এলপি গ্যাসের বাজার এখন
৩২ হাজার
কোটি টাকার। প্রতিনিয়ত পণ্যটির বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে
অসম একটা
প্রতিযোগিতা লক্ষ
করা যাবে।
এক্ষেত্রে বাজারে এক ধরনের
অস্থিরতা দেখা
যাচ্ছে। এ
ধরনের সংকট
কমাতে লোয়াবের পরিকল্পনা কী?
এলপিজি নীতিমালা
হয় ২০১৬-১৭
সালে। ২০১৬
সালে খসড়া
নীতিমালা হয়েছিল।
২০১৭ সালে
চূড়ান্ত করা
হয়। কিন্তু
নীতিমালায় যে
বিষয়গুলো ছিল
তা মানতে
চাচ্ছে না
কেউই। নীতিমালায়
আছে কমপক্ষে
পাঁচ হাজার
টন এলপিজির
ইনস্টলেশন করতে
হবে। এ
পরিমাণ মজুদ
না থাকলে
সারা দেশে
সরবরাহ করা
সম্ভব হবে
না। এলপিজি
ধান বা
চালের মতো
পণ্য না।
এখানে সব
জায়গায় বিনিয়োগ
করতে হবে।
বাংলাদেশের প্রত্যন্ত
অঞ্চলে যদি
এলপিজি সরবরাহ
করতে হয়,
সব জায়গায়
একটা ফ্যাসিলিটি
তৈরি করতে
হবে। যদি
কোনো উদ্যোক্তা
এটা না
করেন তাহলে
এখানে কাজ
করা সম্ভব
হবে না।
এলপিজির সবচেয়ে
বড় চ্যালেঞ্জ
হলো স্টোরেজ
ও ইমপোর্ট।
আমাদের নিজস্ব
কোনো এলপিজি
নেই। রিফাইনারি
থেকে ১৫
হাজার টন
আসে। বিপিসির
নিয়ন্ত্রণাধীন এলপি
গ্যাস কোম্পানি
বিতরণ করে,
যা শতকরা
২ ভাগের
বেশি না।
এজন্য আমরা
মনে করি,
এ ধরনের
ইনস্টলেশন করতে
হলে সব
জায়গায় স্যাটেলাইট
করতে হবে।
বার্জে করে
নিয়ে যেতে
হবে। গ্যাসের
মতো অবকাঠামো
নির্মাণ করতে
হবে। যেখানে
গ্যাসের সিলিন্ডার
নেয়া যাবে
না, সেখানে
লাইনের ব্যবস্থা
করতে হবে।
পাইপের মাধ্যমে
যে সংযোগ
দেয়া হয়
এটাকে আমরা
বলি রেটিকুলেটেড
সিস্টেম। এখন
এ ব্যবস্থায়
বেশির ভাগ
অ্যাপার্টমেন্টে সংযোগ
দেয়া হচ্ছে।
কিন্তু একক
বাড়িতে পাওয়া
যাচ্ছে না।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর
একটা হচ্ছে
ইমপোর্ট। এরপর
স্টোরেজ, এটা
খুব ব্যয়বহুল।
এরপর বিতরণের
জন্য এলপিজি
সিলিন্ডার লাগবে।
এখানে বিশাল
একটা খরচের
ব্যাপার আছে।
এরপর বিতরণের
জন্য নেটওয়ার্ক
তৈরি করতে
হবে। বিতরণের
পর আবার
স্টোরেজ করতে
হবে। আবার
রেটিকুলেটেড সিস্টেম
করতে হবে।
এটা অনেকটাই
গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন
কোম্পানির মতো
কাজ। স্বল্প
মূলধনে এটা
করা সম্ভব
না।
বর্তমানে ১৮টি
কোম্পানি এলপি
গ্যাস বাজারজাত করছে। কিন্তু লাইসেন্স নিয়েছে ৫৮টি প্রতিষ্ঠান। বাকিরা বাজারে আসছে না
কেন?
