবসময় এক বড় উদ্বেগের নাম। ফ্লাইট থেকে নেমেই যানজটে আটকে থেকে হোটেল কিংবা ইভেন্টস্থলে পৌঁছানোর ক্লান্তি শুধু তাদের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতাকেই নষ্ট করে না, দেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কেবল যাত্রী আসা যাওয়ার স্থান নয়। কোনো দেশের সঙ্গে বহির্বিশ্বের প্রথম সংযোগস্থলও এটি। একজন বিদেশী অতিথি, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী কিংবা প্রবাসী দেশে প্রবেশের পর প্রথম যে নগর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন, সেটি অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তির অংশ হয়ে ওঠে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন ইউনাইটেড টার্মিনাল গড়ে উঠছে এমনই একটি বৃহত্তর ভাবনাকে সামনে রেখে।

বিমানবন্দরকেন্দ্রিক বহুমুখী পরিসর

ইউনাইটেড গ্রুপের প্রকল্পটির মূল ধারণা হলো বিমানবন্দরকেন্দ্রিক একটি সমন্বিত বাণিজ্যিক, আতিথেয়তা ও জীবনযাপনের গন্তব্য তৈরি করা। যেখানে হোটেল, কনভেনশন সুবিধা, করপোরেট অফিস, রিটেইল, খাবার, শিল্প, বই, ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। ফলে এটিকে শুধু কয়েকটি ভবন বা পৃথক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সমষ্টি হিসেবে না দেখে একটি পূর্ণাঙ্গ নগর পরিসর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে একটি পরিপূর্ণ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ ‘এয়ারপোর্ট ভিলেজ’ বা বিমানবন্দরকেন্দ্রিক অনন্য নগর অভিজ্ঞতা গড়ে তোলাই এ পুরো কর্মযজ্ঞের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

ঢাকার মতো দ্রুত সম্প্রসারিত ও ঘনবসতিপূর্ণ মহানগরে এ ধরনের প্রকল্পের প্রাসঙ্গিকতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শহরের কেন্দ্রীয় অংশে উপযুক্ত বড় জমির স্বল্পতা, ক্রমবর্ধমান যানজট এবং বিভিন্ন সেবার জন্য দীর্ঘ পথ অতিক্রমের প্রয়োজন প্রতিদিনের নগর জীবনের বাস্তবতা। এমন প্রেক্ষাপটে একই অঞ্চলে একাধিক প্রয়োজনীয় সুবিধার সমন্বয় মানুষের সময়, চলাচল ও ব্যবহারিক সুবিধার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

ইউনাইটেড টার্মিনালের অবস্থানও এ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রেল যোগাযোগের নিকটবর্তী হওয়ায় এটি ঢাকার উত্তরাংশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও চলাচলকেন্দ্রিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি করছে। বিমানবন্দর এলাকার সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ যোগাযোগ অবকাঠামোর সঙ্গে এ অঞ্চলের সংযোগ বাড়লে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরো বাড়তে পারে।

হসপিটালিটি

এ সমন্বিত পরিসরের অন্যতম প্রধান অংশ ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ব্যবসায়িক ভ্রমণকারী, পর্যটক এবং বিভিন্ন আয়োজনের অতিথিদের জন্য হোটেলটি আবাসন ও আতিথেয়তার সুযোগ দিচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টার, যেখানে করপোরেট আয়োজন, সম্মেলন, প্রদর্শনী, সামাজিক অনুষ্ঠান ও বৃহৎ পরিসরের সমাবেশ আয়োজন করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক সম্মেলন, জমকালো করপোরেট সামিট, এক্সপো কিংবা সামাজিক ও পারিবারিক উৎসবসহ যেকোনো ধরনের বৃহৎ পরিসরের আয়োজন সফল করতে এটি এক বিশ্বমানের ভেন্যু।

পূর্ণাঙ্গ লাইফস্টাইল হাব

করপোরেট কার্যক্রমের জন্য রয়েছে ইউনিসেন্ট্রাল। লাইফস্টাইল ও কেনাকাটার চিরচেনা আনন্দকে নতুন মাত্রা দিয়েছে ‘সেন্টারপয়েন্ট শপিং মল’। এর ভেতরেই বিশাল পরিসরে রয়েছে দৈনন্দিন কেনাকাটা ও প্রিমিয়াম খাবারের জনপ্রিয় ঠিকানা ‘ইউনিমার্ট’। শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটাই নয়, এখানে এসে শিল্পরসিকরা মুগ্ধ হতে পারবেন ‘ভূমি আর্ট গ্যালারি’র শিল্পকর্মে, আর সাহিত্যপ্রেমীরা হারিয়ে যেতে পারবেন বিশ্বখ্যাত বইয়ের দোকান ‘কিনোকুনিয়া বাংলাদেশ’-এর সমৃদ্ধ বইয়ের জগতে।

