ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আমাদের
দেশে
সর্বপ্রাচীন
ও
ঐতিহ্যবাহী
শ্রেষ্ঠ
উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
ব্রিটিশ
শাসন
আমলে
১৯২১
সালে
এর
প্রতিষ্ঠা
এবং
১
জুলাই
থেকে
শিক্ষাকার্যক্রম
শুরু।
প্রধানত
১৯০৫-১৯১১
সময়ে
ভারতীয়
কংগ্রেস
পার্টির
নেতৃত্বে
অগ্রসর
হিন্দু
সম্প্রদায়ের
বঙ্গভঙ্গবিরোধী
প্রচণ্ড
আন্দোলনের
কারণে
ব্রিটিশ
রাজ
শেষ
পর্যন্ত
বঙ্গভঙ্গ
রদ
বা
বাতিল
করতে
বাধ্য
হলে
পূর্ববাংলার
অনগ্রসর
মুসলমান
সম্প্রদায়ের
জন্য
সান্ত্বনা
ও
বঙ্গভঙ্গ
রদের
ক্ষতি
পুষিয়ে
দেয়ার
লক্ষ্যে
ঢাকায়
এ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
স্থাপনের
কথা
ব্রিটিশরাজের
পক্ষ
থেকেই
ঘোষণা
করা
হয়।
তাদের
‘ভাগ
কর
শাসন
কর’
নীতিও
এর
পেছনে
ক্রিয়াশীল
থাকলেও
থাকতে
পারে।
যাহোক,
এ
বছর
(২০২১) ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠার
শতবর্ষ।
এ
উপলক্ষে
নানা
কর্মসূচি
গৃহীত
হবে,
সেটিই
স্বাভাবিক
ও
প্রত্যাশিত।
কাকতালীয়ভাবে
হলেও
২০২০-২১
সাল
বাঙালি
জাতির
মহান
নেতা,
সর্বকালের
সর্বশ্রেষ্ঠ
বাঙালি,
জাতির
পিতা
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমানের
জন্মশতবার্ষিকী
উপলক্ষে
নানা
আয়োজনে
রাষ্ট্রীয়ভাবে
‘মুজিব
বর্ষ’
হিসেবে
পালিত
হচ্ছে।
২০২১
সাল
আমাদের
মহান
স্বাধীনতারও
সুবর্ণজয়ন্তী
বা
৫০
বছর।
আমাদের
জাতীয়
জীবনের
তিনটি
অনন্যসাধারণ
ঘটনা
যেন
এক
মোহনায়
মিলিত।
পাকিস্তানি
শাসন-শোষণ
ও
জাতিনিপীড়ন
থেকে
বাঙালির
জাতীয়
মুক্তি
বা
স্বাধীনতার
মহান
নেতা
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমান।
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়
হচ্ছে
তাঁর
নেতৃত্বে
জাতীয়
মুক্তির
সে
লক্ষ্যে
পরিচালিত
আন্দোলন-সংগ্রামের
সূতিকাগার।
বঙ্গবন্ধুর
নেতৃত্বে
১৯৭১
সালে
মহান
মুক্তিযুদ্ধের
মাধ্যমে
প্রতিষ্ঠিত
স্বাধীন
বাংলাদেশ
বাঙালি
জাতীয়তাবাদেরই
চূড়ান্ত
রাজনৈতিক
রূপ
বা
প্রকাশ।
আর
বাঙালি
জাতীয়তাবাদ
ভাষাভিত্তিক
জাতীয়তাবাদ
হিসেবেই
সর্বমহলে
পরিগণিত।
স্মর্তব্য,
ভাষা-বিতর্ক
(বাংলা বনাম
উর্দু)
নিয়েই
১৯৪৭
সালে
পাকিস্তান
রাষ্ট্রের
প্রতিষ্ঠা।
তাই
প্রতিষ্ঠার
সঙ্গে
সঙ্গেই
ওই
রাষ্ট্রের
রাষ্ট্রভাষা
প্রশ্নে
বাঙালিদের
মধ্যে
দেখা
দেয়
ভাষা
আন্দোলন।
বস্তুত
ভাষা
আন্দোলনের
পথ
ধরেই
’৭১-এ
আমাদের
স্বাধীনতা।
ওই
ভাষা
আন্দোলনে
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়
এবং
তখন
এর
ছাত্র
হিসেবে
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমানের
তাতে
নেতৃস্থানীয়
ভূমিকা
পালন।
আলোচ্য
নিবন্ধে
এসব
বিষয়ে
আলোকপাত
করা
হয়েছে।
ভাষা
আন্দোলনের
ওপর
দেশের
প্রধান
লেখক
বদরুদ্দীন
উমর
ব্যক্তিবিদ্বেষ
বা
অজ্ঞাত
কোনো
কারণে
তার
লেখায়
বঙ্গবন্ধুর
ভূমিকাকে
যেভাবে
ছোট
বা
হেয়
কিংবা
বিকৃত
আকারে
দেখেছেন
অথবা
এড়িয়ে
গিয়েছেন,
তার
বিপরীতে
বঙ্গবন্ধুর
প্রকৃত
ভূমিকা
বর্তমান
নিবন্ধের
মাধ্যমে
পাঠকদের
কাছে
স্পষ্ট
হবে,
আশা
করছি।
ভাষা আন্দোলনের প্রথম পর্বে
(১৯৪৮) ভূমিকা
কোন
অবস্থার
পরিপ্রেক্ষিতে
পাকিস্তান
রাষ্ট্রে
ভাষা
আন্দোলনের
সূত্রপাত
ঘটে,
তা
এখন
কম-বেশি
সবার
জানা।
এদিকে
১৯৪৭
সালের
সেপ্টেম্বরে
বঙ্গবন্ধু
কলকাতা
থেকে
ঢাকায়
এসে
প্রগতিশীল
মুসলিম
লীগ
কর্মীদের
প্রধান
কেন্দ্র
১৫০
মোগলটুলী
পার্টি
হাউজে
(যা ‘ওয়ার্কার্স
ক্যাম্প’
নামেও
পরিচিত)
ওঠেন।
তিনি
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
আইন
বিভাগে
১৯৪৭-৪৮
শিক্ষাবর্ষে
‘ব্যাচেলর
অব
ল’
প্রথম
বর্ষে
ভর্তি
হন।
ঢাকায়
এসেই
বঙ্গবন্ধু
সক্রিয়
রাজনৈতিক
তত্পরতা
শুরু
করেন।
৬-৭
সেপ্টেম্বর
যে
যুব
