রান্নাঘরকে ঝকঝকে ও স্বস্তিকর রাখে কিচেন হুড

বাসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রান্নাঘর। এটি ঝকঝকে থাকলে সবারই ভালো লাগে। আবার রান্নাঘর অপরিষ্কার থাকলে রান্নায় মন লাগে না। স্যাঁতসেঁতে ও অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর রান্নার মানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্বাস্থ্যের জন্যও তা ক্ষতিকর। রান্নাঘর রুচির পরিচয় বহন করে। ছিমছাম ও গোছানো রান্নাঘর উন্নত মানসিকতার দিকে ইঙ্গিত করে। আর রান্নাঘর বা কিচেন পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে অন্যতম

বাসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রান্নাঘর। এটি ঝকঝকে থাকলে সবারই ভালো লাগে। আবার রান্নাঘর অপরিষ্কার থাকলে রান্নায় মন লাগে না। স্যাঁতসেঁতে ও অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর রান্নার মানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্বাস্থ্যের জন্যও তা ক্ষতিকর। রান্নাঘর রুচির পরিচয় বহন করে। ছিমছাম ও গোছানো রান্নাঘর উন্নত মানসিকতার দিকে ইঙ্গিত করে। আর রান্নাঘর বা কিচেন পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে অন্যতম সহায়ক ভূমিকা পালন করে কিচেন হুড।

চুলার তাপে তেল-মসলা বাষ্পীভূত হয়। সেগুলো একটু একটু করে রান্নাঘরের দেয়াল ও সিলিংয়ে জমা হয়। ফলে রান্নাঘরের বিভিন্ন অংশ চিটচিটে হয়ে যায়। তাছাড়া আগুনের আঁচে কালচে ভাব ও আর্দ্রতার কারণে রান্নাঘরের সৌন্দর্য নষ্ট হয়। ভ্যাপসা গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। তাই আগের দিনে এসব সমস্যা থেকে রান্নাঘরকে রক্ষা করতে চুলার ওপর খানিক খোলা জায়গা রাখা হতো। তা দিয়ে রান্নাঘরের তাপ সম্পূর্ণ বেরিয়ে যেত। অনেক সময় খোলা অংশে চিমনিও বসানো হতো। কিন্তু আধুনিক বাসায় তো এ ধরনের খোলা জায়গা রাখা বা চিমনি বসানো সম্ভব নয়। তাই রান্নাঘরের সৌন্দর্য রক্ষায় বিকল্প হিসেবে কিচেন হুডের ব্যবহার শুরু হয়েছে। এ হুড রান্নাঘর থেকে সবটুকু বাষ্প বের করে দেয়। ফলে রান্নাঘরের সৌন্দর্য রক্ষা পায়। রান্নাঘরের দেয়াল ও সিলিং থাকে ঝকঝকে পরিষ্কার। ধোঁয়া, রান্নার গন্ধ এবং অন্যান্য বায়ুবাহিত কণা অপসারণ করে কিচেন হুড রান্নাঘরকে গুণগত মান ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ প্রদান করে। রান্নার ফলে সৃষ্ট দূষিত বাতাস পরিশোধন করে কিচেন হুড রান্নাঘরের বাতাস দুর্গন্ধ মুক্ত রাখে। রান্নার ফলে অনেক সময় বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ তৈরি হতে পারে। বাতাস থেকে কিচেন হুড এসব পদার্থ অপসারণ করে। ফলে রান্নাঘরে আগুন লাগার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। রান্নার সময় রান্নাঘরে অনেক তাপ ও বাষ্প উৎপন্ন হয়। ফলে রান্নাঘরে থাকতে বেশ অস্বস্তি হয়। কিচেন হুড রান্নাঘরের অতিরিক্ত তাপ ও আর্দ্রতা অপসারণ করে রান্নাঘরের পরিবেশকে আরামদায়ক করে। রান্নার সময় উৎপন্ন ধোঁয়া, বাষ্প ও তেলজাতীয় পদার্থ ক্যাবিনেট ও দেয়ালে জমা হয়। তা পরিষ্কার করা বেশ কঠিন। কিচেন হুড এ সমস্যা বহুলাংশে কমিয়ে দেয়।

চাহিদা, রান্নাঘরের আকার ও বাজেটের ওপর নির্ভর করে কিচেন হুড বিভিন্ন ধরনের হয়। রান্নাঘরের দেয়ালে বা চুলা বরাবর ওপরের দেয়ালের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায় ওয়াল মাউন্টেড হুড। চুলার ওপরে ক্যাবিনেটের নিচে সংযুক্ত করা হয় আন্ডার ক্যাবিনেট হুড। চুলার ওপরে ছাদ থেকে ঝুলিয়ে আইল্যান্ড হুড ব্যবহার করতে হয়। চুলার পেছনে বা পাশে ডাউনড্রাফট হুড ইনস্টল করা যায়। তবে ডাক্টলেস হুড বাতাস বাইরে বের করার পরিবর্তে পরিশোধন করে পুনরায় রান্নাঘরে সঞ্চালন করে। বাংলাদেশে ৮-৫০ হাজার পর্যন্ত মূল্যে বিভিন্ন ধরন, আকার ও ব্র্যান্ডের কিচেন হুড পাওয়া যায়।

চুলার আকার বিবেচনা করে হুড বাছাই করতে হবে। এক্ষেত্রে হুডের ধরন, সাকশন পাওয়ার, নয়েস রিডাকশন লেভেল, ফিল্টার টাইপ, ডিজাইন ইত্যাদি যাচাই করে নিতে হবে। 

রান্নাঘরকে পরিষ্কার ও স্বস্তিকর রাখতে বর্তমানে কিচেন হুডের বিকল্প নেই। এটি হয়ে উঠেছে স্মার্ট কিচেনের অন্যতম অনুষঙ্গ।  

আরও