যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ। দেশের প্রতিটি কোণে অপুষ্টি, অনুপুষ্টিতে ভুগছে সব বয়সী মানুষ। গ্রাম কি শহর সবখানে মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার ছিল বেশি। টিকা প্রয়োগের হার নগণ্য। নেই স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো। ৫০ বছর পর সেসব এখন ইতিহাস। বাংলাদেশ এখন টিকা কার্যক্রমে বিশ্বের মডেল। মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হারে নিম্নমুখিতার গতি। বেড়েছে গড় আয়ু। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল, গড়ে উঠেছে চিকিৎসা অবকাঠামো। বর্তমানে সারা দেশে সাড়ে ১৪ হাজারেরও বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে। এগুলোর মাধ্যমে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবাসহ ৩০টি অতি প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার ক্লিনিকে স্কিলড বার্থ অ্যাটেনডেন্স সেবা প্রদান করা হচ্ছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীন ৩ হাজার ২৯০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র/পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক থেকে মা, শিশু ও বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২ হাজার ২০০টি কেন্দ্র থেকে সার্বক্ষণিক স্বাভাবিক প্রসবসেবা প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, বিভিন্ন এনজিও ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। সরকারি খাতে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় নীতি প্রণয়ন, পরিকল্পনা এবং ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে।
দেশে চিকিৎসাসেবায় বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড। হাসপাতালটি বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রদান করছে। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের জন্য আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রত্যাশা, কর ছাড়, প্রণোদনা, নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের বিষয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন হাসপাতালটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) মো. এসাম এবনে ইউসুফ ছিদ্দিক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ
আগের জাতীয় বাজেটগুলো বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের প্রত্যাশা পূরণে
কতটুকু ভূমিকা রেখেছে?
বিগত বছরগুলোয় জাতীয় বাজেটে সেই অর্থে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের
প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। প্রায় ১৮ বছর আগে শুধু রেফারেল হসপিটালের
জন্য কয়েকটি মেডিকেল যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক ছাড় দেয়া হয়েছিল। তবে তা সংখ্যায় খুবই কম। বিভিন্ন খাতে
করের যে রেয়াত রয়েছে তা বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে নেই। স্বাস্থ্যসেবা একটা মৌলিক
চাহিদা। বেসরকারি হাসপাতালের জন্য নানামুখী বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। মেডিকেল যন্ত্রাংশ,
দক্ষ লোকবলসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিনিয়োগ করে পাঁচ বছরের আগে ব্রেক ইভেনে
(লাভজনক অবস্থায় যাওয়া) আসা একটা হাসপাতালের সম্ভব নয়। দেশে চিকিৎসাসেবায় ৬০
শতাংশেরও বেশি আসে বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে। সরকার যদি বাজেটে কর
রেয়াতের মতো সুবিধাগুলো দেয়, মেডিকেল যন্ত্রাংশের কর রেয়াতের
বিষয়টি গুরুত্ব দিলে প্রত্যাশা পূরণের কথা বলা যাবে। বিগত বছরগুলোয় জাতীয় বাজেটে
আমরা বিশেষ কিছু দেখতে পাইনি।
স্বাস্থ্যসেবায় চিকিৎসা ক্ষেত্রে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার আকার বড়। তবে
বেসরকারি খাতে দক্ষ জনশক্তি সেভাবে গড়ে উঠছে না। এর কারণ কী? বাজেটে কী নীতি থাকা উচিত?