সম্মেলনে
‘গণতান্ত্রিক
যুবলীগ’
নামে
একটি
অসাম্প্রদায়িক
যুব
সংগঠন
প্রতিষ্ঠিত
হয়,
বঙ্গবন্ধু
এর
অন্যতম
প্রতিষ্ঠাতা
ছিলেন।
সরকারি
উদ্যোগে
১৯৪৭
সালের
২৭
নভেম্বর
থেকে
৪
ডিসেম্বর
করাচিতে
শিক্ষামন্ত্রী
ফজলুর
রহমানের
(পূর্ববাংলা) সভাপতিত্বে
অনুষ্ঠিত
নতুন
রাষ্ট্রের
প্রথম
শিক্ষা
সম্মেলনের
শেষ
দিন
উর্দুকে
পাকিস্তানের
সাধারণ
বা
রাষ্ট্রভাষা
করার
সিদ্ধান্ত
গৃহীত
হয়।
এর
প্রতিবাদে
এবং
বাংলাকে
অন্যতম
রাষ্ট্রভাষার
স্বীকৃতির
দাবিতে
পূর্ববাংলার
মুখ্যমন্ত্রী
খাজা
নাজিমুদ্দিনের
বর্ধমান
হাউজের
সরকারি
বাসভবন
(বর্তমান বাংলা
একাডেমি)
অভিমুখে
ছাত্র
ও
বুদ্ধিজীবীদের
যে
মিছিল
গিয়েছিল,
অন্যান্যের
মধ্যে
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমান
ওই
মিছিলের
অগ্রভাগে
থেকে
নেতৃত্ব
দেন।
পাকিস্তান
প্রতিষ্ঠার
৪
মাস
১৯
দিনের
মধ্যে
৪
জানুয়ারি
১৯৪৮
তাঁরই
উদ্যোগে
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
ফজলুল
হক
মুসলিম
হলের
অডিটোরিয়ামে
অনুষ্ঠিত
ছাত্র
প্রতিনিধিদের
এক
সভায়
পাকিস্তানে
প্রথম
সরকারবিরোধী
ছাত্র
সংগঠন
‘পূর্ব
পাকিস্তান
মুসলিম
ছাত্রলীগ’
(১৯৫৩ সালে
যার
নামকরণ
করা
হয়
‘পূর্ব
পাকিস্তান
ছাত্রলীগ’)
প্রতিষ্ঠিত
হয়।
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
আরবি
বিভাগের
অনার্সের
ছাত্র
নঈমউদ্দিন
আহমেদকে
(১৯২৪-১৯৬৭)
সংগঠনের
কনভেনর
নিযুক্ত
করা
হয়।
লক্ষণীয়,
পাকিস্তানের
রাষ্ট্রভাষা
বিতর্কের
মধ্যেই
ছাত্রলীগের
প্রতিষ্ঠা
এবং
ভাষা
আন্দোলনের
উভয়
পর্বে
এ
সংগঠনের
নেতা-কর্মীরা
গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা
পালন
করেন।
ছাত্রলীগ
প্রতিষ্ঠার
পরপর
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমান
ও
নঈমউদ্দিন
আহমেদ
‘পূর্ব
পাকিস্তানে
দুর্ভাগা
জনগণ
বৈফিয়ত
দিতে
হবে
আমাদের
দাবি’
শিরোনামে
একটি
পুস্তিকা
রচনা
করেন,
যা
১৫০
মোগলটুলী
ওয়ার্কার্স
ক্যাম্প
থেকে
প্রকাশিত
ও
প্রচারিত
হয়।
তাতে
অন্যান্যের
মধ্যে
বাংলাকে
পাকিস্তানের
অন্যতম
রাষ্ট্রভাষা
করার
দাবি
জানানো
হয়।
এভাবে
গড়ে
ওঠা
রাষ্ট্রভাষার
দাবিকে
আন্দোলনে
রূপ
দিতে
বঙ্গবন্ধু
এগিয়ে
এলেন।
তিনি
ছাত্র
ও
যুব
সম্প্রদায়কে
এ
আন্দোলনে
সম্পৃক্ত
করতে
তত্পর
হন।
২
মার্চ
ফজলুল
হক
মুসলিম
হলে
তমদ্দুন
মজলিশ,
পূর্ব
পাকিস্তান
মুসলিম
ছাত্রলীগ,
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
বিভিন্ন
হলের
ছাত্র
প্রতিনিধি
ও
অন্যদের
নিয়ে
এক
সভায়
শামসুল
আলমকে
আহ্বায়ক
করে
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদ
পুনর্গঠিত
করা
হয়।
শামসুল
আলম
পূর্ব
পাকিস্তান
মুসলিম
ছাত্রলীগের
বিশ্ববিদ্যালয়
শাখার
সম্পাদক
ছিলেন।
ওই
সভায়
অন্যান্যের
মধ্যে
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমান
ও
ছাত্রলীগের
কনভেনর
নঈমউদ্দিন
আহমেদ
উপস্থিত
ছিলেন।
সভায়
বাংলাকে
অন্যতম
রাষ্ট্রভাষার
স্বীকৃতির
দাবিতে
১১
মার্চকে
‘বাংলা
ভাষা
দাবি
দিবস’
হিসেবে
ঘোষণা
করে
ওইদিন
পূর্ববাংলায়
সাধারণ
ধর্মঘট
পালনের
সিদ্ধান্ত
গৃহীত
হয়।
১১
মার্চের
কর্মসূচিকে
কীভাবে
সফল
করা
যায়,
সে
উদ্দেশ্যে
একই
হলে
আগের
দিন
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদ
এক
সভায়
মিলিত
হয়।
ওই
সভায়
বঙ্গবন্ধু
১৪৪
ধারা
ভঙ্গ
করে
১১
মার্চ
রাজপথে
নামার
পক্ষে
জোরালো
বক্তব্য
রাখেন।
কোন
টিম
কোন
স্পটে
পিকেটিং
করবে
তা-ও
সভায়
নির্ধারণ
করা
হয়।
