যেসব পথ ধরে চলবে বাকি পাঁচ মেট্রোরেল

পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকায় মোট ছয়টি ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন তৈরি করা হবে। এর মধ্যে সিরিয়ালে থাকা শেষটির (এমআরটি লাইন-৬) উদ্বোধন দিয়ে শুরু হয়েছে মেট্রোরেলের স্বপ্নযাত্রা। দেশের যোগাযোগ খাত প্রবেশ করেছে নতুন এক যুগে। ঢাকার প্রথম মেট্রো লাইনটি উত্তরা উত্তর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার বিস্তৃত। ঢাকা

পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকায় মোট ছয়টি ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন তৈরি করা হবে। এর মধ্যে সিরিয়ালে থাকা শেষটির (এমআরটি লাইন-) উদ্বোধন দিয়ে শুরু হয়েছে মেট্রোরেলের স্বপ্নযাত্রা। দেশের যোগাযোগ খাত প্রবেশ করেছে নতুন এক যুগে। ঢাকার প্রথম মেট্রো লাইনটি উত্তরা উত্তর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার বিস্তৃত। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত লাইনটির সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৮৪ শতাংশ। প্রথম পর্যায়ে উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে আগারগাঁও অংশের পূর্তকাজের অগ্রগতি অবশ্য প্রায় শতভাগ। দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণের জন্য নির্ধারিত আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের পূর্তকাজের অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ। তবে পুরো কাজই ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকায় এর বাইরে এমআরটি লাইন-, এমআরটি লাইন-, এমআরটি লাইন-: নর্দান সাউদার্ন রুট এবং এমআরটি লাইন- নামে আরো পাঁচটি মেট্রো নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত নির্মাণ হচ্ছে এমআরটি- প্রকল্পটি। ৩১ দশমিক ২৪১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মেট্রোরেলটি বাস্তবায়নে খরচ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা, যার সিংহভাগ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে টাকার অংকে মেট্রো হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রকল্প। লাইনটি অবশ্য দুটি অংশে বিভক্ত। একটি অংশ বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত, যাকে বলা হবে বিমানবন্দর রুট। দ্বিতীয় অংশ নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ ডিপো, যার নাম হবে পূর্বাচল রুট।

বিমানবন্দর রুটের মোট দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৮৭২ কিলোমিটার। আর রুটেই দেশের প্রথম পাতাল বা আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল নির্মাণ হতে যাচ্ছে। মোট পাতাল স্টেশন হবে ১২টি। সেগুলো হলো বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-, খিলক্ষেত, যমুনা ফিউচার পার্ক, নতুন বাজার, উত্তর বাড্ডা, বাড্ডা, হাতিরঝিল পূর্ব, রামপুরা, মালিবাগ, রাজারবাগ কমলাপুর। অন্যদিকে পূর্বাচল রুটের মোট দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৩৬৯ কিলোমিটার। সম্পূর্ণটি হবে উড়াল এবং স্টেশন সংখ্যা নয়টি। এর মধ্যে সাতটি উড়াল এবং নদ্দা নতুন বাজার স্টেশন দুটি বিমানবন্দর রুটের অংশ হিসেবে হবে পাতাল স্টেশন। নতুন বাজার স্টেশনে এমআরটি লাইন : নর্দান রুট থেকে পূর্বাচল রুটে এবং পূর্বাচল রুট থেকে বিমানবন্দর যাওয়া যাবে।

এমআরটি লাইন--এর প্রথম অংশ ২০২৫ সালে এবং দ্বিতীয় অংশের কাজ ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে পাতালরেলের ডিপোর নির্মাণকাজ পেয়েছে জাপানের টোকিও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের জয়েন্ট ভেঞ্চার। মেট্রো প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হবে ১২টি প্যাকেজের মাধ্যমে। এর মধ্যে প্যাকেজ--এর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পিতলগঞ্জ মৌজায় ৮৮ দশমিক ৭১ একর জমি ডিপো নির্মাণের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৬০৭ কোটি টাকার চুক্তি সম্পন্ন করেছে ডিএমটিসিএল।