অবশ্যই বাজেট এ বিষয়ের জন্য একটা ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা চিকিৎসক ও
নার্সদের দক্ষ করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা সরকারি ও বেসরকারি
প্রচুর মেডিকেল কলেজ দেখছি, নার্সিং কলেজ দেখছি। এর বাইরে বড় একটি অংশ হচ্ছে
হেলথ টেকনোলজিস্ট, হেলথ সায়েন্টিস্ট। তবে তাদের গড়ে তোলার
ক্ষেত্রে বাংলাদেশে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান নেই। ফ্লেবোটোমিস্ট, রেডিওলজি টেকনোলজিস্ট, ফিজিসিস্ট, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার এসব জনবল একটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য খুব
প্রয়োজনীয়। এসব জনবল তৈরির জন্য সরকারের কাঠামোগত শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান নেই, যারা
বেসরকারি খাতকে সহায়তা করতে পারবে। বেসরকারিতে এটা করা কঠিন। কেননা এতে বড় বিনিয়োগ
প্রয়োজন। কেউ যখন বিনিয়োগ করবে, তখন তার একটা রিটার্ন লাগবে।
এ কাঠামো তৈরি না হওয়ায় সরকারকেই প্রথম উদ্যোগ নিতে হবে। পরবর্তী সময়ে বেসরকারি
স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা একটা দক্ষ জনশক্তি পাবে। প্রশিক্ষণ একটা বড় বিষয়। আমাদের
দেশের প্রেক্ষাপটে সব ধরনের প্রশিক্ষণ পাওয়া সম্ভব নয়। আধুনিক প্রযুক্তি
জ্ঞানসম্পন্ন নিউরোসার্জন, কার্ডিয়াক সার্জন
বা অর্থোপেডিক সার্জন হতে হলে উন্নত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। আর এ
প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজন অর্থের। বেসরকারি
পর্যায়ে একজন চিকিৎসককে অনেক অর্থ খরচ করে বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসা কঠিন। সরকারি
খাত যে উদ্যোগ সহজে নিতে পাবে বেসরকারি খাত তত সহজে পারে না।
স্বাস্থ্যসেবায় বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে কর রেয়াতের কথা
বলে আসছেন। সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে কর রেয়াত প্রয়োজন?
সবচেয়ে মৌলিক বিষয় হলো রোগ নির্ণয়। উন্নত চিকিৎসা পেতে গেলে দক্ষ
চিকিৎসকের যেমন জ্ঞান প্রয়োজন, আবার দক্ষ চিকিৎসককে সহায়তার জন্য
সঠিক রোগ নিরীক্ষা জরুরি। কেননা রোগ নিরীক্ষার সঠিক ফলাফল ছাড়া সঠিক চিকিৎসা করা
যায় না। পরীক্ষাগারে রোগ নিরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত রিএজেন্টে প্রায় ৩৫ শতাংশ শুল্ক
দিতে হয়। এটা একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। এখানে সরকার যদি শুল্ক কমিয়ে দেয় তাহলে
অনেক সাশ্রয়ী সম্ভব। যদি ২০ শতাংশও শুল্ক কমে তাহলে ২০ শতাংশ খরচ কমানো সম্ভব।
অনেক শিল্পে ট্যাক্স হলিডে (কর ছাড়) রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে কোনো ট্যাক্স হলিডে
নেই। এ ধরনের কোনো নীতি ও আইন নেই। একটা শিল্প দাঁড়াতে সময় লাগে। ব্রেক ইভেনে আসতে সময় লাগে। সেক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতালের জন্য কর ছাড় দিলে অনেক
উদ্যোক্তা এ খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে পারে। একটা হাসপাতালকে সাধারণ প্রতিষ্ঠানের
মতো ৩৫ শতাংশেরও বেশি কর দিতে হয়।
উন্নত দেশের সঙ্গে তুলনা করলে স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয়ের বিষয়ে আপনার কী
পর্যবেক্ষণ রয়েছে?
বেশির ভাগ উন্নত দেশে সরকারি স্বাস্থ্যসেবাই বেশি। যেমন সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, কানাডায় স্বাস্থ্য খাতকে সরকার পরিচালিত
করে। পাশাপাশি তাদের বীমা ব্যবস্থাপনা খুবই শক্তিশালী। আউট অব পকেট পেমেন্ট
(চিকিৎসা গ্রহণে রোগীর নিজের খরচ) সেখানে নেই বললেই চলে। পুরো স্বাস্থ্যসেবাটা
সরকার দিচ্ছে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনায়। যেখানে সরকার অবকাঠামো করে দিচ্ছে,
সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) রয়েছে, সরকার
কিছু ট্যাক্স ছাড় দিচ্ছে, বীমা সুবিধার মধ্যে নিয়ে আসছে।
তাদের মতো আমাদের স্বাস্থ্য খাতে ব্যবস্থাপনা করা গেলে আমরা এগিয়ে যাব।
বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বীমা কীভাবে কার্যকর করা যেতে পারে? এক্ষেত্রে বাজেট কী অবদান রাখতে পারে?
