দ্য ক্রুয়েল বার্থ অব বাংলাদেশ

মার্কিন কূটনীতিকের বয়ানে বাংলাদেশের অভ্যুদয়

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আমেরিকান কনসাল জেনারেল ছিলেন আর্চার কে. ব্লাড। দায়িত্ব পালনকালে ওয়াশিংটনের অবস্থানের বাইরে গিয়ে যেভাবে সত্যের পক্ষে নীরব লড়াই চালিয়ে গেছেন, তা বিরল উদাহরণ স্থাপন করেছে। নবীন একটি দেশের জন্ম প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করে তিনি বাংলাদেশীদের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। স্বাধীনতার প্রায় তিন দশক পর

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আমেরিকান কনসাল জেনারেল ছিলেন আর্চার কে. ব্লাড। দায়িত্ব পালনকালে ওয়াশিংটনের অবস্থানের বাইরে গিয়ে যেভাবে সত্যের পক্ষে নীরব লড়াই চালিয়ে গেছেন, তা বিরল উদাহরণ স্থাপন করেছে। নবীন একটি দেশের জন্ম প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করে তিনি বাংলাদেশীদের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। স্বাধীনতার প্রায় তিন দশক পর প্রকাশিত দ্য ক্রুয়েল বার্থ অব বাংলাদেশ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য সংযোজন। এর মাধ্যমে উঠে এসেছে ওয়াশিংটনের কদর্য অবস্থান এবং তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে সত্য চিত্র প্রকাশ করে যাওয়া এক কূটনীতিকের অসম লড়াই। ১৯৬০-এর দশকে পূর্ব পাকিস্তান এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে তেতো-মিঠা প্রেম শুরু হয় ব্লাডের। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন বাংলাদেশের আন্তরিক বন্ধু। স্বাধীনতার ২৫ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন সফল এ মার্কিন কূটনীতিক।

বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অন্তরঙ্গ ও পারিবারিক সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে দ্য ক্রুয়েল বার্থ অব বাংলাদেশ বইয়ে। ২০০২ সালে প্রকাশিত বইটির ভূমিকা লিখেছেন বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ১৯৬০-এর দশকে নবীন সরকারি আমলা মুহিতের সঙ্গে পরিচয় ও সম্পর্কের সূত্রপাত ব্লাড পরিবারের। তাদের সম্পর্ক এমন গভীর ছিল যে মুহিত সাহেবের বিয়েতে হাতেগোনা যে কয়েকজন বিদেশী অংশগ্রহণ করেছে, তার মধ্যে রয়েছে আর্চার কে. ব্লাড ও তার পরিবার। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন আর্চার কে. ব্লাডের স্ত্রী ম্যাগ। প্রচ্ছদ দেখে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক ওই ভিনদেশী রমণী কীভাবে বাংলাদেশের এমন নিখুঁত পাঠ করলেন? কী আছে প্রচ্ছদটায়? উত্তাল নদী বা সমুদ্রে একটি নৌকা। নৌকার পেছনের অংশে একজন মাঝি একটা লগি হাতে ভর দিচ্ছেন। সামনের অংশে আরেকজন বৈঠা হাতে দাঁড়িয়ে। নৌকার মাঝখানটা যেন তাড়ি দেয়া খেজুর গাছের মতো। কিংবা কোনো ক্ষুধার্ত চাষা বা মাঝির চিমসে যাওয়া পেটের মতো। নৌকাটা ভাসছে উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে। দুজন নৌকাটাকে গন্তব্যে নেয়ার চেষ্টায় রত। কোনো কিনারা দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু দুজনের লগি ও বৈঠা ধরার ভঙ্গিতে দৃঢ়তার ছাপ স্পষ্ট। তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার নয়। প্রচ্ছদে যেন বাংলাদেশের জন্ম প্রক্রিয়ার উত্তাল দিনগুলোর রূপক প্রকাশ করেছেন ম্যাগ ব্লাড।