সকাল থেকেই ঢাকার রাজপথের বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং শুরু হয় এবং সাধারণ ধর্মঘট চলতে থাকে। বঙ্গবন্ধুর দায়িত্ব ছিল পূর্ব পাকিস্তান সেক্রেটারিয়েট (ইডেন বিল্ডিং), জেনারেল পোস্ট অফিস, তোপখানা ও আব্দুল গণি রোড এলাকা। কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তাঁর সঙ্গে ছিল একটি সাইকেল। পুলিশ কয়েক দফা তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু ইডেন বিল্ডিংয়ের সম্মুখ থেকে গ্রেফতার হন। সেদিনের ঘটনা ও তাঁর গ্রেফতার হওয়া সম্বন্ধে পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু লেখেন, ‘১১ মার্চ ভোরবেলা শত শত ছাত্রকর্মী ইডেন বিল্ডিং, জেনারেল পোস্ট অফিস ও অন্যান্য জায়গায় পিকেটিং শুরু করল।... সকাল ৮টায় জেনারেল পোস্ট অফিসের সামনে ছাত্রদের ওপর ভীষণভাবে লাঠিচার্জ হলো। একদল মার খেয়ে স্থান ত্যাগ করার পর আরেক দল হাজির হতে লাগল... আমি পোস্ট অফিসের দিক থেকে নতুন কর্মী নিয়ে ইডেন বিল্ডিংয়ের দিকে ছুটেছি, এর মধ্যে শামসুল হক সাহেবকে [টাঙ্গাইল] ইডেন বিল্ডিংয়ের সামনে পুলিশ ঘিরে ফেলেছে। গেট খালি হয়ে গেছে। তখন আমার কাছে সাইকেল। আমাকে গ্রেফতার করার জন্য সিটি এসপি জিপ নিয়ে বার বার তাড়া করছে... এবার দেখলাম উপায় নাই।... চার-পাঁচজন ছাত্র নিয়ে আবার ইডেন বিল্ডিংয়ের দরজায় আমরা বসে পড়লাম এবং সাইকেল যাকে দিলাম তাকে বললাম, শিগগিরই আরো কিছু ছাত্র পাঠাতে। আমরা খুব অল্প, টিকতে পারলাম না। আমাদের দেখাদেখি আরো কিছু ছাত্র ছুটে এসে আমাদের পাশে বসে পড়ল। আমাদের ওপর কিছু উত্তম-মধ্যম পড়ল এবং ধরে নিয়ে জিপে তুলল’ (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃ. ৯২-৯৩)।
১৫০
মোগলটুলী
পার্টি
হাউজের
প্রধান
সংগঠক
(পরবর্তী সময়ে
আওয়ামী
মুসলিম
লীগের
প্রতিষ্ঠাকালীন
সাধারণ
সম্পাদক)
শামসুল
হক,
ছাত্রলীগ
সাংগঠনিক
কমিটির
অন্যতম
সদস্য
(পরবর্তী সময়ে
পূর্ব
পাকিস্তান
গণতান্ত্রিক
যুবলীগের
সাধারণ
সম্পাদক,
আরো
পরে
আওয়ামী
লীগ
ও
ন্যাপের
অন্যতম
নেতা)
অলি
আহাদসহ
প্রায়
পঁচাত্তর
জন
ছাত্রলীগ
ও
যুবনেতাকে
ওইদিন
গ্রেফতার
করে
জেলে
পাঠিয়ে
দেয়া
হয়।
তবে
তাজউদ্দীন
আহমদ,
তোয়াহাসহ
অন্যরা
গ্রেফতার
এড়াতে
সক্ষম
হন।
অনেকে
গুরুতর
আহত
হন
আবার
কেউ
কেউ
আহত
অবস্থায়
গ্রেফতার
হন।
তাদের
মধ্যে
খালেক
নেওয়াজ
খান
(১৯৪৯ সালে
ছাত্রলীগের
সাধারণ
সম্পাদক),
ঢাকা
নগর
ছাত্রলীগের
সাধারণ
সম্পাদক
আবদুল
ওয়াদুদ
(্আহত অবস্থায়
গ্রেফতার),
কাজী
গোলাম
মাহবুব
(পরবর্তীকালে সর্বদলীয়
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদের
আহ্বায়ক),
ছাত্রলীগের
অন্যতম
প্রতিষ্ঠাতা
শওকত
আলী
ওরফে
শওকত
মিয়া
প্রমুখের
নাম
উল্লেখযোগ্য।
কিছু
ছাত্রীও
সেদিন
আহত
হন।
উল্লেখ্য,
ওইদিন
পুলিশ
বেশ
কিছুসংখ্যক
ছাত্রকে
ধরে
নিয়ে
গাড়িতে
করে
বহু
দূরে
জঙ্গলের
মধ্যে
ফেলে
আসে।
বঙ্গবন্ধু
ছিলেন
ভাষা
আন্দোলনের
প্রথম
পর্বের
বন্দিদের
মধ্যে
অন্যতম।
১১-১৫
মার্চ
পর্যন্ত
পাঁচদিন
তাঁকে
কারাগারে
কাটাতে
হয়।
বঙ্গবন্ধু,
শামসুল
হক
ও
বন্দিদের
আরো
অনেককে
কারাগারের
৪
নম্বর
ওয়ার্ডে
রাখা
হয়েছিল।
কারাপ্রাচীর
সংলগ্ন
বাইরেই
ছিল
মুসলিম
গার্লস
হাইস্কুল।
স্কুলের
ছাত্রীরা
প্রতিদিন
রাষ্ট্রভাষা
বাংলার
পক্ষে
স্লোগান
দিত।
এ
সম্বন্ধে
স্মৃতিচারণ
করতে
গিয়ে
বঙ্গবন্ধু
লেখেন,
‘যে
পাঁচদিন
আমরা
জেলে
ছিলাম,
সকাল
১০টায়
মেয়েরা
স্কুলের
ছাদে
উঠে
স্লোগান
দিতে
শুরু
করত,
আর
৪টায়
শেষ
করত।
ছোট্ট
ছোট্ট
মেয়েরা
একটুও
ক্লান্ত
হত
[হতো] না।
‘রাষ্ট্রভাষা
বাংলা
চাই’,
‘বন্দি
ভাইদের
মুক্তি
চাই’,
‘পুলিশি
জুলুম
চলবে
না’—নানা
ধরনের
স্লোগান।
এ
সময়
শামসুল
হক
সাহেবকে
আমি
বললাম,
‘হক
সাহেব
ওই
দেখুন,
আমাদের
বোনেরা
বেরিয়ে
এসেছে।
আর
বাংলাকে
রাষ্ট্রভাষা
না
করে
পারবে
না।’
হক
সাহেব
আমাকে
বললেন,
‘তুমি
ঠিকই
বলেছ,
মুজিব’।
(অসমাপ্ত
আত্মজীবনী,
পৃ.