প্রথম কথা হলো বাজেটে একটা নীতি থাকতে হবে। সরকারের আর্থিক নীতি, ট্যাক্স নীতিগুলো বাজেট থেকেই আসে। আমাদের অনেক বীমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
বিশেষ করে জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান। তবে বড় পরিসরে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে সেই বীমা
নিয়ে কাজ হচ্ছে না। যাদের সামর্থ্য রয়েছে তারাই বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোয় অন্তর্ভুক্ত
হচ্ছে। করপোরেট সেক্টর তাদের কর্মীদের জন্য গ্রুপ বীমা গ্রহণ
করছে। তবে সার্বিক স্বাস্থ্যবীমা হচ্ছে না। একটা বীমার লাইসেন্স কোনো প্রতিষ্ঠানকে
দেয়া হলে তারা কী কী সেবা দেবে তার জন্য নীতি প্রয়োজন। সরকার একটা লাইসেন্ট বা
শর্ত দিলে হবে না। নীতির পাশাপাশি সরকারের সাহায্য লাগবে। বেসরকারি হাসপাতালগুলো কীভাবে
সহায়তা করবে তা বলতে হবে। একটা গাইডলাইন একদিনে হবে না। কাঠামো তৈরি হলে ধীরে ধীরে
সাবলীলভাবে চলতে উপযোগী পথ তৈরি হবে।
বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত প্রসারণের জন্য আগামী বাজেটে সুনির্দিষ্টভাবে
কী প্রয়োজন?
ঢাকার বাইরে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান করার জন্য উদ্যোক্তাদের বিশেষ
সুবিধা দিতে হবে। কেননা এখন সব চিকিৎসা ঢাকামুখী। ঢাকার বাইরে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা
তেমন নেই। যেমন কার্ডিয়াক সার্জারি। এত বড় জনসংখ্যার দেশে কতটি জায়গায় কার্ডিয়াক
সার্জারি হয়? ঢাকার বাইরে পাঁচ-সাত জায়গায় হয়। ঢাকার বাইরে
হাসপাতাল করার ক্ষেত্রে সরকার যদি প্রণোদনা দেয় অথবা বিশেষ কর ছাড়ের সুবিধা দেয়
তাহলে সম্ভব হবে।
দেশে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) কার্যকর উদাহরণ রয়েছে কি?
প্রায় পাঁচ বছর আগে শুনেছিলাম যে পিপিপিতে সরকার হাসপাতাল করতে চায়।
আমি কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে শুনেছি সরকারের সঙ্গে পিপিপির মাধ্যমে হাসপাতাল
প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি তেমন এগিয়ে যায়নি।
কী ধরনের হাসপাতালের ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব প্রয়োজন?
বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে এ অংশীদারত্ব কার্যকর হবে। যেমন
নিউরো, কিডনি, ক্যান্সার এসবের
ক্ষেত্রে পিপিপি প্রয়োজন। এগুলো প্রতিষ্ঠা করা খুবই ব্যয়বহুল। সেক্ষেত্রে সরকার
যদি জমি দিয়ে, অবকাঠামো দিয়ে সাহায্য করে এবং বেসরকারি
উদ্যোক্তা যন্ত্রাংশ ও ব্যবস্থাপনা দেবে তবেই তা সম্ভব। সমন্বিতভাবে একটা হাসপাতাল
পরিচালিত হবে। বেসরকারির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে অবশ্যই ভালো সেবা নিশ্চিত হবে।
বিশেষায়িত সেবায় এগিয়ে যাবে।
সব বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার প্রসারণ সমান্তরাল হয়নি। এতে বিশেষায়িত
চিকিৎসায় বাজেট আর্থিক ও আইনিভাবে কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে?
বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ
জনশক্তির প্রয়োজন। শুধু চিকিৎসকের ক্ষেত্রে নয়, বিশেষায়িত নার্স,
বিশেষায়িত টেকনোলজিস্টও প্রয়োজন। বেসরকারিভাবে একটি বিশেষায়িত
হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষ জনবল কোথায় পাওয়া যাবে?
নিশ্চিতভাবে তাদের বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আনতে হবে। বেসরকারিতে
একজন বিনিয়োগকারীকে এত বড় ব্যয় কঠিন। কেননা তাকেও এ বাজারে
টিকে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার বেসরকারি খাতেও বৃত্তি দিতে পারে। তাতে মোদ্দা
কথায় দেশের জনগণই উপকৃত হবে। এর জন্য সরকারকে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
বেসরকারি খাতে দক্ষ চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট
তৈরিতে সরকার বৃত্তি প্রদান করে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করবে। কিন্তু সরকারি উদ্যোগে
এমন কার্যক্রম দেখা যায় না।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে চিকিৎসার অবহেলা, প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ দেখা যায়। রোগীর সুরক্ষা নিশ্চিতে বেসরকারি
খাত কি পিছিয়ে রয়েছে?
কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সব সেক্টরেই আছে। স্বাস্থ্য খাতে নেই এটা বলা
যাবে না। তাদের জন্য বাকিরাও দোষী হয়ে যায়। আমাদের ভালো আইন আছে।
হাসপাতাল করতে হলে কী ক্যাটাগরি থাকতে হবে, কী ধরনের
যন্ত্রাংশ থাকতে হবে, কী কী যোগ্যতার কত জনবল থাকতে হবে,
কীভাবে মান বজায় রাখতে হবে এর সবকিছুই গাইডলাইনে বলা আছে।
জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও পর্যবেক্ষণ না করা হলে অসাধু ব্যক্তিরা সুযোগ নেবে। সরকারি
নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ বাড়ানো গেলে জনগণের আস্থা আসবে। যারা অনাস্থার জায়গা তৈরি
করছে তারাও সাবধান থাকবে।
দেশে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা কাঠামো শক্তিশালী
হতে আরো কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে?
বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনায় ভালো করতে আরো অনেক
কাজ বাকি। সবচেয়ে বড় কথা পুরো স্বাস্থ্য খাতের অংশীজন
কারা? তারা হচ্ছেন রোগী, তাদের স্বজন,
বীমা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালের সঙ্গে যারা
সরাসরি জড়িত যেমন ডাক্তার-নার্স, ব্যবস্থাপনার কর্মী। আমাদের
দেশে এখনো পর্যন্ত হেলথ সেক্টর ম্যানেজমেন্টের জন্য কোনো ইনস্টিটিউট নেই। যদিও আমরা
বলছি ৬০ শতাংশেরও বেশি চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে বেসরকারি খাত। তবে দক্ষ হাসপাতাল
ব্যবস্থাপক তৈরিতে কোনো প্রতিষ্ঠান কি রয়েছে? হাসপাতলের
বিভিন্ন বিভাগের ম্যানেজার তৈরি করা, নার্সদের
ক্লিনিক্যাল সেবা শিখনের জন্য নার্সিং কলেজগুলো কাজ করছে। তবে একজন নার্সকে
ক্লিনিক্যাল সেবার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও দেখতে হয়। এ জায়গায়
আমরা পিছিয়ে আছি। প্রশিক্ষিত জনবল দরকার। হাসপাতালের সাপ্লাই চেইন,
