বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন। দেশে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি চিকিৎসার পথিকৃৎ ও একজন পুরোধা ব্যক্তি। প্রায় পাঁচ দশক ধরে সরাসরি চিকিৎসাসেবায় নিযুক্ত রয়েছেন। কাজ করেছেন মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে। অধ্যাপনা ও চিকিৎসা গবেষণায় তার অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। দেশে ক্যান্সারের চিকিৎসা, সীমাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ
গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি হয়েছে। তবে সব বিশেষায়িত চিকিৎসা যেমন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সমানুপাতিক উন্নতি হয়নি। এ বিষয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ ও আগামীর পরিকল্পনা সম্পর্কে বলুন।
অনেক ধন্যবাদ। এখন আমি যদি সার্বিকভাবে বলি বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা আগের থেকে আরো উন্নত হয়েছে। আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখনকার যে অবস্থা, পরবর্তী সময়ে যখন চিকিৎসক হলাম তখনকার অবস্থা অনেক উন্নত। বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় অনেক আধুনিক যন্ত্রাংশ রয়েছে। এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দক্ষ জনবল। আগে তো ক্যান্সার হলে মনে করা হতো ক্যান্সার হয়ে গেছে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দাও। এখন চিকিৎসা হচ্ছে, অস্ত্রোপচার হচ্ছে। আমি মনে করি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। তবে আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে, যেসব জায়গায় দুর্বলতা আছে সেগুলোকে সঠিকভাবে বের করে সমাধান করা। যাতে আমরা কাজ করতে পারি। কারণ ক্যান্সারের চিকিৎসা আমাদের দেশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য কাঠামোতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার চেয়ে প্রতিকারকে গুরুত্ব দেয়া হয়। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপগুলো বেগবান করতে কী উদ্যোগ নেবেন?
এটা খুবই জরুরি বিষয়। আমি বার্ন ট্রিটমেন্টে একটা কথা বলি ‘বেস্ট ট্রিটমেন্ট অব বার্ন স্টিল প্রিভেনশন’। আমরা যতই চিকিৎসা করি না কেন আমাদের এটা প্রতিরোধ করতে হবে। সুতরাং ক্যান্সারও এ রকম। আমরা সম্প্রতি জেনেভায় গিয়েছিলাম। সেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালকের সঙ্গে আমাদের যখন কথা হয় তখন আমি তার সঙ্গে বার্নের অ্যাওয়ারনেস (পোড়ার বিষয়ে সচেতনতা) ও ক্যান্সারের বিষয়টি তুলে ধরি। আমাদের সচেতনতায় জোর দিতে হবে। আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলের নারীরা লাজুক। তাদের কোনো ক্যান্সার হলে বিশেষ করে স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে তারা পুরুষ চিকিৎসকের কাছে যেতে চায় না। তারা অন্যান্য চিকিৎসা দিতে যায়। তখন ক্যান্সার এমন পর্যায়ে যায় যে চিকিৎসকের কাছে এলেও তখন কিছুই করার থাকে না। এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের কমিউনিটি ক্লিনিক আছে, সেখানে আমরা যদি নারী চিকিৎসকদের দিয়ে উঠান বৈঠকের মতো বিভিন্ন বৈঠক করি, রোগের ভয়াবহতা ও সচেতনতার বিষয়ে তাদের বোঝাতে পারি ও চিকিৎসকের কাছে আসার জন্য উৎসাহ দিতে পারি তাহলে কাজে আসবে। শুধু স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রেই নয়, অন্যান্য ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও সচেতনতা বাড়াতে হবে। বুকে একটা ছোট ঘা হলো, এই ঘা বড় না হলে তারা ডাক্তারের কাছে যায় না। তারা এমন সময় আসে যখন কিছুই করার থাকে না। আসলে আমাদের জোর দিয়ে কাজ করতে হবে।
আপনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবায় আস্থার সংকট রয়েছে। আস্থার সংকট কাটাতে সরকার নতুন করে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?