৯৩-৯৫)।
এদিকে
পূর্ববাংলার
প্রাদেশিক
আইন
পরিষদের
অধিবেশনে
শেরেবাংলা
এ
কে
ফজলুল
হক,
আনোয়ারা
খাতুন,
খয়রাত
হোসেনসহ
আরো
কিছুসংখ্যক
সদস্য
১১
মার্চ
পুলিশি
নির্যাতন
ও
ছাত্রদের
গ্রেফতারের
ঘটনার
তীব্র
প্রতিবাদ
জানান।
অপরদিকে,
মার্চের
তৃতীয়
সপ্তাহে
পাকিস্তানের
প্রতিষ্ঠাতা
ও
গভর্নর
জেনারেল
মোহাম্মদ
আলী
জিন্নাহর
ঢাকা
সফরের
প্রোগ্রাম
স্থির
হয়।
এমনই
পরিস্থিতিতে
পূর্ববাংলার
মুসলিম
লীগ
সরকারের
মুখ্যমন্ত্রী
খাজা
নাজিমুদ্দিন
১৫
মার্চ
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদের
সঙ্গে
একটি
আট
দফা
চুক্তিনামা
স্বাক্ষর
করেন।
চুক্তিতে
গ্রেফতারকৃতদের
মুক্তি,
পুলিশি
নির্যাতনের
তদন্ত,
বাংলাকে
পাকিস্তানের
অন্যতম
রাষ্ট্রভাষা
করার
সুপারিশ,
শিক্ষার
মাধ্যম
ও
সরকারি
ভাষা
হিসেবে
পূর্ববাংলায়
বাংলাকে
গ্রহণ,
সংবাদপত্রের
ওপর
থেকে
নিষেধাজ্ঞা
প্রত্যাহার
ইত্যাদি
অন্তর্ভুক্ত
ছিল।
এর
আগে
নাজিমুদ্দিন
সরকার
অপপ্রচার
চালিয়ে
আসছিল
যে
‘কলকাতা
থেকে
হিন্দু
ছাত্ররা
পায়জামা
পরে
এসে
এ
আন্দোলন
করছে,
তা-ও
প্রত্যাহার
করে
নিতে
বাধ্য
হয়।
চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের আগে এর খসড়া নিয়ে আন্দোলনের নেতাদের মধ্য থেকে কয়েকজন কারাগারে গিয়ে বঙ্গবন্ধুসহ কারাবন্দি অন্যদের থেকে এ ব্যাপারে অনুমোদন নেন। বদরুদ্দীন উমর স্বয়ং এ সম্বন্ধে লেখেন, ‘চুক্তিপত্রটি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগে কামরুদ্দিন আহমেদ, আবুল কাসেম প্রমুখ জেলখানায় উপস্থিত হয়ে ভাষা আন্দোলনের আটক বন্দিদের চুক্তিপত্রটি দেখান। শামসুল হক, শেখ মুজিবুর রহমান, অলি আহাদ, কাজী গোলাম মাহবুব, শওকত আলী প্রমুখ চুক্তির শর্তাবলি দেখার পর সেটি অনুমোদন করেন। এরপর সংগ্রাম পরিষদের সদস্যরা বর্ধমান হাউজে ফিরে আসেন। সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী
[মুখ্যমন্ত্রী] খাজা
নাজিমুদ্দিন
এবং
সংগ্রাম
পরিষদের
পক্ষে
কামরুদ্দিন
আহমদ
চুক্তিপত্রটিতে
স্বাক্ষর
প্রদান
করেন।’
(বদরুদ্দীন উমর,
পূর্ববাংলার ভাষা
আন্দোলন ও
তত্কালীন রাজনীতি, ১ম খণ্ড,
মাওলা
ব্রাদার্স ১৯৭০,
পৃ.
৮৬)।
বদরুদ্দীন
উমরের
বক্তব্য
অনুযায়ী,
বঙ্গবন্ধুর
যদি
‘ঢাকায়
তত্কালীন
ছাত্র
আন্দোলনে...
ভূমিকা
অত্যন্ত
নগণ্য’
হবে
(উমর,
ঐ, পৃ.
৯০) তাহলে নাজিমুদ্দিনের
সঙ্গে
চুক্তি
স্বাক্ষরের
আগে
অন্যদের
সঙ্গে
তাঁর
(বঙ্গবন্ধুর) সম্মতি
লাভ
কেন
আবশ্যকীয়
ছিল?
উল্লেখ্য,
গত
শতকের
চল্লিশের
দশক
থেকেই
বঙ্গবন্ধু
সমগ্র
বাংলার
ছাত্রসমাজের
কাছে
একজন
ত্যাগী,
কর্মঠ,
নিষ্ঠাবান
প্রতিশ্রুতিশীল
ছাত্র
ও
যুব
নেতা
হিসেবে
পরিচিতি
লাভ
করেন।
ঢাকার
১৫০
মোগলটুলী
পার্টি
হাউজের
প্রধান
সংগঠক
শামসুল
হক,
এর
স্বত্বাধিকারী
ও
রাজনৈতিক
কর্মী
শওকত
আলী
ওরফে
শওকত
মিয়াসহ
এখানকার
পার্টি
ওয়ার্কারদের
সঙ্গে
আগে
থেকেই
তাঁর
ঘনিষ্ঠ
পরিচিতি
ছিল।
১৯৪৭
সালের
সেপ্টেম্বর
মাসে
কলকাতা
থেকে
ঢাকা
এসে
তিনি
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে
আইন
বিভাগে
ভর্তি
হন।
একই
বছর
সেপ্টেম্বরে
‘গণতান্ত্রিক
যুবলীগ’
প্রতিষ্ঠিত
হলে,
তিনি
ছিলেন
এর
প্রতিষ্ঠাতাদের
মধ্যে
অন্যতম।
১৯৪৮
সালের
শুরুতে
তার
উদ্যোগে
সরকারবিরোধী
ছাত্র
সংগঠন
‘পূর্ব
পাকিস্তান
মুসলিম
ছাত্রলীগ’
প্রতিষ্ঠিত
হয়
ইত্যাদি
আগেই
উল্লেখ
করা
হয়েছে।
এতদ্সত্ত্বেও
বদরুদ্দীন
উমর
বঙ্গবন্ধু
সম্বন্ধে
ওই
উক্তি
করেন
কোন
যুক্তি
বলে?
