বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজের যে রূপান্তর ও বদল ঘটেছে, সেটার একটা রূপ হয়তো বোঝা যাবে ডাব আর নারকেলের মর্যাদার রূপান্তরেই! খুব কম কৃষক এখন ঝুনা নারকেল বানান, ডাব অবস্থাতেই এখন সব বিক্রি হয়ে যায়।
কারণটা কী?
বছর পঁচিশেক আগেও ঢাকা শহরে একটা ডাবের দাম যখন ঘোর গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ ১৮-২০ টাকা ছিল, একটা নারকেলের দাম তখন ছিল ৩৫-৪০ টাকা। এখন ঘর্মাক্ত দিনে ফুটপাথে একটা ভালো মানের ডাবের দাম আর বাজারে নারকেলের দাম প্রায় সমান কিংবা বেশ কাছাকাছি। ঠিক আজকের দিনে মীনা বাজারে একটা ঝুনা নারকেল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়।
শহরে ছোটখাটো হলেও ডাব কেনার মতো ভোক্তা জনগোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটেছে, সেই কারণে ডাবের চাহিদা ও দাম বৃদ্ধি। অন্যদিকে গ্রাম-শহর নির্বিশেষে মানুষের জীবনের ব্যস্ততা বেড়েছে, সঙ্গে কমেছে পালাপার্বণের সংখ্যা, পিঠাপুলির আয়োজন। ফলে ডাব আকারে খেয়ে ফেলার কারণে বাজারে নারকেলের সরবরাহ হ্রাস পেলেও এবং খাদ্য শিল্পে নারকেলের ব্যবহার আগের চেয়ে খানিকটা বাড়লেও ডাবের তুলনায় তার চাহিদা হ্রাস পেয়েছে বিপুল হারে। ফলে নারকেলের দাম ডাবের অনুপাতে বহু কমেছে। যে বাড়তি শ্রম, সময় ও যত্ন নারকেল তৈরির জন্য দিতে হয়, তার চেয়ে কৃষকের জন্য অনেক বেশি লাভজনক অধিকাংশকে ডাব অবস্থাতেই অর্থকরী ফসল হিসেবে সেটাকে বাজারে পাঠিয়ে দেয়া। ১৯৯০ দশকের গ্রাম সমাজের সঙ্গে আজকের পার্থক্যের এ আভাসমাত্র।
দুই.
কেমন ছিল আশির দশক পর্যন্ত বাংলাদেশের অধিকাংশ গ্রাম?
বাঙালি ঔপনিবেশিক মধ্যবিত্তের জন্ম চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সূত্রে জন্ম নেয়া জমিদারি প্রথার হাত ধরে। বড় ও ছোট অনেকগুলো জমিদারি ও নানান ধরনের স্বত্বের ওপর ভিত্তি করে এ গ্রামীণ মধ্যবিত্তের কাঠামো গড়ে ওঠে। বাংলার এ গ্রামীণ মধ্যবিত্ত অনেকগুলো রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। সাহিত্যে তার একটা খণ্ডিত পরিচয় মিলবে শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বা বিভূতিভূষণ বা তারাশঙ্করের উপন্যাসগুলোতে, অবক্ষয়ী, আর্থিক চাপে কোণঠাসা হতে থাকা কিন্তু নানান সামাজিক অচলায়তন আর জড়তায় আচ্ছন্ন, কখনো কখনো নানান সংস্কারের চেষ্টায় উদ্বুদ্ধ। বিশেষ করে তারাশঙ্করের ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ তো ছকে মিলিয়ে সামন্ত সমাজ থেকে পুঁজিবাদী রূপান্তরকে বোঝার চেষ্টা। ইমদাদুল হকের ‘আবদুল্লাহ’ কিংবা সমকলীন আরো কিছু উপন্যাসে মিলবে মুসলমান