শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক সেবা এখন বিশ্বব্যাপী বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে

ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (আইএফআইএল) আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। দেশের অর্থনীতিতে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় দুই যুগ ধরে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলছে। এটা অনস্বীকার্য যে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণমূলক অবদান রয়েছে। এ খাতে প্রায় ১৬ লাখ কোটি টাকার আমানত ও ১৪ লাখ

ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (আইএফআইএল) আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। দেশের অর্থনীতিতে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় দুই যুগ ধরে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলছে। এটা অনস্বীকার্য যে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণমূলক অবদান রয়েছে। এ খাতে প্রায় ১৬ লাখ কোটি টাকার আমানত ও ১৪ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। এর মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মোট আমানত রয়েছে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা, আর বিনিয়োগ রয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশীদারত্ব প্রায় ২৩ শতাংশ।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলছে নানা ধরনের প্রতিকূলতা। আমাদের বাংলাদেশও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। বৈশ্বিক মন্দার প্রভাবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের স্বাভাবিক ধারা ব্যাহত করছে ভীষণভাবে। এর প্রথম ধাক্কাটা লেগেছে দেশের আর্থিক খাতে। একটা সময় তো ব্যাংক থেকে আমানত ওঠানোর হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। সাধারণ মানুষ আর্থিক খাতের ওপর আস্থার ব্যাপারে দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিল।

ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোরও একই অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আমাদের সৌভাগ্য যে দেশের প্রথম শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএফআইএল সর্বোত্তম গ্রাহকসেবার মাধ্যমে সব শ্রেণীর গ্রাহকের শতভাগ আস্থা ধরে রাখতে পেরেছে। বিশেষত ২০২২ ও ২০২৩ সালে বিভিন্ন কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগোতে হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত এ অবস্থার তেমন উত্তরণ ঘটেনি। মার্কেটে আমানত সংগ্রহের হার কমে গিয়েছিল। এ প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আইএফআইএল এ সময়ে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা নতুন আমানত সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের ওপর যে গ্রাহকদের বিশ্বাস, আস্থা ও নির্ভরতা রয়েছে এটা তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ।

শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় আইএফআইএল সবসময় প্রতিযোগিতামূলক মুনাফায় বিশ্বাসী। গ্রাহক যাতে হালাল ও ঝুঁকিমুক্ত সর্বোচ্চ রিটার্ন পায় সেদিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় আইএফআইএল। সঙ্গে সঙ্গে এর ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সামগ্রিক কার্যক্রমে শরিয়াহ পরিপালনকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। আমাদের শরিয়াহ বোর্ডে রয়েছেন দেশসেরা ইসলামী স্কলার ও মুফতিগণ, যারা শরিয়াহ পরিপালনের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল। আইএফআইএলের বিজ্ঞ পরিচালনা পর্ষদও শরিয়াহ মোতাবেক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে বদ্ধপরিকর। এক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতা করে বাংলাদেশ ব্যাংকও।

আইএফআইএল তার বৈচিত্র্যময় আমানত ও বিনিয়োগ পণ্যের কারণে অনেক আগেই দেশব্যাপী বেশ পরিচিতি লাভ করেছে, যা আর্থিক সেক্টরে আইএফআইএলকে এক অনন্য স্বাতন্ত্র্য এনে দিয়েছে। মার্কেটে যতগুলো আমানত স্কিম রয়েছে সেগুলো তো আইএফআইএলের আছেই, এছাড়া আরো কিছু গ্রাহকবান্ধব আমানত স্কিম রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আমানত স্কিমগুলো হলো: মুদারাবা আসান ডিপোজিট স্কিম (যেকোনো সময় যেকোনো পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করার স্কিম), মুদারাবার মুহসিনাত মাসিক মুনাফা প্রকল্প (নারী গ্রাহকদের জন্য অধিক মুনাফা লাভের ডিপোজিট স্কিম), মুদারাবা উমরা ডিপোজিট স্কিম, মুদারাবা সিনিয়র সিটিজেন ডিপোজিট স্কিম, মুদারাবা পেশাজীবী ডিপোজিট স্কিম, মুদারাবা হজ ডিপোজিট স্কিম, মুদারাবা ক্যাশওয়াকফ ডিপোজিট স্কিম ইত্যাদি। এছাড়া রয়েছে গ্রাহকবান্ধব বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ পণ্য।

আমানত পণ্যগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মোট আমানতের বিপরীতে গ্রাহকের কোনো ধরনের অতিরিক্ত খরচ ব্যতীত উত্তোলন (সাহবুল ফুলুস) সুবিধা রয়েছে। আমানতের ক্ষেত্রে একজন গ্রাহক সাধারণত তিনটা বিষয়ের নিশ্চয়তা চান। এগুলো হচ্ছে: আমানতের মূল স্থিতিসহ মুনাফার নিশ্চয়তা, হালাল মুনাফা এবং বাজারের প্রতিযোগিতামূলক মুনাফার হার। আর এর প্রতিটিই আইএফআইএল যথাযথভাবে নিশ্চিত করে।

হালাল অর্থনীতি বা শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক সেবা এখন বিশ্বজুড়ে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণ প্রকৃত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং করা হলে বা সুদমুক্ত লেনদেন নিশ্চিত করা হলে আর্থিক প্রবৃদ্ধির চাকা সব সময় সচল থাকে, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয় না। ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডও হালাল লেনদেনের এক বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান। এখানে টাকার বিনিময়ে টাকার লেনদেন হয় না, বরং গ্রাহকের আমানতের অর্থ হালাল ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমে যে মুনাফা অর্জিত হয় তা থেকে প্রভিশনাল হারে আমানতের মুনাফা দেয়া হয় এবং বছর শেষে প্রকৃত মুনাফার ভিত্তিতে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মুনাফা গ্রাহকের হিসাবে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের কাছে গ্রাহকরা এ অনন্য সুবিধাগুলোর নিশ্চয়তা পায় বলেই অর্থনীতির সংকটকালেও তারা আমাদের সঙ্গ ত্যাগ করেননি। এজন্য আমাদের সম্মানিত গ্রাহকদের জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। আশা করি, সামনের দিনগুলোয়ও গ্রাহকরা হালাল ও সেরা মুনাফা প্রাপ্তির জন্য আইএফআইএলকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেবেন, ইনশা আল্লাহ।

আরও