যাহোক, নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের চুক্তির ফলে ১৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্য বন্দিরা মুক্তি পান। বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে এলে ছাত্ররা তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানায়। পরের দিন ১৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় এক বিশাল সাধারণ ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর তাঁর নেতৃত্বে ছাত্ররা শোভাযাত্রা সহকারে জগন্নাথ হল অভ্যন্তরে রাস্তা সংলগ্ন পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদের উদ্দেশে অগ্রসর হয়ে মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের বরাবর একটি স্মারকলিপি পৌঁছান। এরপর তারা সেখান থেকে ফিরে আসেন। কিন্তু একদল ছাত্র, জনতা ও সরকারি কর্মচারী আইন পরিষদের নিকটবর্তী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। ছাত্রদের কেউ কেউ এমএলএদের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ধরে এনে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে তাঁদের সমর্থন জ্ঞাপন, অন্যথায় পদত্যাগ এ মর্মে মুচলেকা আদায় করে এরপর তাঁদের ছেড়ে দেয়। মন্ত্রীরা বের হতে পারছিলেন না। খাজা নাজিমুদ্দিন কোনোক্রমে সেনাসদস্যদের সহায়তায় পরিষদ ভবনের পেছনের দরজা দিয়ে ভেগে যেতে সমর্থ হন। এমনই অবস্থায় বঙ্গবন্ধু পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে পুলিশের টিয়ার গ্যাসের শেলের মধ্যে পড়েন। পুলিশের লাঠিচার্জের ফলে শওকত মিয়াসহ বেশ কয়েকজন ছাত্র ও সাধারণ মানুষ আহত হয়।
২১
মার্চ
(১৯৪৮) জিন্নাহ
ঢাকার
রেসকোর্স
ময়দানের
জনসভায়
তাঁর
দীর্ঘ
বক্তৃতায়
জনগণকে
‘পাকিস্তানের
ঐতিহাসিক
দুশমন’,
‘পঞ্চম
বাহিনী’,
‘কমিউনিস্টদের
সম্বন্ধে
সতর্ক
থাকা’
ও
বিচার-বিবেচনার
আহ্বান
জানিয়ে
এক
পর্যায়ে
বলেন
(বাংলায় ভাষান্তর),
‘আমি
আপনাদের
কাছে
এ
কথাটি
পরিষ্কার
করে
জানিয়ে
রাখতে
চাই,
নিখিল
পাকিস্তানের
রাষ্ট্রভাষা
উর্দু
হবে।
কোনো
প্রাদেশিক
ভাষা
রাষ্ট্র
ভাষা
হতে
পারে
না।
আর
এ
ব্যাপারে
আপনাদের
যারা
বিভ্রান্ত
করার
চেষ্টা
করবে,
তারা
অবশ্যই
পাকিস্তানের
জানি
দুশমন।’
জিন্নাহর
এ
ঘোষণার
সঙ্গে
সঙ্গে
মাঠের
এক
প্রান্তে
উপস্থিত
ছাত্রদের
মধ্য
থেকে
তাত্ক্ষণিক
প্রতিবাদ
ওঠে
এবং
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমান
ছিলেন
তাদের
মধ্যে
অন্যতম।
এরপর
২৪
মার্চ
কার্জন
হলে
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
সমাবর্তন
অনুষ্ঠানে
জিন্নাহ
তাঁর
ভাষণে
৩
দিন
আগে
রেসকোর্স
ময়দানে
রাষ্ট্রভাষা-সংক্রান্ত
প্রদত্ত
বক্তব্যের
প্রতিধ্বনি
করে
বলেন,
“Make no
mistake about it. There can be only one State language... and that language, in
my opinion, can only be Urdu.”
জিন্নাহর
কণ্ঠে
এ
কথা
উচ্চারিত
হওয়ার
সঙ্গে
সঙ্গে
উপস্থিত
ছাত্রদের
মধ্য
থেকে
‘No No’
প্রতিবাদ
ধ্বনি
ওঠে।
প্রতিবাদী
ছাত্রদের
মধ্যে
আব্দুল
মতিন
(‘ভাষা
মতিন’
হিসেবে
খ্যাত),
নঈমউদ্দিন
আহমদ
(ছাত্রলীগের কনভেনর),
একেএম
আহসান
প্রমুখের
নাম
উল্লেখযোগ্য।
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমান
যেহেতু
কলকাতা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
গ্র্যাজুয়েট
এবং
ওই
সময়
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
আইন
বিভাগের
প্রথম
বর্ষের
ছাত্র
ছিলেন,
সেহেতু
তাঁর
কনভোকেশনে
উপস্থিত
থাকার
কোনো
সুযোগ
ছিল
না।
তবে
প্রতিবাদকারীদের
একজন
আব্দুল
মতিনও
পূর্ব
পাকিস্তান
মুসলিম
ছাত্রলীগের
সাংগঠনিক
কমিটির
অন্যতম
সদস্য
ছিলেন।
উল্লিখিত
এসব
ঘটনার
পর
প্রথম
পর্বের
ভাষা
আন্দোলন
অনেকটা
স্তিমিত
হয়ে
পড়ে।
ভাষা আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্বে
(১৯৫২) ভূমিকা
কোন
অবস্থার
পরিপ্রেক্ষিতে
ভাষা
আন্দোলনের
দ্বিতীয়
পর্ব
ও
’৫২-এর
২১
ফেব্রুয়ারি