এমআরটি লাইন-: নর্দান বা হেমায়েতপুর-ভাটারা মেট্রোর গতিপথ পড়েছে ঢাকার আরেক প্রবেশদ্বার হেমায়েতপুরে। দেশের উত্তর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবহনগুলোর একটা বড় অংশ ঢাকায় প্রবেশ করে হেমায়েতপুর দিয়ে। শহরের ভেতরে মেট্রো তৈরি করা হবে গাবতলী, মিরপুর-১০, কচুক্ষেত, বনানী, নতুনবাজার সড়কের নিচ দিয়ে। আর হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার এবং নতুনবাজার থেকে ভাটারা অংশ তৈরি করা হবে বিদ্যমান সড়কের ওপর দিয়ে। সড়ক ঢাকার অন্যতম ব্যস্ততম। পাতাল উড়াল সমন্বয়ে লাইনটির দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ৫০ পাতাল দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়াল। পাতাল অংশে নয়টি উড়ালে পাঁচটিসব মিলিয়ে মোট ১৪টি স্টেশন নির্মাণ হবে। এর মধ্যে মাটির নিচে স্টেশন থাকবে যথাক্রমে গাবতলী, দারুস সালাম, মিরপুর-, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৪, কচুক্ষেত, বনানী, গুলশান- নতুনবাজার। প্রকল্পটির কাজ ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা সরকারের। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা। প্রকল্পেও ঋণসহায়তা দিচ্ছে জাইকা।

এমআরটি লাইন-: সাউদার্ন রুটটি ২০৩০ সালের মধ্যে নির্মাণের পরিকল্পনা। এটি গাবতলী থেকে আফতাবনগর পশ্চিম পর্যন্ত ১২ দশমিক ৮০ কিলোমিটার পাতাল আফতাবনগর সেন্টার থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত দশমিক ৬০ কিলোমিটার হবে উড়াল। মোট দৈর্ঘ্য ১৭ দশমিক ৪০ কিলোমিটার। লাইনে স্টেশন হবে ১৫টি। এর মধ্যে ১১টি পাতাল চারটি উড়াল।

গাবতলী থেকে নিউমার্কেট, গুলিস্তান, কমলাপুর, সাইনবোর্ড হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত সম্ভাব্য মেইন লাইন এবং গোলাপশাহ মাজার থেকে সদরঘাট পর্যন্ত ব্রাঞ্চ লাইনের সমন্বয়ে এমআরটি- নির্মাণের লক্ষ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য উন্নয়ন-সহযোগী সংস্থা খোঁজা হচ্ছে। ডিপো ডিপো অ্যাকসেস করিডোর এবং কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড নির্মাণের জন্য ঢাকার ডেমরা এলাকায় মাতুয়াইল দামড়িপাড়া মৌজায় গ্রীন মডেল টাউন এবং আমুলিয়া মডেল টাউনের মধ্যবর্তী স্থানে মোট ৬৫ হেক্টর ভূমিও এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমআরটি লাইন- এর কাজও ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ হবে বলে ডিএমটিসিএলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রুটটি কমলাপুর থেকে সাইনবোর্ড হয়ে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত উড়াল পাতালের সমন্বয়ে নির্মাণ হবে।

এছাড়া ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর নরসিংদী জেলাকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে এমআরটি- লাইনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ মহানগরীকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে এমআরটি লাইন--কে একদিকে গাজীপুর মহানগরী পর্যন্ত, অন্যদিকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বর্ধিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে উত্তরা থেকে বিমানবন্দর হয়ে কমলাপুর দিয়ে মিরপুর হয়ে উত্তরা পর্যন্ত -এর সমন্বয়ে একটি চক্রাকার মেট্রোরেল রুট তৈরি হবে। এমআরটি লাইন--কে আবার পূর্ব দিকে বর্ধিত করে নরসিংদীর মাধবদী পর্যন্ত দক্ষিণ দিকে মুন্সিগঞ্জের ঝিলমিল পর্যন্ত নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এমআরটি লাইন-: নর্দানকে সভারের নবীনগর হয়ে বাইপাইল পর্যন্ত বর্ধিত করার পরিকল্পনাও আছে সরকারের। নারায়ণগঞ্জের বরপা হয়ে ভুলতা পর্যন্ত নিয়ে যওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এমআরটি লাইন-: সাউদার্নকে। এরই ধারাবাহিকতায় মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ নরসিংদী জেলা শহরকেও মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে।

আরও