প্রথমত পাঁচ
হাজার টনের
একটা বাধ্যবাধকতা
ছিল, যা
দুই বছরের
মধ্যে করতে
হবে। অনেকে
এখানে তিন
হাজার টন
করে বসে
আছে। তারা
যেন তিন
হাজার টন
করেই দিতে
পারে, এ
বিষয়ে চাপ
সৃষ্টি করছে।
এখন তিন
হাজার করে
দুই জায়গায়
হচ্ছে। একটি
চিটাগং, অন্যটি
মোংলা। এ
দুই জায়গায়
যদি তিন
হাজার টন,
চার হাজার
টন করে
অনেকগুলো এলপিজি
থাকে এবং
ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক
না থাকে,
তাহলে এ
পণ্যের মূল্য
নির্ধারণ সব
জায়গায় ঠিক
হবে না।
যেমন কোনো
জায়গায় যদি
ডিমান্ড সাপ্লাই
কম থাকে
তাহলে সেখানে
দাম বেশি
হবে। সাপ্লাই
বেশি থাকলে
দাম কম
হবে। এগুলো
প্রধান কারণ।
বিইআরসি মূল্য
নির্ধারণ শুরু
করার পর
এলপি গ্যাস
কোম্পানিগুলো একটি
প্রক্রিয়ার মধ্যে
এসেছে। বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছে। আপনিও
কি তা-ই মনে করেন?
বিইআরসির প্রাইস
নির্ধারণ করার
আগে আন্তর্জাতিক
বাজারের সঙ্গে
বাংলাদেশেও দাম
কমেছে। বিইআরসির
কোনো প্রবিধানমালা
নেই এখন
পর্যন্ত। পেট্রোলিয়াম
গ্যাসের মূল্য
কীভাবে নির্ধারিত
হবে তার
কোনো নীতিমালা
হয়নি। কিন্তু
সরকারি যে
কোম্পানিগুলো আছে
তিতাস বা
অন্যরা, তারা
এসব করছে।
কোম্পানির সাইজ,
কোয়ালিটি, স্ট্যান্ডার্ড
তার ওপর
মূল্য নির্ধারণ
ভূমিকা রাখে।
বিইআরসিকে আমরা
অনেক প্রেজেন্টেশন
দিয়েছিলাম। প্রেজেন্টেশনটা
ছিল প্রাইস
ফ্যাক্টর। আমরা
বলেছিলাম, এ
ফ্যাক্টরগুলোর ওপর
নির্ভর করে
মূল্য নির্ধারিত
হবে। কিন্তু
সেটা করা
হয়নি। একসময়
গিয়ে তারা
একটা মূল্য
নির্ধারণ করলেন।
কিন্তু সেটা
সিপির ক্ষেত্রে।
সিপির মূল্য
নির্ধারণ তো
আন্তর্জাতিক। সবাই
যা দেবে
সেটাই হবে।
এর সঙ্গে
অপারেটিং এক্সপেন্স
সমন্বয় হবে।
বিইআরসি যে
সম্ভাব্য দর
ঠিক করেছে,
তার সঙ্গে
বেসরকারি কোম্পানির
দরের মিল
নেই। সরকারের
ডিলারের ডিস্ট্রিবিউশন
কস্ট ধরেছে
৮০ বা
৫০ টাকা।
আর বেসরকারি
কোম্পানি দিয়েছে
২৫ টাকা।
এ কাজগুলোর
যুক্তি নেই।
এরপর যে
মূল্যটা নির্ধারণ
করা হয়েছে
সেটাও সবাই
মানতে চাচ্ছে
না। আর
যেখানে ৮০
ভাগ কার্যক্রম
বেসরকারি খাত
থেকে হচ্ছে,
সেখানে মূল্য
মনিটরিংয়ের একটা
বিষয় থাকে।
এখানে কোনো
মনিটরিং সিস্টেম
নেই। আমি
মনে করি,
বিইআরসির হস্তক্ষেপ
দরকার ছিল
না।
এলপি গ্যাসের বাজারে বিভিন্ন কোম্পানি প্রতিযোগিতা করছে। বাজার
ধরে রাখতে
ভবিষ্যতে কোম্পানিগুলোর একীভূত হওয়ার
সম্ভাবনা রয়েছে
কিনা?