ভাষা
শহীদের
রক্তে
রঞ্জিত
ঘটনা
সংঘটিত
হয়,
তা-ও
পাঠকদের
জানা
রয়েছে।
কারাবন্দি
অবস্থায়ও
বঙ্গবন্ধু
সেখান
থেকে
এ
পর্বের
আন্দোলন
সংগঠনে
পালন
করেন
গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা।
তাঁর
সে
ভূমিকা
আলোচনার
আগে
আন্দোলনের
উভয়
পর্বের
মধ্যবর্তী
সময়ে
অন্যান্য
ক্ষেত্রে
তাঁর
রাজনৈতিক
ভূমিকা
সংক্ষেপে
তুলে
ধরা
যাক।
প্রথমেই
উল্লেখ
করতে
হয়
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
চতুর্থ
শ্রেণি
কর্মচারীদের
আন্দোলনে
তাঁর
নেতৃত্ব
দানের
কথা।
১৯৪৮
সালের
৩
মার্চ
থেকে
শুরু
করে
১৯৪৯
সালের
প্রথম
অর্ধে
বঙ্গবন্ধু
ও
আন্দোলনের
অন্য
ছাত্র
নেতাদের
গ্রেফতার
হওয়া
পর্যন্ত
ওই
আন্দোলন
চলে।
মাঝে
বঙ্গবন্ধুসহ
এঁদের
অনেকের
বিরুদ্ধে
বিশ্ববিদ্যালয়
কর্তৃপক্ষ
কর্তৃক
শাস্তিমূলক
ব্যবস্থা
গৃহীত
হয়।
কর্মচারীদের
মূল
দাবির
মধ্যে
ছিল
কথায়
কথায়
চাকরিচ্যুতি
বন্ধ,
চাকরির
স্থায়ীকরণ
বা
নিশ্চয়তা
বিধান,
বেতন
বৃদ্ধি,
তাদের
জন্য
বাসস্থানের
ব্যবস্থা
করা
ও
পোশাক
দেয়া,
প্রয়োজনীয়সংখ্যক
কর্মচারী
নিয়োগ,
দিবসব্যাপী
ডিউটি
পালনের
স্থলে
শ্রমঘণ্টা
কমিয়ে
আনা
ইত্যাদি।
বঙ্গবন্ধু
ছিলেন
তাদের
এ
ন্যায্য
আন্দোলনের
মূল
নেতৃত্বে।
তখন
তিনি
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে
আইনের
ছাত্র।
কর্মচারীরা
তাঁর
পরামর্শমতো
সমিতি
গঠনের
মাধ্যমে
সংঘবদ্ধ
হয়ে
আন্দোলন
চালিয়ে
যেতে
থাকে।
কয়েক
দফা
ধর্মঘট
পালন
করলে
বিশ্ববিদ্যালয়
প্রশাসন
প্রায়
অচল
হয়ে
পড়ে।
বঙ্গবন্ধু
একাধিকবার
বিশ্ববিদ্যালয়ের
উপাচার্যের
সঙ্গে
ছাত্র
নেতাদের
নিয়ে
সাক্ষাৎ
করে
কর্মচারীদের
ন্যায্য
দাবি
মেনে
নিতে
অনুরোধ
জানান।
কিন্তু
বিশ্ববিদ্যালয়
কর্তৃপক্ষ
তাঁদের
পরামর্শ
না
শুনে
১৯৪৮
সালের
মার্চ
মাসেই
অনির্দিষ্টকালের
জন্য
বিশ্ববিদ্যালয়
বন্ধ
এবং
আন্দোলনে
যোগদানকারী
সব
কর্মচারীকে
বরখাস্ত
করার
কথা
ঘোষণা
করে।
সে
সময়
একদিকে
রাষ্ট্রভাষা
আন্দোলন
চলছিল,
অপরদিকে
পাকিস্তানের
প্রতিষ্ঠাতা
মোহাম্মদ
আলী
জিন্নাহর
ঢাকা
আগমন
ও
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
সমাবর্তনে
যোগদানের
বিষয়টি
চূড়ান্ত
হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়
অনির্দিষ্টকালের
জন্য
বন্ধ
ঘোষণার
পেছনে
এ
দুটো
কারণও
ছিল।
২৯
মার্চ
বিশ্ববিদ্যালয়ের
এক্সিকিউটিভ
কাউন্সিল
কর্তৃক
আন্দোলনে
নেতৃত্বদানের
অভিযোগে
দুজন
ছাত্রীসহ
২৭
জন
ছাত্রের
বিরুদ্ধে
নির্দিষ্ট
সময়ের
জন্য
বিশ্ববিদ্যালয়
থেকে
বহিষ্কার,
হলের
আবাসিকতা
বাতিল,
জরিমানা
আরোপ
ও
বন্ড
সই
দেয়া
অন্যথায়
বহিষ্কার
ইত্যাদি
বিভিন্ন
শাস্তিমূলক
ব্যবস্থা
নেয়া
হয়।
বঙ্গবন্ধু
১৫
টাকা
জরিমানা
ও
বন্ড
সই
দিতে
অস্বীকৃতি
জানালে
তিনি
স্থায়ীভাবে
বিশ্ববিদ্যালয়
থেকে
বহিষ্কৃত
হন।
এক
বছর
বন্ধ
থাকার
পর
১৯৪৯
সালের
মধ্য
এপ্রিল
বিশ্ববিদ্যালয়
খুলে
দেয়া
হলে
আন্দোলন
নতুন
করে
দানা
বেঁধে
ওঠে
এবং
তীব্র
আকার
ধারণ
করে।
কর্মচারীদের
ন্যায্য
দাবি-দাওয়া
আদায়
ও
আন্দোলনে
নেতৃত্ব
দানকারী
ছাত্রদের
বিরুদ্ধে
বিশ্ববিদ্যালয়
কর্তৃপক্ষের
গৃহীত
শাস্তিমূলক
পদক্ষেপ
বাতিলের
দাবিতে
বঙ্গবন্ধু
বেশকিছু
ছাত্র
নিয়ে
১৮
এপ্রিল
(১৯৪৯) উপাচার্যের
বাসভবনে
অবস্থান
গ্রহণ
করেন
এবং
দাবি
না
মানা
পর্যন্ত
স্থান
ত্যাগ
না
করার
সংকল্প
ঘোষণা
করেন।
এমনই
অবস্থায়
পরের
দিন
১৯
এপ্রিল
পুলিশ
বঙ্গবন্ধুকে
গ্রেফতার
করে
নিয়ে
যায়।
এরপর
তাঁকে
কারাগারে
প্রেরণ
করা
হয়।
এ
ঘটনায়
৭৭
দিন
কারাভোগের
পর
২৬
জুন
তিনি
মুক্তি
পান।
মুক্তিলাভের
পর
বিশ্ববিদ্যালয়
ক্যাম্পাসে
বঙ্গবন্ধুকে
বিপুল
সংবর্ধনা
জ্ঞাপন
করা
হয়।
চতুর্থ
শ্রেণীর
কর্মচারী
ও
ছাত্রদের
আন্দোলনে
বঙ্গবন্ধুর
ভূমিকা
সম্বন্ধে
Intelligence
Branch-এর রিপোর্টে
বলা
হয়,
‘The
Subject [Bangabandhu] took prominent part in the recent strike of the menials
and students of the Dhaka University.’ (Secret Documents, vol. I, p. 70).