ফ্যাশন সচেতনদের জন্য বিশ্ববাজারের দারুণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে এখানে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক সব ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড। রিতু কুমার বাংলাদেশ, স্যাফায়ার, মারিয়া বি, জুনায়েদ জামশেদ এবং নিশাত লিনেনের মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর বর্ণিল উপস্থিতি স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি বিদেশী অতিথিদের কেনাকাটায় যোগ করেছে নতুন বৈচিত্র্য ও স্বাচ্ছন্দ্য।

এ বহুমাত্রিক বিন্যাসই ইউনাইটেড টার্মিনালের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। একজন ব্যবসায়ী ঢাকায় এসে একই অঞ্চলে আবাসন, সভা কিংবা সম্মেলনের সুবিধা পেতে পারেন। একজন পর্যটক বা স্বল্প সময়ের জন্য ঢাকায় অবস্থানকারী অতিথি খাবার, কেনাকাটা ও অবসর কাটানোর সুযোগ পেতে পারেন। আবার স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্যও জায়গাটি একটি স্বতন্ত্র নগর গন্তব্য হিসেবে কাজ করতে পারে।

এ ধারণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশের একটি সমসাময়িক পরিচয় তুলে ধরার প্রয়াসও। একটি দেশের আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারের কাছে কেবল বৈশ্বিক ব্র্যান্ড কিংবা আধুনিক স্থাপত্য থাকাই যথেষ্ট নয়। সেই পরিসরে দেশের নিজস্ব শিল্প, বই, সংস্কৃতি, খাবার ও জীবনযাপনের প্রতিফলন থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প, বই, রিটেইল, আতিথেয়তা ও আধুনিক নগরজীবনের বিভিন্ন উপাদানকে একই পরিসরে যুক্ত করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে বাংলাদেশের একটি বহুমাত্রিক চিত্র তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

অবকাঠামো চাহিদা থেকে বড় উদ্যোগ

প্রকল্পটির পেছনে দেশের অবকাঠামোগত চাহিদাও একটি বড় বিবেচনা। বিমানবন্দর বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হলেও দীর্ঘদিন ধরে এর আশপাশে এমন একটি সমন্বিত পরিসরের ঘাটতি ছিল, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের আতিথেয়তা, ব্যবসায়িক সুবিধা এবং জীবনযাপনের বিভিন্ন প্রয়োজন একই অঞ্চলে পূরণ হতে পারে।

অন্যদিকে ঢাকার ভূমির সীমাবদ্ধতাও প্রকল্পটির পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জনবহুল শহরে নতুন বড় উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য খালি জমি পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। এ কারণে বিদ্যমান একটি বড় জায়গাকে নতুন করে পরিকল্পিত ব্যবহারের আওতায় এনে সেখানে বাণিজ্যিক, আতিথেয়তা ও নগর জীবনধারার বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

এ ধরনের সমন্বিত উন্নয়ন অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। ব্যবসায়িক ভ্রমণ, সম্মেলন, পর্যটন, হোটেল, রিটেইল এবং খাদ্য ও বিনোদন খাতের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ তৈরি হলে একটি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কার্যক্রম গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে মানুষের যাতায়াতের চাপ কমানো এবং সময়ের আরো কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এ ধরনের বিন্যাস ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও পর্যটনের ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থান একটি বড় বিবেচ্য বিষয়। কোনো বিদেশী প্রতিনিধি বা ব্যবসায়িক অতিথির জন্য বিমানবন্দর থেকে দীর্ঘ সময় যানজটে কাটিয়ে শহরের অন্য প্রান্তে যাওয়া অনেক সময় একটি নেতিবাচক অভিজ্ঞতা তৈরি করে। বিমানবন্দরের কাছেই যদি আবাসন, বৈঠক, কনভেনশন, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা পাওয়া যায়, তাহলে তা একটি শহরের ব্যবসায়িক সক্ষমতার অংশ হিসেবেও কাজ করে।

আন্তঃসংযুক্ত পরিকল্পনা

ইউনাইটেড টার্মিনালের পরিকল্পনায় দুটি পাঁচ তারকা হোটেল, ব্যাংকুয়েট সুবিধা, শপিং মল এবং করপোরেট অফিস ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উপাদান রয়েছে। প্রকল্পটির গুরুত্ব কেবল এ স্থাপনাগুলোর সংখ্যা বা আকারে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এ ভিন্ন ভিন্ন কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, সেটিই প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একটি হোটেলের সঙ্গে কনভেনশন সুবিধা, করপোরেট অফিসের সঙ্গে রিটেইল, কিংবা আন্তর্জাতিক আতিথেয়তার সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের সংযোগ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নগর গন্তব্য তৈরির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বিমানবন্দরসংলগ্ন অঞ্চলগুলো সময়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা, আতিথেয়তা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তবে ঢাকার বাস্তবতা আলাদা। জনসংখ্যার চাপ, সীমিত ভূমি, যানজট ও দ্রুত পরিবর্তনশীল নগর কাঠামোর কারণে এখানে যেকোনো নতুন উন্নয়নকে স্থানীয় প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হয়।