আমার কথাটা ছিল এ রকম যে আজকে আমাদের দেশের চিকিৎসকদের যে সামর্থ্য আছে তা অন্য কোনো দেশের চিকিৎসকের থেকে কম নয়। আমাদের দেশের চিকিৎসকদের জ্ঞান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চিকিৎসকদের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন। তাহলে মানুষ কেন বিদেশ যাচ্ছে? যে আস্থাটা প্রয়োজন আমরা সেই আস্থা অর্জন করতে পারছি না। আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। রংপুরে চিকিৎসক কাজ করছেন, সেই সমযোগ্যতা নিয়েই ঢাকায় চিকিৎসক কাজ করছেন। কিন্তু রংপুর থেকে সব রোগী ঢাকায় চলে আসে। এর পেছনে অনেক কারণ আছে। আমাদের দেশে অনেক বড় বড় মন্ত্রী বলেন, অনেকেই একটা কিছু সমস্যা হলেই বিদেশ চলে যান, সাধারণ একটা অপারেশন করতেই বিদেশ চলে যান, আমাদের প্রধানমন্ত্রী কিন্তু যান না। তিনি জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান, চিকিৎসা নেন। আমাদের মন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখতে পারি, তাহলে সাধারণ মানুষও আস্থা রাখবে। এটাই স্বাভাবিক। তা না হলে বলবে আমাদের মন্ত্রী মহোদয়ও এখানে চিকিৎসা করেন না, আমরা কেন করব। এ আস্থা ফিরিয়ে আনতে সবার সমন্বিত চেষ্টা দরকার। চিকিৎসক, নার্স, আপনারা-আমরা সবাই মিলে যদি মানুষকে বোঝাতে পারি, আমাদের দেশে চিকিৎসায় কোনো সমস্যা নেই। আর বিদেশ যাওয়ার কথা বলছেন? মানুষ তো দুর্গা পূজা, ঈদ, বিয়ে, শাড়ি কিনতেও কলকাতায় যায়। বাংলাদেশে কি ভালো শাড়ি পাওয়া যায় না? নিশ্চয়ই পাওয়া যায়। সুতরাং বাইরে যাওয়াকে মানুষ বড় মনে করে। আমি একদিনে তো পারব না, রাতারাতি আমি কোনো কিছুই করতে পারব না। আমি চেষ্টা করব ধীরে ধীরে যেন দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফিরে আসে।
গোটা বিশ্বই সংক্রামক রোগ থেকে অসংক্রামক রোগের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। অসংক্রামক রোগের মধ্যে ক্যান্সারের অবস্থান বাংলাদেশে দ্বিতীয়। ক্যান্সারের চিকিৎসা ও প্রতিরোধের বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপগুলো জানতে চাই।
টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আমরা অনেকাংশে এসব রোগের হার কমিয়ে এনেছি। সংক্রামক কভিড নিয়েই দেখুন, প্রধানমন্ত্রী টিকাদানের যে কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছেন, আমার মনে হয় না এমন উদ্যোগ আশপাশের কোনো দেশ এত সুন্দর করে নিতে পেরেছিল। ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও আমরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, টেকনোলজিস্টসহ দক্ষ জনবল সৃষ্টি করে আমরা এটার বাস্তবায়ন করতে পারব। আমাদের জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট আছে। সেখানে চিকিৎসা হয়। তবে সেখানে কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি অপ্রতুল। চিকিৎসা শুধু ঢাকায় থাকলে হবে না। সারা দেশে এর বিস্তার ঘটাতে হবে। দরিদ্র মানুষ চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসতে পারে না। আমরা চিকিৎসা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। যাতে বিকেন্দ্রীকরণ করতে পারি। প্রতিটি চিকিৎসা কেন্দ্রকে যেন আমরা উন্নত করতে পারি। আমি আগেই বলেছি ক্যান্সার আমার জন্য টপ প্রায়োরিটি (সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার)।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সারের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে ১ লাখ ৮ হাজার মানুষ ক্যান্সারে মারা যায়। আর নতুন ক্যান্সার রোগী শনাক্ত হয় প্রায় দুই লাখ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হিসাবের বাইরেও অনেক ক্যান্সার রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যা রয়েছে। ক্যান্সার রোগী ও মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?