বিলিং সিস্টেম, আইটি সিস্টেম, টেকনোলজি ম্যানেজমেন্ট, নার্সিং ম্যানেজমেন্ট এমনকি
ডক্টরস ম্যানেজমেন্ট; মোটকথা সার্বিক ব্যবস্থাপনা ভালোভাবে
শেখার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। প্রথমত ক্লিনিক্যাল কম্পিটেন্সি ও দ্বিতীয়ত
ম্যানেজমেন্ট কম্পিটেন্সি। ম্যানেজমেন্ট কম্পিটেন্সি খুবই জরুরি। একটা রোগীকে কীভাবে
কাউন্সেলিং করতে হবে, ভাষা কী হবে, বডি
ল্যাঙ্গুয়েজ কী হবে, এগুলোর ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করে।
সত্যিকার অর্থে কোনো একাডেমিক প্রতিষ্ঠান নেই। প্রতিটি হাসপাতাল নিজেদের মতো করে
লোকজন তৈরি করে নিচ্ছে। বেসরকারি খাতগুলো নিজেদের মতো করে করছে। হয়তো
স্ট্যান্ডার্ড হচ্ছে না, তবে এটা চলছে। ছোট হাসপাতালগুলো
তাদের মতো করে করছে, আবার করপোরেট হাসপাতালগুলোও নিজেদের মতো
করেই এটা করছে। কিন্তু আদর্শিক কোনো কাঠামো তৈরি হচ্ছে না।
বাংলাদেশে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কী অবস্থায় রয়েছে? এক্ষেত্রে বাজেট কী করতে পারে?
একটা নীতি খুব দরকার। সরকার বলছে হাসপাতালে ইটিপি, এসটিপি থাকতে হবে। যদি ঢাকা শহরের কথা বলি, এখানে
সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। এখানে দুই ধরনের প্রতিষ্ঠানই সমানভাবে
দায়িত্বশীল। কয়টা সরকারি হাসপাতালে ইটিপি, এসটিপি পাওয়া যাবে?
কারণ এগুলো তো অনেক পুরনো স্ট্রাকচারে তৈরি করা। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর
যেগুলোর স্ট্রাকচার পুরনো সেগুলোয়ও ইটিপি, এসটিপির সুযোগ
নেই। পুরো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটা হাসপাতালের পক্ষে করা সম্ভব না। এটা
সম্মিলিতভাবে হওয়া দরকার। এটা সমন্বিতভাবে হচ্ছে না। কেউ একটি ইটিপি, এসটিপি করতে চাইলে একটা বড় বিনিয়োগ দরকার। এ বিনিয়োগ কীভাবে করা হবে?
সরকার যদি বিশেষায়িতভাবে পরিবেশগত দিক বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি খাতকে
সাহায্য করে সেটা প্রণোদনা হোক বা সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা হোক, কারিগরি জ্ঞান সহায়তা দিয়ে হোক এগুলোর সুযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সব নীতি ও সুবিধা কি বাজেটনির্ভর?
সবচেয়ে বড় জিনিস কর। চিকিৎসা সরঞ্জাম এতটাই হাইটেক ইন্ডাস্ট্রি যে
শতকরা ৮০ শতাংশই আমাদের আমদানি করতে হয়। কনজিউমেবল আইটেম,
ল্যাবটেস্টের রিএজেন্ট, হাসপাতাল বেড থেকে শুরু করে সবকিছুর পুরোটাই আমদানি করনির্ভর। আমরা বলব না প্রতিটায় আমাদের কর রেয়াত দিন।
এখানে এমন কোনো নীতি করা দরকার যেখানে নির্দিষ্ট সময় দেয়া উচিত যে প্রথম, দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় বছর কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে। অথবা অর্থনৈতিক সাহায্য
দিতে পারে। কিছু সুযোগ যদি বাজেটের বাইরেও থাকে, যা কর ছাড় ও অর্থনৈতিক সুবিধা
সরাসরি নয়। এখানে শর্ত দেয়া যেতে পারে যে এ ক্যাটাগরির অপারেশন যদি সাকসেসফুলি করা
হয় বা এই ক্যাটাগরির এতগুলো ট্রিটমেন্ট করা গেলে তাতে নির্দিষ্ট সুবিধা পাওয়া
যাবে। তাহলেই এটা সম্ভব।