প্রকল্পটির ‘এয়ারপোর্ট ভিলেজ’ দর্শনের পেছনের মূল সুরটিও মূলত বিমানবন্দরকেন্দ্রিক একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ও আতিথেয়তা কেন্দ্র গড়ে তোলা। বিমানবন্দরের ঠিক পাশেই একই চত্বরে হোটেল, কনভেনশন, করপোরেট অফিস, শপিং এবং বিনোদনের মতো যাবতীয় সুবিধা একসঙ্গে হাতের নাগালে থাকলে বিদেশী অতিথি ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের ঢাকায় অবস্থান অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সহজ হবে বলেই মনে করছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ঢাকার চিরচেনা যানজটের রূঢ় বাস্তবতায় বিমানবন্দর থেকে নেমেই কাছাকাছি এমন সব সেবা পাওয়ার সুবিধা তাদের মূল্যবান সময় বাঁচাবে এবং যাতায়াতের প্রচণ্ড শারীরিক ও মানসিক চাপ বহুলাংশে কমিয়ে দেবে।

ঢাকার যানজট আন্তর্জাতিক অতিথিদের জন্য সবসময় এক বড় উদ্বেগের নাম। ফ্লাইট থেকে নেমেই যানজটে আটকে থেকে হোটেল কিংবা ইভেন্টস্থলে পৌঁছানোর ক্লান্তি শুধু তাদের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতাকেই নষ্ট করে না, দেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সে বাস্তবতাকে সামনে রেখেই সাজানো হয়েছে এ ‘এয়ারপোর্ট ভিলেজ’। বিমানবন্দর থেকে পা ফেলেই একই আঙিনায় যদি আবাসন, কনফারেন্স, ডাইনিং আর বিনোদনের সব সুবিধা পাওয়া যায়, তবে সময় ও যাতায়াতের মানসিক চাপ এক নিমেষেই মিলিয়ে যায়। আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অতিথি, ব্যবসায়ী, পর্যটক, এক্সপো দর্শনার্থী কিংবা ফ্লাইটের ক্রু—স্বল্প সময়ের এ ট্রানজিটেও তারা বাংলাদেশ সম্পর্কে পেয়ে যান এক ইতিবাচক, ঝলমলে ও গোছানো প্রাথমিক ধারণা। এ মিষ্টি অভিজ্ঞতাই হয়তো তাদের হৃদয়ে বাংলাদেশকে আবার নতুন করে ঘুরে দেখার গভীর আগ্রহ তৈরি করবে।

ভৌগোলিক দিক থেকেও এ প্রকল্পের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সংলগ্ন আন্তঃনগর রেলওয়ে স্টেশনের ঠিক মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকায় এটি বিভিন্ন আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে সহজেই যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে গণপরিবহনের সঙ্গে সমন্বয় ঘটলে এটি ভবিষ্যতে রূপ নিতে পারে দেশের অন্যতম প্রধান ‘মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্টেশন হাব’-এ। উপরন্তু, বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম ও সামগ্রিক সম্প্রসারণের সুবাদে এ অঞ্চলের গুরুত্ব সামনের দিনগুলোয় আরো বহুগুণ বাড়বে।

সে জায়গা থেকে ইউনাইটেড টার্মিনাল একটি বৃহত্তর নগর ভাবনার অংশ হিসেবে সামনে আসছে। এটি শুধু বিমানবন্দরের পাশের একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স হওয়ার চেষ্টা নয়; বরং বিমানবন্দরকে ঘিরে ব্যবসা, আতিথেয়তা, সংস্কৃতি, রিটেইল ও নগরজীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতাকে এক জায়গায় যুক্ত করার প্রয়াস।

প্রকল্পটির যাত্রা এখনো বিকাশমান। সামনে নতুন কার্যক্রম, সেবা ও ব্যবহার যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকার পরিবর্তিত অবকাঠামো এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্বও এর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নির্ধারণ করবে।

শেষ পর্যন্ত ইউনাইটেড টার্মিনালের সাফল্য শুধু কতটি নতুন স্থাপনা তৈরি হলো কিংবা কত বড় বাণিজ্যিক পরিসর গড়ে উঠল, তার ওপর নির্ভর করবে না। বাংলাদেশে প্রবেশ করা একজন আন্তর্জাতিক অতিথি কিংবা ঢাকার একজন সাধারণ নাগরিক জায়গাটি কীভাবে ব্যবহার করছেন এবং এখান থেকে কী ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরছেন, সেটিই হবে বড় বিবেচনা।

সে অর্থে ইউনাইটেড টার্মিনাল বাংলাদেশের প্রধান প্রবেশদ্বারে একটি নতুন ধরনের নগর অভিজ্ঞতা নির্মাণের প্রয়াস, যেখানে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, আধুনিক জীবনধারা ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় একই পরিসরে দৃশ্যমান হয়ে উঠতে পারে।

আরও