২৪টি চ্যাপ্টারে বিভক্ত বইটিতে বাংলাদেশের প্রতি সংবেদনশীল একজন কূটনীতিকের ভাষায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের জন্মকালের কঠিন ও রক্তাক্ত কথামালা। কীভাবে প্রকৃতি ও রাজনীতিতে ঝড় জমল এবং তা নেমে এল পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ওপর, বান কীভাবে ডাকল এবং ভাসিয়ে দিয়ে গেল শত্রু-মিত্র সবাইকে, তার বর্ণনা পাব। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঢাকাস্থ কনস্যুলেট অফিস কী কী বার্তা আদান-প্রদান করেছে তা খুব গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে আমাদের জন্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা, তৎকালীন ঘটনাপ্রবাহে মার্কিন অবদান, মার্কিন নীরবতার স্বাক্ষর পাব বইটিতে।

বইটির শুরুতে ১৯৭১-এর ট্র্যাজিক নাটকের প্রধান তিন চরিত্র নিয়ে কথা বলেছেন। জেনারেল ইয়াহিয়া ও ভুট্টোর চরিত্র সুন্দরভাবে এঁকেছেন। প্রধান চরিত্র শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর আলো ফেলেছেন। ব্লাডের বর্ণনায় শেখ মুজিবের যে রূপ ফুটে উঠেছে তা ‘মিথ থেকে বেরিয়ে এসে শেখ মুজিবের একেবারে যথার্থ ভার্সন এসেছে’ বলে মনে করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। অবশ্য কিছু বর্ণনা অনেককে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।

দায়িত্ব থেকে ডিসমিস হওয়ার আগ পর্যন্ত চোখে যা দেখেছেন এবং অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে যা উপলব্ধি করেছেন, রাষ্ট্রীয় পলিসির বিপক্ষে দাঁড়িয়ে একজন পর্যবেক্ষকের সততা নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের চিত্র উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন ব্লাড।

বইটির ‘বার্থ অব এ নেশন’ অধ্যায়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা সংগ্রামের তুলনা করা হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য ভারতের হস্তক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ফ্রান্সের হস্তক্ষেপের তুলনা করেছেন। বাংলাদেশ ও এ দেশের মানুষের সঙ্গে আত্মীয়তার ক্ষেত্রে ব্লাডের এ মনোভাব ভূমিকা রেখেছে। ১৯৭০-এর ভয়ানক সাইক্লোন বিশেষ আলো পেয়েছে বইটিতে। প্রকৃতিও যেন এ ভূখণ্ডের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সাইক্লোনের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। পাকিস্তানের অধীনে কেন থাকা যাবে না, তার বড় শর্ত তৈরি করে দিল সত্তরের সাইক্লোন।

তৃতীয় অধ্যায়ে ‘বাংলাদেশ’ নাটকের চরিত্রগুলোর কথা এসেছে। বাংলাদেশ জন্ম প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কুশীলবদের কথা উঠে এসেছে ব্লাডের বর্ণনায়; বিশেষ করে জুলফিকার আলি ভুট্টো, শেখ মুজিবুর রহমান, ভাসানী, ইয়াহিয়াসহ অন্যান্য চরিত্র একজন কূটনীতিকের কাছে কীভাবে আবির্ভূত হয়েছিলেন তার বর্ণনা। তবে ইয়াহিয়া, ভুট্টো ও মুজিব চরিত্র বিশ্লেষণ করেছেন গভীরভাবে।

ভুট্টোকে নিয়ে প্রথম কথা হচ্ছে—রুপার চামচ মুখে দিয়ে কারো জন্ম হলে তিনি হচ্ছেন ভুট্টো। সিন্ধু প্রদেশে ছিল তাদের বিশাল জমিদারি, শিক্ষা গ্রহণ করেছেন পাশ্চাত্যে, অল্প বয়সে স্থান পান আইয়ুব খানের মন্ত্রিসভায়। ১৯৬১ সালে ভুট্টোর সঙ্গে প্রথম ও একমাত্র সাক্ষাতে একটি শব্দে ভুট্টো চরিত্রকে প্রকাশ করেছেন ব্লাড। শব্দটা ছিল ‘বিদ্বেষপরায়ণ’ বা ‘হিংসুটে’।  