সমাজের পুরোনো খানদানি সংস্কারকে অতিক্রম করার প্রয়াসকে। জমির মালিক হলেও এরা নিজেরা কৃষক ছিলেন না, খাজনা আদায় করতেন। গ্রামীণ একটি খানদানি অভিজাত গোষ্ঠী, পাড়াগাঁর ভদ্রলোক শ্রেণী এদের মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল। অনতিকাল পরই, বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকেই সমাজে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখা মিলবে নতুন একটি সমাজের: গ্রামীণ মধ্যবিত্ত কৃষক।
জমিদারি প্রথার আনুষ্ঠানিক বিলোপের আগেই তার অবক্ষয়, শরিকানাজনিত খণ্ডবিখণ্ড হওয়া এবং শক্তিহীনতা বাংলার গ্রামাঞ্চলে রায়ত নামে পরিচিত অংশকে ক্রমেই শক্তিশালী করতে থাকে। মুদ্রা অর্থনীতির ক্রমেই বিস্তৃত হওয়া, পাটের দাম চড়তে থাকা ইত্যাদি নানান অর্থনৈতিক শর্ত সেখানে ভূমিকা রেখেছিল, এর সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে ছিল শেরেবাংলা খ্যাত ফজুলল হকের মতো নেতৃত্বের রাজনৈতিক উত্থান, যাদের মূল সমর্থকরা ছিলেন এ গ্রামীণ কৃষককুল। প্রথমে কৃষক প্রজা পার্টি কিংবা পরবর্তী সময়ে মুসলিম লীগ উভয় রাজনৈতিক দলেরই প্রধান সমর্থক আকারে ১৯৪৭ পর্যন্ত পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস এক অর্থে বলা যায় গ্রামীণ রায়ত শ্রেণীরই উত্থানের ইতিহাস। ১৯৫০ দশকের শুরুতে জমিদারির আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি রায়তদের ক্ষমতাকে আরো বিপুল করে তোলে বিপুল পরিমাণ জমিদারিকে অবমুক্ত করে দিয়ে। এগুলোর একটা বড় অংশ রায়তদেরই মালিকানায় চলে আসে।
বাংলাদেশের গ্রামীণ রায়ত শ্রেণীর এ আর্থিক শক্তিমত্তা কমবেশি ৯০ দশক পর্যন্ত টিকে ছিল। যদিও ১৯৪৭-এর পরই খুব ধীরে ধীরে দেশের রাজনৈতিক শক্তি ক্ষুদ্র আকারে দানা বাঁধতে থাকা শহুরে মধ্য শ্রেণীর হাতে চলে আসতে থাকে। কিন্তু সামাজিক মর্যাদাটা তাদের অটুটই ছিল একরকম। গ্রামীণ ভদ্রলোকেরাই ছিলেন কৃষি জমির বড় অংশের মালিক, গ্রামীণ জীবনের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা এবং অধিকাংশ উঠতি সরকারি কর্মকর্তা/চাকরিজীবী সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশ ছিলেন তাদের আত্মীয় অথবা মেয়ের জামাই। এ প্রসঙ্গে স্মরণ যেতে পারে অধুনা বিলুপ্ত ‘জায়গীর’ প্রথার কথা, সম্পন্ন কৃষকের বাড়িতে থেকে এবং খেয়ে মেধাবী ছাত্রদের শিক্ষাগ্রহণ এবং পরবর্তীকালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় তাদের সঙ্গে আত্মীয়তা সূত্রে আবদ্ধ হওয়া। ধানের দাম তখন বেশ চড়া ছিল অন্যান্য পণ্যের বিপরীতে। ফলে গ্রামীণ মধ্যবিত্ত তাদের জমিতে কৃষিমজুর দিয়ে চাষবাস করিয়ে পাওয়া ধান বিক্রি করেই সারা বছরের স্বচ্ছন্দ বাজার এবং কিছুটা বিলাস পণ্যের জন্য ব্যয় করতে পারতেন। শিক্ষা ও সঞ্চয়েও তারা কিছুটা ব্যয় করতেন।