এ
সময়ের
আর
একটি
উল্লেখযোগ্য
ঘটনা
হলো
পাকিস্তানের
প্রধান
ও
প্রথম
কার্যকর
বিরোধী
দল
আওয়ামী
মুসলিম
লীগের
প্রতিষ্ঠা।
২৩
জুন
পুরান
ঢাকার
কেএম
দাস
লেনের
রোজগার্ডেনে
কেএম
বশির
ওরফে
হুমায়ুন
সাহেবের
প্রাইভেট
বাড়ির
লনে
বঙ্গীয়
প্রাদেশিক
মুসলিম
লীগের
সোহরাওয়ার্দী-আবুল
হাশিম
সমর্থক
প্রগতিশীল
কর্মীদের
এক
সম্মেলনে
মওলানা
আবদুল
হামিদ
খান
ভাসানীকে
সভাপতি,
১৫০
মোগলটুলী
ওয়ার্কার্স
ক্যাম্পের
প্রধান
সংগঠক,
টাঙ্গাইলের
শামসুল
হককে
সাধারণ
সম্পাদক
ও
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমানকে
যুগ্ম
সম্পাদক
করে
নতুন
এ
দল
প্রতিষ্ঠা
লাভ
করে।
বঙ্গবন্ধু
তখন
কারাগারে।
বয়স
মাত্র
২৯
বছর।
১৯৪৮
সালে
প্রতিষ্ঠিত
পূর্ব
পাকিস্তান
মুসলিম
ছাত্রলীগের
পাশাপাশি
আওয়ামী
লীগের
নেতা-কর্মীরা
ভাষা
আন্দোলনের
দ্বিতীয়
পর্বে
গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা
পালন
করেন।
১৯৪৯
সালে
দেশে
চরম
খাদ্য
সংকট
ও
কোনো-কোনো
জেলায়
দুর্ভিক্ষ
অবস্থা
দেখা
দিলে
বঙ্গবন্ধু
আওয়ামী
লীগের
সভাপতি
মওলানা
ভাসানী
ও
সাধারণ
সম্পাদক
শামসুল
হককে
সঙ্গে
নিয়ে
ঢাকা
শহরে
ভুখামিছিল
বের
করেন
এবং
পুলিশের
বেধড়ক
লাঠিচার্জ
আর
টিয়ার
গ্যাসের
শেলে
তিনি
মারাত্মকভাবে
আহত
হন।
ঢাকার
বাইরে
জনসভায়
সরকারবিরোধী
বক্তব্য
প্রদানের
অভিযোগে
৩১
ডিসেম্বর
তাঁকে
নিরাপত্তা
আইনে
গ্রেফতার
করে
কারাগারে
নিক্ষেপ
করা
হয়।
ভাষা
আন্দোলনের
দ্বিতীয়
পর্ব
(১৯৫২) শুরুর
কিছুদিন
আগে
বন্দি
অবস্থায়
বঙ্গবন্ধুকে
ঢাকা
মেডিকেল
কলেজ
হাসপাতালের
কেবিনে
চিকিৎসার
জন্য
আনা
হয়। চিকিৎসাধীন
থাকা
অবস্থায়
সেখান
থেকে
আওয়ামী
লীগ-ছাত্রলীগ
ও
যুবলীগের
নেতাদের
সঙ্গে
যোগাযোগ
করে
২১
ফেব্রুয়ারি
যেকোনো
মূল্যে
বাংলাকে
রাষ্ট্রভাষা
করার
দাবিতে
কর্মসূচি
পালনে
তাদের
পরামর্শ
দেন।
অপরদিকে,
তিনি
১৬
ফেব্রুয়ারি
থেকে
বন্দি
অবস্থায়
অনশন
পালন
করবেন
বলে
তাদের
জানিয়ে
দেন।
এ-সংক্রান্ত
বিস্তারিত
তুলে
ধরে
বঙ্গবন্ধু
লেখেন,
‘আমি
হাসপাতালে
আছি।
সন্ধ্যায়
মোহাম্মদ
তোয়াহা
ও
অলি
আহাদ
দেখা
করতে
আসে।
... আমি ওদের
রাত
১টার
পর
আসতে
বললাম।
আরো
বললাম,
খালেক
নেওয়াজ,
কাজী
গোলাম
মাহবুব
আরো
কয়েকজন
ছাত্রলীগ
নেতাকে
খবর
দিতে।
দরজার
বাইরে
আইবিরা
পাহারা
দিত।
রাতে
অনেকে
ঘুমিয়ে
পড়েছে।
তখন
পেছনের
বারান্দায়
ওরা
পাঁচ-সাতজন
এসেছে।
আমি
অনেক
রাতে
একা
হাঁটাচলা
করতাম।
... পুলিশরা চুপচাপ
পড়ে
থাকে,
কারণ
জানে
আমি
ভাগব
না
... বারান্দায় বসে
আলাপ
হলো
এবং
আমি
বললাম,
সর্বদলীয়
সংগাম
পরিষদ
গঠন
করতে।
আওয়ামী
লীগ
নেতাদেরও
খবর
দিয়েছি।
ছাত্রলীগই
তখন
ছাত্রদের
মধ্যে
একমাত্র
জনপ্রিয়
প্রতিষ্ঠান।
ছাত্রলীগ
নেতারা
রাজি
হলো।
অলি
আহাদ
ও
তোয়াহা
বলল,
যুবলীগও
রাজি
হবে।
আবার
ষড়যন্ত্র
চলছে
বাংলা
ভাষার
দাবিকে
নস্যাৎ
করার।
এখন
প্রতিবাদ
না
করলে
কেন্দ্রীয়
আইন
সভায়
মুসলিম
লীগ
উর্দুর
পক্ষে
প্রস্তাব
পাস
করে
নেবে।
নাজিমুদ্দীন
সাহেব
উর্দুকে
একমাত্র
রাষ্ট্রভাষা
করার
কথাই
বলেন
নাই,
অনেক
নতুন
নতুন
যুক্তিতর্ক
দেখিয়েছেন।
... আরো বললাম,
খবর
পেয়েছি,
আমাকে
শিগগিরই
আবার