ভিয়েতনামের দিকে
যদি তাকান,
এ রকম
আরো অনেক
দেশে এমন
একসঙ্গে ব্যবসা
শুরু করার
উদাহরণ রয়েছে।
এখন ভিয়েতনামে
চারটা বা
পাঁচটা কোম্পানি।
আমাদের দেশেও
এমন হবে।
এখনই হচ্ছে।
আলটিমেটলি বিপজ্জনক
ব্যাপার হচ্ছে
চার-পাঁচটা
কোম্পানির বাইরে
বাকিরা ব্যবসা
করতে পারবে
না। অনেক
এলপি গ্যাস
কোম্পানি এখন
লাভ করছে
না। এত
কোম্পানি একটা
দেশে চলতে
পারে না।
বাংলাদেশের মতো
ছোট দেশে
চার-পাঁচটা
কোম্পানি যথেষ্ট।
সারা দেশে
যারা স্টোরেজ
থেকে ডিস্ট্রিবিউশন
করার ব্যবস্থা
করতে পারবে
তারাই এ
দায়িত্ব পাবে।
এলপি গ্যাসের কাঁচামালের দাম
প্রতিনিয়ত ওঠানামা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবসায়ীরা চাইলে এটি
আরো কম
মূল্যে বাজারে সরবরাহ করতে
পারে। এ
দাবির যৌক্তিকতা আছে কিনা?
এজন্য একটা
কৌশল গ্রহণ
করতে হবে।
বাংলাদেশের বাজারটা
ম্যাপিং করতে
হবে। কোথায়
আমি বাল্ক
নিয়ে যেতে
পারব, কোথায়
রেটিকুলেটেড সিস্টেম
করব, আর
কোথায় সিলিন্ডার
নেয়া হবে,
সেটা ঠিক
করতে হবে।
এখন বাজার
বিক্ষিপ্ত। এখন
অতিরিক্ত জোগান
আছে। অন্যদিকে
বাংলাদেশে সবচেয়ে
বড় সমস্যা
এখানে এলপিজির
ছোট ছোট
জাহাজ আসছে।
নিরাপত্তার খাতিরে
বড় কোনো
জাহাজ আসতে
পারছে না।
এখানে আমাদের
পাঁচ থেকে
১০ হাজার
ঘনমিটার অর্থাৎ
আড়াই থেকে
সাড়ে চার
হাজার বা
পাঁচ হাজার
টনের ভেতরে
পণ্য আনতে
হয়। সেগুলো
ইমপোর্ট করে
আনার ক্ষেত্রে
খরচ বেশি।
বাংলাদেশে যেটা
দরকার তা
হলো গভীর
সমুদ্রবন্দর। সেখানে
বড় জাহাজ
আসবে। বড়
জাহাজ থেকে
ছোট জাহাজে
করে এলপিজি
আনা হবে।
আর ইন্ডাস্ট্রির
বয়স তো
বেশি না।
যারাই আসবে,
তারা যদি
কাজটা ঠিকমতো
করতে পারে,
তাহলে তারা
টিকে থাকবে।
এটাই তো
নিয়ম। কিছু
জায়গায় সরকারকে
কঠোর হতে
হয়। বাংলাদেশে
পাঁচটা টেলকো
কোম্পানি আছে।
চাইলেই তো
সরকার আরেকটা
লাইসেন্স দেবে
না। এখানে
৫০-৬০টা
লাইসেন্স দিলে
তো লাভ
নেই। তাহলে
ব্যাংক খাতের
মতো অবস্থা
হবে।
প্রায়ই সিলিন্ডার থেকে দুর্ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে, সিলিন্ডারের মেয়াদ ও
মান পরীক্ষা না করার
জন্য এ
ধরনের ঘটনা
ঘটছে। সেফটির বিষয়ে লোয়াবের কোনো পদক্ষেপ রয়েছে কিনা?