কোনো দেশের একটা প্রকৃত চিত্র তৈরি করতে হলে রেজিস্ট্রি দরকার। কত মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের যে এনসিডিসি (অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ) রয়েছে তার অনেকগুলো পাইলট প্রজেক্ট আছে যেগুলোয় ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ইনসিডেন্স (ঘটনা) নিয়ে কাজ করতে হবে। কত মানুষের ক্যান্সার হয়, সঠিক চিত্র এখনো বাংলাদেশে সেভাবে হয়নি। সেটা নিয়ে আমি কাজ করব, যাতে আমরা সঠিক চিত্র নিয়ে আসতে পারি।
বিশেষায়িত চিকিৎসার ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি সব সুবিধার প্রায় শতভাগ রাজধানীকেন্দ্রিক। দেশের প্রান্তিক মানুষের বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা কী?
আমি প্রথম দিন থেকেই বলে আসছি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ডিসেন্ট্রালাইজেশন বা বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন। এটা আমি সব সময় মনে করি। আমি মন্ত্রী হওয়ার পর দুইটা জায়গায় গিয়েছি। আমার যেটা মনে হলো আমাদের এত সুন্দর সুন্দর অবকাঠামো আছে। আমি সোনারগাঁ উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে গিয়েছি, সেখানে ভবন থেকে শুরু করে প্রতিটি জিনিস এত সুন্দর। যেমন অপারেশন থিয়েটার। আমরা যদি ওইখানে ভালো ব্যবস্থা করতে পারি, তাহলে সেখানের মানুষ ঢাকা আসবে না। এমনকি প্রান্তিকে অঞ্চলে অবকাঠামো থেকে শুরু করে সেখানকার চিকিৎসকদের থাকার ব্যবস্থা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যদি নিশ্চিত করতে পারি আমি নিশ্চিত যে চিকিৎসা করা যাবে, মানুষও চিকিৎসা পাবে। তাহলে ঢাকার ওপর চাপ কমবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর এত ভিড়ে হাঁটার জায়গা থাকে না। চট্টগ্রামেও একই অবস্থা। সুতরাং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাকে ভালো করতে পারলে ঢাকায় চাপ কমে আসবে।
ক্যান্সার চিকিৎসায় একমাত্র বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতাল জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। এর বাইরে পুরনো সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোয়ও চিকিৎসা হয়। তবে তা পরিপূর্ণ নয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ জানতে চাই।
আট বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হৃদরোগ, ক্যান্সার, কিডনির বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য ভবন নির্মাণ চলছে। প্রতিটি বিভাগে এই কাজ শুরু হয়ে গেছে। আর আমি জানি এ প্রকল্পের রিভাইস উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) হয়তো পরবর্তী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় পাস হয়ে যাবে। আমি চেষ্টা করব যত দ্রুত এ প্রকল্পগুলো শেষ করা যায়। এটি মানুষের চিকিৎসার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই দ্রুত এ কাজগুলো শেষ করতে হবে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) তথ্য অনুযায়ী, বছরে সাত লাখ মানুষ চিকিৎসা ভিসায় বিদেশে যায়। এতে প্রায় ৩৫০ কোটি ডলার খরচ হয়। এ হিসাবের বাইরে আরো অনেক বাংলাদেশী বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছে। চিকিৎসায় বিদেশমুখিতার কারণ কী বলে আপনি মনে করেন? দেশে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী করে তুলতে কী পদক্ষেপ নেবে সরকার?