জেলে
পাঠিয়ে
দেবে,
কারণ
আমি
নাকি
হাসপাতালে
বসে
রাজনীতি
করছি।
... পরের
দিন রাতে
এক এক
করে অনেকেই
এল। সেখানেই ঠিক হলো
আগামী ২১
ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন
করা হবে
এবং সভা
করে সংগ্রাম পরিষদ গঠন
করতে হবে।
ছাত্রলীগের পক্ষ
থেকেই রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের কনভেনর করতে
হবে।
ফেব্রুয়ারি
থেকেই
জনমত
সৃষ্টি
করা
শুরু
হবে।
আমি
আরো
বললাম,
“আমিও
আমার
মুক্তি
দাবি
করে
১৬
ফেব্রুয়ারি
থেকে
অনশন
ধর্মঘট
শুরু
করব
...। আমি
একথাও
বলেছিলাম,
মহিউদ্দিন
[আহমদ] জেলে
আছে,
আমার
কাছে
থাকে।
যদি
সে
অনশন
করতে
রাজি
হয়,
তবে
খবর
দেব।
তার
নামটাও
আমার
নামের
সঙ্গে
দিয়ে
দেবে।
আমাদের
অনশনের
নোটিস
দেয়ার
পরই
শওকত
মিয়া
প্যামপ্লেট
ও
পোস্টার
ছাপিয়ে
বিলি
করার
বন্দোবস্ত
করবে।”
(অসমাপ্ত
আত্মজীবনী,
পৃ.
১৯৬-১৯৭;
লেখক
কর্তৃক
গুরুত্বারোপ)।
মেডিকেল
কলেজ
হাসপাতালে
চিকিৎসারত
অবস্থায়
রাজনৈতিক
নেতাদের
সঙ্গে
যোগাযোগের
অভিযোগে
বঙ্গবন্ধুকে
প্রথমে
ঢাকা
কেন্দ্রীয়
কারাগার
এবং
১৬
ফেব্রুয়ারি
১৯৫২
সহবন্দি
মহিউদ্দিন
আহমদসহ
তাঁকে
ফরিদপুর
কারাগারে
স্থানান্তরিত
করা
হয়।
সেখানে
মহিউদ্দিন
আহমেদকে
নিয়ে
পূর্ব
সিদ্ধান্ত
অনুযায়ী
তিনি
ওইদিন
থেকে
একনাগাড়ে
১১
দিন
অনশন
পালন
করেন।
বঙ্গবন্ধুর
নির্দেশ
অনুযায়ী,
ছাত্রলীগ
‘অনশনব্রত
শেখ
মুজিবুর
এবং
মহিউদ্দিন’
শিরোনামে
একটি
লিফলেট
ছাপিয়ে
তা
প্রচারের
ব্যবস্থা
করে।
অপরদিকে,
২০
ফেব্রুয়ারি
আনোয়ারা
খাতুন
এমএলএ
পূর্ববঙ্গ
প্রাদেশিক
আইন
পরিষদে
বঙ্গবন্ধুর
অনশন
সম্বন্ধে
আলোচনার
জন্য
একটি
মূলতবি
প্রস্তাব
উত্থাপন
করেন।
ঢাকা
মেডিকেল
কলেজ
হাসপাতাল
থেকে
বঙ্গবন্ধুর
পূর্ব
পরামর্শমতো
৩১
জানুয়ারি
ঢাকা
বার
লাইব্রেরি
মিলনায়তনে
ছাত্রলীগ
নেতা
কাজী
গোলাম
মাহবুবকে
আহ্বায়ক
করে
২৮
সদস্যবিশিষ্ট
‘সর্বদলীয়
রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদ’
গঠন
করা
হয়।
২১
ফেব্রুয়ারি
কর্মসূচি
পালন
করতে
গিয়ে
পুলিশের
গুলিতে
সালাম,
রফিক,
জব্বার,
বরকত
শহীদ
এবং
অনেকে
আহত
ও
গ্রেফতার
হন।
২২
ফেব্রুয়ারি
পুলিশের
গুলিতে
শহীদ
হন
শফিউর
রহমান।
রাজনৈতিক
নেতা-কর্মীদের
ওপর
নেমে
আসে
সরকারের
চরম
নির্যাতন।
অনেকের
বিরুদ্ধে
দায়ের
করা
হয়
মামলা
ও
গ্রেফতারি
পরোয়ানা।
এভাবে
আওয়ামী
লীগ
সভাপতি
মওলানা
ভাসানী,
সাধারণ
সম্পাদক
শামসুল
হক,
প্রাদেশিক
আইন
পরিষদ
সদস্য
আবদুর
রশীদ
তর্কবাগীশ,
খয়রাত
হোসেন
এমএলএ,
খান
সাহেব
ওসমান
আলীএমএলএ,
বঙ্গীয়
প্রাদেশিক
মুসলিম
লীগের
সাবেক
সাধারণ
সম্পাদক
আবুল
হাশিম,
সর্বদলীয়
ভাষা
সংগ্রাম
কমিটির
আহ্বায়ক
ও
ছাত্রলীগ
নেতা
কাজী
গোলাম
মাহবুব,
ছাত্রলীগের
সাধারণ
সম্পাদক
খালেক
নেওয়াজ
খান,
আবদুল
মতিন
(ভাষা মতিন),
যুবলীগ
নেতা
অলি
আহাদসহ
পাঁচ
শতাধিক
নেতা-কর্মীকে
দেশরক্ষা
আইনে
কারাবন্দি
করা
হয়।
ক্রমাগত
১১
দিন
অনশন
পালনরত
বঙ্গবন্ধুর
অবস্থা
সংকটাপন্ন
হলে,
২৬
মাস
কারাভোগের
পর
সরকার
২৭
ফেব্রুয়ারি
তাঁকে
মুক্তি
দেয়।
হারুন-অর-রশিদ
সাবেক উপাচার্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়