সিলিন্ডারের একটা
নির্দিষ্ট মান
দেয়া আছে।
সে মানের
সিলিন্ডারের অর্থাৎ
স্কিল প্লেটের
সিলিন্ডারের পুরুত্ব
কতটুকু হবে।
এগুলো থেকে
আসলে এলপি
সিলিন্ডার নিরাপত্তার
দিক থেকে
সবচেয়ে ভালো।
এমনকি গ্যাস
সিলিন্ডার উচ্চচাপে
করতে হয়।
এর থেকে
এটা কিন্তু
অনেক নিরাপদ।
কোনো দুর্ঘটনা
হলে বলা
হয় গ্যাস
সিলিন্ডার ফেটে
গেছে। কী
গ্যাস সেটা
কিন্তু বলা
হয় না
অনেক সময়।
এটা একটা
বিষয়। দ্বিতীয়ত,
প্রতি ১০
বছর পর
সিলিন্ডারকে নতুন
রিফারনিশ করে
বাজারে আনতে
হয়। আনলে
আবার একই
সময় ধরে
এটা চলতে
পারে। এগুলো
করার জন্য
এখন আমরা
খুবই অ্যাক্টিভ।
বর্তমানে গ্যাসের
দাম বাড়ার
পর সিলিন্ডারের
দাম ৩
হাজার টাকার
কাছাকাছি। এখানে
লোকজন দিচ্ছে
৫০০-৭০০
টাকার সিলিন্ডার।
ডিস্ট্রিবিউটর দেখছে,
এ সিলিন্ডারটা
আবার ফেরত
দেয়ার দরকার
নেই। আরেকজন
তো আমাকে
ফ্রি দিয়ে
দিচ্ছে। এটাকে
স্ক্র্যাব করলে
আরো বেশি
ভ্যালু পাচ্ছি।
এ স্ক্র্যাবগুলো
বড় বড়
স্টিল মিল
নিয়ে যাচ্ছে।
নিয়ে এগুলোকে
ভাঙছে। এখন
প্রশ্ন হচ্ছে,
সিলিন্ডারটাকে ডিগ্যাসিফিকেশন
করতে হয়।
সিলিন্ডার আপনি
ব্যবহার করে
ফেলেছেন। এটার
গ্যাস একেবারে
শূন্য হয়েছে
কিনা তাই
ডিগ্যাসিফিকেশন করতে
হবে। না
করে এটাকে
যদি আপনি
কাটেন, তাহলে
এটা থেকে
বিস্ফোরণ হতে
পারে। যারা
কিনে নিচ্ছে,
নিয়ে স্ক্র্যাবিং
করছে, এটা
তো বিরাট
একটা ডেঞ্জারাস
বিষয়। এটা
বিস্ফোরক।
অন্যদিকে সিলিন্ডার এখন ট্রেড হচ্ছে। একজন সব কোম্পানির সিলিন্ডার নিয়ে বিক্রি করছে বাজারে। স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে দিচ্ছে। এগুলোর বিরুদ্ধে আমরা অলরেডি কেস করেছি। কুমিল্লায় এ রকম একটা ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি আমরা একটি মামলা করেছি। অ্যাসোসিয়েশন থেকে আমরা নানা ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা লাইসেন্স বাতিল করতে পারি না। এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। এলপিজি ইন্ডাস্ট্রি যদি আপনাকে গ্রো করাতে হয়, তাহলে আপনার একজন রেগুলেটর লাগবে, যে সবসময় এ বিষয়গুলো মনিটর করে এবং পানিশমেন্ট দেবে।