ওয়াশিংটনে পাঠানো একটি টেলিগ্রামে চারটি পয়েন্টে শেখ মুজিবের চরিত্র বিশ্লেষণ করেছেন ব্লাড। মুজিব চরিত্র বিশ্লেষণে তার সাফল্য-ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে কাজে দেবে। একটা পয়েন্টে ব্লাড লেখেন, শেখ সাহেবের কথায় বারবার ‘মাই পিপল, মাই ল্যান্ড (ভূমি), মাই ফরেস্টস (বন), মাই রিভার্স (নদী)’ আসে। নিজেকে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের আকাঙ্ক্ষার পার্সোনিফিকেশন মনে করতেন মুজিব।

মুজিবের অবয়ব (লুক) থেকেই তার ক্ষমতা বোঝা যায় তিনি একেবারে সাধারণের মাঝখান থেকে উঠে এসেছেন তার শক্ত ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে। অধিকাংশ বাঙালির চেয়ে তিনি লম্বা এবং চওড়া। সুদর্শন এবং সুন্দর চোখের মানুষ। চশমা ও গোঁফ তার ব্যক্তিত্বের ভার বাড়িয়ে দিয়েছে। তাকে কখনো ওয়েস্টার্ন পোশাকে দেখেননি ব্লাড।

বইয়ের ৫৩ পৃষ্ঠায় একটি টেলিগ্রামে মুজিব ও আওয়ামী লীগ নিয়ে ব্লাডের বিশ্লেষণ উঠে এসেছে। কীভাবে মুজিব সবকিছুর কেন্দ্রে আছেন। দলে বিকল্প রয়েছে কিনা, মুজিবের অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ফাংশন করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। এক ব্যক্তির ওপর সব ক্ষমতা ও ফোকাস কেন্দ্রীভূত হওয়ার সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা আছে ব্লাডের ওয়াশিংটনে পাঠানো সে সময়ের টেলিগ্রামে।

১৯৭০-এর ঘূর্ণিঝড় পাকিস্তানের অখণ্ডতাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের মতে, ওই ঘূর্ণিঝড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। পাকিস্তান সরকারের হিসাবে অবশ্য এ সংখ্যা ছিল মাত্র ১৬ হাজার। কতটা দায়সারা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ছিল পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী, প্রেসিডেন্টের আচরণে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সামরিক জান্তাপ্রধান ইয়াহিয়া খান হেলিকপ্টার দিয়েও ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণে যাননি। প্রায় তিন হাজার ফুট উঁচু দিয়ে বিমানে করে ঘুরে আসেন তিনি। ঢাকায় এসে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বলেন, পরিস্থিতি ততটা খারাপ মনে হচ্ছে না (ইট ডিডনট লুক সো ব্যাড!)। পাকিস্তান তখনই তার বৈধতা হারিয়ে ফেলেছে বলে মনে করি। ঘূর্ণিঝড়ে দেশের একটি অংশে কয়েক লাখ মানুষ মারা গেল, সে দেশের প্রেসিডেন্ট তাতে খারাপ কিছু দেখেন না, পরিস্থিতি সামলানোর আন্তরিক চেষ্টা চলান না তখন ভৌগোলিকভাবে বিভাজিত দুটি ভূখণ্ড একসঙ্গে থাকার যৌক্তিকতা হারায়।