শুধু আস্থা নয়, চিকিৎসা শুধু একটা হাসপাতালের চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করে না। নার্সিং স্টাফ বলেন, প্যারামেডিক বলেন—সবকিছুর ওপরই নির্ভর করে। সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। রোগীর তুলনায় চিকিৎসক কম। অন্যান্য লোকবল কম। সেজন্য পরিপূর্ণভাবে চিকিৎসাটা তারা দিতে পারেন না। বিদেশে যেমন রোগী যায়, আবার বিদেশ থেকেও বাংলাদেশে রোগী আসছে। আমি তিন মাস আগে একটা চিকিৎসক দল নিয়ে ভুটানে গিয়েছিলাম। সেখানে ১৭ জন রোগীর অস্ত্রোপচার করেছি। ভুটান থেকে একটা মেয়ে আমাদের দেশে এসেছে, এখনো চিকিৎসাধীন। সব যে বাইরে যাচ্ছে তা কিন্তু না। বাইরের রোগীও বাংলাদেশে আসছে। এখানে একটা জোড়া মাথার শিশুর অস্ত্রোপচার হয়েছে, সেখানে হাঙ্গেরি থেকে চিকিৎসকরা এসেছিলেন। তবে তারা সেই রোগীকে অ্যানেস্থেসিয়া দিতে পারেননি। আমাদের দেশের চিকিৎসকরা, আমাদের যারা সিনিয়র চিকিৎসক তারাই রোগীর অ্যানেস্থেসিয়া দিতে পেরেছেন। আমি মনে করি আমার চিকিৎসায় সেসব সমস্যা নিয়ে কাজ করি, সেসব নিয়ে বাইরের চিকিৎসকরা চিন্তাও করতে পারেন না। আগুনে পোড়া রোগী তারা দেখলে ভয় পান। আামি বারবার বলি আমাদের দেশের চিকিৎসকদের মেধা অনেক আছে। তাদের সুবিধা দিলে নিশ্চয়ই তারা আরো ভালো করবেন। আমার দুটি বার্তা সব সময় থাকবে। একটি হলো চিকিৎসকদের সুরক্ষা। তবে তাদের অবহেলার কারণে কোনো রোগীর ক্ষতি হলে সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেব। এটা প্রধানমন্ত্রীরই বার্তা।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারি ও বেসরকারি খাতে দক্ষ জনবলের সংকট রয়েছে। ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞের সংকট রয়েছে। এ সংকট কাটানোর জন্য সরকারের পদক্ষেপ কী?
জনবল সংকটের বিষয়টি আমরা ভালোভাবে জানি। মন্ত্রী হওয়ার আগে থেকেই আমি জানি। আমি প্রান্তিক স্বাস্থ্য কাঠামোয়ও কাজ করেছি। এ সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আমি বসব। আমি ক্যান্সারকে অগ্রাধিকার দেব। যাতে তাদের জনবল বাড়ে। শুধু ঢাকায় নয়, চট্টগ্রাম, রংপুর বা অন্যান্য স্থানেও যেন দক্ষ জনবল থাকে সে বিষয়ে আমি নজর দেব।
গ্রামীণ প্রাথমিক স্বাস্থ্য কাঠামোয় কমিউনিটি ক্লিনিক সরকারের একটি বড় সফলতা। প্রান্তিক মানুষকে ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের প্রতি সচেতন করতে এবং তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় আনতে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কিনা।
কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়ে আমাদের ভালো চিন্তা রয়েছে। এখানে প্যারামেডিক নার্স দিয়ে মানুষকে বোঝানো বা প্রাথমিক সচেতনতা বাড়ানো হয়। সচেতনতার বিষয়টা নিয়ে আমি কমিউনিটি ক্লিনিকে বিশেষভাবে জোর দিয়ে কাজ করব। আমি মনে করি ক্যান্সার নিয়ে মানুষকে বোঝানো, কোনো একটা সভার মতো করে মানুষকে সচেতন করতে পারি। প্রধানমন্ত্রীর কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়ে বিশ্বে পুরস্কারও পেয়েছে। আমরা যদি এটাকে ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারি তাহলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মানুষকে সচেতন করতে পারব। একই সঙ্গে আর্লি ডায়াগনোসিস (প্রাথমিকভাবে রোগ নির্ণয়) করার ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা পালন করবে।
বহু বছর ধরে আপনি চিকিৎসা গবেষণা, চিকিৎসাসেবা ও অধ্যাপনায় যুক্ত। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
আসলে সফলতা তো একদিনে সম্ভব নয়। বাংলাদেশে শুধু চিকিৎসা নয়, সব ক্ষেত্রেই কিছু সমস্যা রয়েছে। যেহেতু চিকিৎসার সমস্যা জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাই বিষয়টি মানুষের নজরে বেশি আসে। এ দেশ আমার আপনার সবারই। প্রধানমন্ত্রী দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন। আজকে ঢাকা শহরের মিরপুর থেকে আপনি ১০ মিনিটে এখানে চলে আসতে পারেন। এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে? তাই আমি সবাইকে নিয়ে চেষ্টা করব যেন চিকিৎসাকে একটা ধাপে নিয়ে যাওয়া যায়। ১০০ শতাংশ করা কোনোদিনই সম্ভব না, কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। তবে একটা পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই, যেন মানুষ সহজে চিকিৎসা পায়। সেই লক্ষ্যে আমি কাজ করে যাব।