আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ কোটি টাকা দেশের উন্নয়নে ব্যয় করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আর এ টাকার চার ভাগের এক ভাগ খরচ করা হবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে। নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, একাধিক এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বাস র্যাপিড ট্রানজিট, চার লেনের মহাসড়ক উন্নীতকরণ, নতুন রেলপথ নির্মাণ, যমুনা নদীর ওপর রেলসেতু নির্মাণ, নৌপথ, নৌবন্দর, বিমানবন্দরসহ নানামুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে এ টাকায়।
উন্নয়ন বাজেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ বরাদ্দ পাচ্ছে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাত। একইভাবে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নে ১৫ দশমিক ১ শতাংশ, জ্বালানি ও বিদ্যুতে ১১ দশমিক ৫, স্বাস্থ্যে ৬ দশমিক ৬, জনপ্রশাসনে ৬ দশমিক ৪, কৃষিতে ৫ দশমিক ৬, সামাজিক নিরাপত্তায় ৩ ও অন্যান্য খাতে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
প্রস্তাবিত বাজেটে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জন্য ২৮ হাজার ৪২ কোটি টাকার সংস্থান রয়েছে। গত অর্থবছর মহাসড়ক বিভাগে ২৪ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। এটি সংশোধন করে ২৫ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা করা হয়েছে। এ বিভাগের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীতে দ্রুতগতির গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য মেট্রোরেল ও বাস র্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল, টাঙ্গাইল-রংপুর, ঢাকা-সিলেট, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলো ধীরগতির যানবাহন চলাচলের জন্য পৃথক লেনসহ চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। দেশের মহাসড়ক নেটওয়ার্কের উন্নয়নে বর্তমানে মহাসড়ক বিভাগের মাধ্যমে ২৬টি বৃহৎ প্রকল্প চলমান থাকার কথা গতকাল বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী।
পদ্মা সেতুসহ ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় একাধিক এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করছে সেতু বিভাগ। আগামী অর্থবছরের বাজেটে সেতু বিভাগের মাধ্যমে ৯ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। গত বছর সেতু বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল ৭ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা। পরে এটি সংশোধন করে ৪ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল, ঢাকা বিমানবন্দর থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত ঢাকার প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেতু বিভাগ। পাশাপাশি ঢাকা শহরের জন্য সাবওয়ে নির্মাণসহ একাধিক প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে সেতু বিভাগ।
অন্যদিকে বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তা মিলে ৪১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। পদ্মা সেতুর জন্য প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ রেলপথ, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার নতুন রেলপথ, ঢাকা-চট্টগ্রামে ডাবল লাইন রেলপথ, বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরালে নতুন রেলসেতু নির্মাণসহ দেশের রেলওয়ে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাইপলাইনে ঢাকা-চট্টগ্রাম দ্রুতগতির রেলপথ, ঢাকা সার্কুলার রেলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে। আগামী অর্থবছর রেলপথ মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেয়ার জন্য ১৩ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। গত অর্থবছর ১২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছিল রেলপথ মন্ত্রণালয়, যা সংশোধন করে করা হয়েছে ১১ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা।
একইভাবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের জন্য ১ হাজার ৪২০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে একটি উন্নত অর্থনীতির দেশ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আধুনিক, নিরাপদ, টেকসই ও পরিবেশ সহায়ক পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামো নিশ্চিত করার গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের সরকার সে লক্ষ্যে সড়কপথ, সেতু, রেলপথ, নৌপথ ও আকাশপথে ধারাবাহিক ও সমন্বিত বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি সমন্বিত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।