প্রাকৃতিক ঝড়ের মাসখানেক পরই পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়। ৭ ডিসেম্বরের নির্বাচনে পাকিস্তানের দুই অংশে দুই দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, বিভাজিত আকাঙ্ক্ষার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে সরকার গঠন ও সংবিধান প্রণয়ন নিয়ে শুরু হয় রক্তাক্ত রঙ্গমঞ্চের সূচনা। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান কীভাবে ভুট্টোর কূটচালের ফাঁদে পড়ছেন, সে ব্যাপারে এক টেলিগ্রামে ব্লাড লেখেন, ভুট্টোর ব্ল্যাকমেইলের কাছে নতি স্বীকার করেছেন ইয়াহিয়া। আরো একবার পশ্চিম পাকিস্তানের উদ্বেগের বলি হলো পূর্ব পাকিস্তানের স্বার্থ। ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের ভাষণের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, আমার মনে হচ্ছে অখণ্ড পাকিস্তানের শেষ পর্ব প্রত্যক্ষ করছি আমরা। সুন্দর রিপোর্টিংয়ের জন্য প্রশংসার পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাকিস্তান ডেস্ক থেকে তাকে মৃদু ভর্ত্সনাও করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থান বাংলাদেশের জন্য অনেক ক্ষতি করেছে। ব্লাড তার বইয়ে কসোভো ও বাংলাদেশের মধ্যে তুলনা করেছেন। কসোভোয় কয়েক হাজার মানুষ মারা গেলে ওয়াশিংটনকে বেশ তোড়জোড় করতে দেখা যায়। কিন্তু বাংলাদেশে কয়েক মিলিয়ন মারা গেলেও মার্কিন সুনজর পড়েনি? নিজেদের প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থানকে নিয়ে ব্লাড বলেন, কসোভোর মানুষ দেখতে অনেকটা আমাদের মতো। এছাড়া কৌশলগত দিক থেকে বাংলাদেশের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবস্থান কসোভোর।

ব্লাডের সাহসী অবস্থান উঠে আসে আরো একটি জায়গায়। ওয়াশিংটন যেখানে পূর্ব পাকিস্তানের লড়াইকে বেঙ্গলি সেপারেটিস্ট বা বাঙালি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লড়াই হিসেবে দেখছে, তখন ব্লাড অনেকটা বিদ্রোহ করে শুধু বেঙ্গলি কিংবা বেঙ্গলি ন্যাশনালিস্টস লিখতেন। সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনায় এ শব্দ ব্যবহার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অনেক উপকারে এসেছে।     

আমেরিকা চুপ থেকে পাকিস্তানি জান্তার কাছে অস্ত্র বিক্রি করে, দর্শকের ভূমিকা রেখে, মুক্তিযুদ্ধের কথা ধামাচাপা দিয়ে রাখার ব্যাপারে সহায়তা করে আমাদের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। ঢাকায় মার্কিন কনসাল জেনারেল অনেকটা স্রোতের বিপরীতে লড়াই করেছেন। আর্চার কে. ব্লাডের ঢাকা অবস্থানের ক্লাইমেক্স তার ডিসমিস হওয়া। কূটনীতিক ভাষায় তাকে ‘হোম লিভ’ নিতে বলা হলেও তার ভাষায় সেটা ছিল ‘ডিসমিস’।  আর্চার কে. ব্লাড অবশ্য ডিসমিস হয়ে নিজের কাছে নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছেন। তা না হলে একটি ভূখণ্ডের মানুষের ন্যায্য সংগ্রামকে স্বীকার না করার কারণে সারা জীবন অনুশোচনা করতে হতো।

বইটির শেষ দিকে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ব্লাডের আশাবাদ যেন আমাদের আশাবাদেরই প্রতিধ্বনি। নিরপেক্ষ পরামর্শক ও পর্যবেক্ষক হিসেবে বইটির শেষ প্যারায় ব্লাড বেশ কয়েকটি বিষয়ে জোর দেন। তিনি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করার ওপর জোর দেয়ার কথা বলেন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যে জরুরি সেটা উল্লেখ করেন। যে রক্তাক্ত ও নির্মম যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে তা ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না। বাংলাদেশ নিয়ে আশাবাদের কেন্দ্রে এ দেশের মানুষ; যারা মেধাবী, পরিশ্রমী ও আকর্ষণীয়।

 

সাবিদিন ইব্রাহিম: লেখক ও সাংবাদিক

 

আরও