অন্যদিকে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনের গতি ছিল খুবই ধীর, অপুষ্ট ও আশাহীন। প্রয়াত চারণ সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দীনের ভাষ্য থেকে দারিদ্র্যপীড়িত উত্তরবঙ্গের রংপুরে অঞ্চলের যে বিবরণ ১৯৯০ দশকের শুরুতেও মেলে, সেখানে সাক্ষাৎ পাই দুই সের চালের বিনিময়েও কাজ পাওয়ার জন্য মরিয়া গ্রামীণ দিনমজুরের। ঠিক ততটা না হলেও দক্ষিণবঙ্গের বরগুনা অঞ্চলের গ্রামীণ সমাজেও কাছাকাছি ধরনের দারিদ্র্য ৮০ দশকের পুরোটা জুড়ে দেখেছি। সম্পন্ন মধ্যবিত্তের বাড়ি থেকে ভাতের মাড় নিয়ে যেতেন দারিদ্র্যপীড়িতরা, বোধ করি এ তথ্যটিই সম্পন্ন রায়তদের বিপরীতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনের বাস্তবতা ও লাঞ্ছনা বোঝানোর জন্য যথেষ্ট।
আশির দশকেও বাংলাদেশে পুরনো কাপড়ের বাজার ছিল রমরমা। নতুন কাপড়ের দাম গড় আয়ের নাগালের বাইরে থাকার কারণে ঢাকায় নিক্সন মার্কেট/রিগ্যান মার্কেট/ বুশ মার্কেট নামে পরিচিত বিদেশী পুরনো কাপড়ের বাজারটা নাগরিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কেবল নয়, গ্রামীণ দরিদ্র, এমনকি মধ্যবিত্তেরও একটা বড় অংশের চাহিদা মেটাত। বিশেষ করে শীতবস্ত্রের এটাই ছিল বৃহত্তম উৎস। পৃথিবীজুড়েই এরপর পোশাক উৎপাদন প্রযুক্তির উন্নতি হয়েছে, উৎপাদন বেড়েছে, গড় আয় বেড়েছে, পোশাক সস্তা হয়েছে।
পরিবহনের বিষয়েও খেয়াল করা যাবে বিরাট পরিবর্তন। ৮০ দশকেও পায়ে হাঁটা অথবা নৌকাই ছিল প্রধান গ্রামীণ পরিবহন। এর বাইরে ছিল গরুর গাড়ি। ফলে যাতায়াত সহজ ছিল না। আত্মীয় বাড়িতে যাওয়া কিংবা হাট-বাজার-গঞ্জ-বিনোদন সবই নিয়মমাফিক করতে হতো। নাইওরের সময় ছাড়া হুট করে বাপের বাড়ি যাওয়া চলত না যেমন, চাইলেই ধান ওঠার ঋতু ছাড়া একটা কিছু কিনে ফেলা যেত না। এ তুলনামূলকভাবে গতিহীন গ্রামীণ জীবনে মাতব্বররা একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন। যৌতুক হিসেবে রেডিও, সাইকেল কিংবা ঘড়ি ছিল জনপ্রিয় সামাজিক উপকরণ। প্রায় সব বিয়েই ছিল পারিবারিকভাবে আয়োজন করা, বিশেষ করে পাত্রীর পছন্দ সেখানে সামান্যই ভূমিকা রাখত। ঘটকরাও তাই সমাজে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। অধিকাংশ গ্রামে আলো ছিল না, বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা বা টেলিভিশন খুব সম্পন্ন মধ্যবিত্ত পরিবারেও বিরল ছিল।
তিন.
গ্রামীণ রূপান্তরের ধরনটা কেমন?
গৃহস্থ পর্যায়ের গ্রামীণ অর্থনীতি ৭০ দশকেও খুব সামান্যই শহরের ওপর নির্ভরশীল ছিল, দারিদ্র্যপীড়িত অথচ এক ধরনের স্বয়ংসম্পূর্ণতা ছিল তার প্রধান বৈশিষ্ট্য। ১৯৮০ দশকে সেগুলো উন্মোচিত হতে শুরু করে সড়ক ব্যবস্থার ধারাবাহিক উন্নতির ফলাফল হিসেবে। ভালোমন্দ সব রকম প্রতিক্রিয়া সমেত এ প্রক্রিয়ায় গ্রামের অর্থনীতিতে নগদমুদ্রার প্রভাব বাড়ল। এ প্রক্রিয়াটা ধীর কিংবা দ্রুতগতিতে চলতে চলতে ১৯৯০ দশকের মাঝে সুসম্পূর্ণ হয়েছে। ১৯৯০ সালের আগ পর্যন্ত নানাবাড়িতে নাপিতকেও ধান উঠলে মাইনে নিতে দেখেছি, দেখেছি নিত্যপ্রয়োজনীয় সব দ্রব্য যেমন তেল, সাবান, লবণ, সিগারেট, তৈজসপত্র ইত্যাদি সবকিছু ধানের বিনিময়ে কিনতে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি দূরপ্রান্তের গ্রামটিকেও কেন্দ্রের সঙ্গে ধীরে ধীরে সংযুক্ত করেছে, কাজের সন্ধানে মানুষ শহরে চলে এসেছে। দিনমজুরি বা হকারি কিংবা রিকশা চালানোর মতো গৌণ কাজ করলেও এবার তার হাতে এসেছে নগদ অর্থ, যার একটা বড় অংশ তারা গ্রামে নিয়ে গিয়েছেন। এই প্রথম একটা সমর্থ অংশ এল, যাদের হাতে ধান নেই, কিন্তু নগদ টাকা আছে। মাছ বা মুরগি ওজন করে কেনা এবং ধান-চালের বদলে নয়, নগদ অর্থে কেনার চলটি শুরুতে একটা বিস্ময় জাগালেও দ্রুতই মানুষ নগদ অর্থের সংস্কৃতির সঙ্গে অভ্যস্ত হতে থাকে।
গ্রামের অর্থনীতি এ উন্মোচন বিশাল পণ্যের বাজার, শ্রমের বাজার, সেবার বাজার সৃষ্টি করেছে। মজুরির সুযোগ বৃদ্ধির ফলে কাঁচা পয়সা হাতে এসেছে। গ্রামীণ পরিবহনের খাতেই এখন অর্ধকোটির বেশি মানুষ যুক্ত, যা তিরিশ বছর আগে প্রায় অনুল্লেখ্য ছিল। এগুলোর সঙ্গে প্রবাসী আয়, পোশাক শিল্পে বিপুল কর্মসংস্থান প্রভৃতি মিলে দরিদ্রতর মানুষের জীবনমানকে পুষ্টিগ্রহণ, জুতো, সাবান, শীতবস্ত্রের ব্যবহার প্রভৃতি বিষয়ে ৭০ দশকের তুলনায় বহুগুণ উন্নত স্তরে নিয়ে এসেছে। খুব সম্ভবত এই গতি সম্ভাবনার তুলনায় অনেকদূর শ্লথতর হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি থেকে বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণের সুদ আকারে বিপুল পরিমান অর্থ তুলে নেয়ার ফলে। একই সঙ্গে গ্রামের মানুষদের প্রাপ্য বহু রকম সরকারি সেবা, প্রযুক্তি ও তথ্য এনজিওদের মাধ্যমেই গ্রামাঞ্চলে বিস্তৃত করা হয়েছে বলে গ্রামীণ পালাবদলে এ সংস্থাগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আশির দশকের বাংলাদেশের গ্রাম ছিল পুঁজিবাদের সামনে নতুন ক্ষেত্র উন্মুক্ত হওয়ার মতো, সব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এটা একটা মৌলিক অগ্রগতি নিয়ে এল। খাবারের জন্য পরের বাড়িতে ভাতের মাড় নিতে কেউ আসতে পারে, এটা যাদের বয়স ৪০-এর কম, তারা এখন আর কল্পনাই করতে পারবেন না। শিশুমৃত্যুর হার কমা, প্রসূতি মৃত্যুর হার কমা, নারী শিক্ষার অগ্রগতি—সবগুলো বিষয়ে সাধারণ তথ্য তুলনা করে দেখা যাবে, প্রতি পাঁচ বছরে আগের ধাপগুলোর তুলনায় আমরা অগ্রসর হয়েছি।
বিপুল মানুষের জীবনের এ পরিবর্তন একটা ছোট অংশকে ঠিকই বিপন্ন করেছে। গ্রামীণ ভূমিকেন্দ্রিক কৃষক মধ্যবিত্ত শ্রেণীটি বহুমুখী অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছে এ সময়ে। তাদের যে অংশটা শিক্ষা-চাকরি-ব্যবসা-যোগাযোগ-বিদেশ গমন ইত্যাদি নানান সূত্রে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলাতে সক্ষম হয়েছে, তারা এখনো গ্রামীণ মধ্যবিত্তের সচ্ছল অংশের মাঝে আছেন, অবশ্য তাদের বড় অংশটি ইতিমধ্যেই শহরবাসী হয়েছে। কিন্তু যে উল্লেখযোগ্য অংশটি এ পালাবদলের সঙ্গে তাল মেলাতে সক্ষম হয়নি, ব্যবসা/চাকরি/প্রবাসী আয়ের বদলে ভূমির উপার্জনের ওপরই নির্ভরশীল থেকেছে, তারা বেশ অনেকটা অবক্ষয়ের শিকার হয়েছে। কারণ একদিকে অন্যান্য পণ্যের তুলনায় ধানের আয় কমেছে, অন্যদিকে কৃষিমজুরি বহুগুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামীণ কৃষক মধ্যবিত্তের প্রধান আয় ছিল ধানের আবাদ, খরচ বৃদ্ধির কারণে এই শস্যটির আবাদ এখন সামান্যই লাভজনক। বরং গ্রাম ও মফস্বলে ধনীরা ছোট ও মাঝারি ঠিকাদার, রড-সিমেন্ট-ইটের কারবারি, নানান ধরনের ব্যবসায়ী। রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমেও অনেকেই অর্থবিত্ত আহরণ করছেন।
নিজেরা চাষাবাদ লাভজনক না হওয়ার গ্রামীণ মধবিত্তের একটা বড় অংশই নগদ অর্থের বিনিময়ে বর্গা দিয়ে রেখেছে, কিংবা শস্য আবাদের বদলে কৃষিজমিতে মেহগনি বা ইউক্যালিপটাস কাঠের মতো বাণিজ্যিক আবাদে গিয়েছে। কিন্তু মোটা দাগে ভূমিনির্ভর গ্রামীণ কৃষকের আয় কমার প্রবণতা ছিল এ রূপান্তরের কালের একটা বৈশিষ্ট্য। আগে প্রধানত ক্ষুদ্রসংখ্যক অনুপস্থিত ভূমি মালিকরাই তাদের জমি বর্গা চাষে দিয়ে দিত, ৯০ দশকের পর ক্রমেই অনুপস্থিত জমি মালিক ও বর্গাদার উভয়ের সংখ্যাই বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্গাদারের পক্ষে এ ধান চাষটা সুবিধার এই অর্থে যে বছরের খোরাকি ধান বাজার থেকে কিনে খাবার বদলে চাষ করাটা তার জন্য লাভজনক। নিজের শ্রম বিনিয়োগ করা হয় বলে অন্যান্য আবাদেরও কিছু লাভ তিনি তুলতে পারেন। এর ফলে বাংলাদেশের গ্রামীণ বৃক্ষরাজির মানচিত্রেও বিশাল বদল ঘটেছে।
চার.
গ্রামীণ এ রূপান্তরের সীমা কতদূর?
৭০, ৮০ ও ৯০ দশকজুড়ে গোটা দুনিয়াই এগিয়েছে। আমরাও। গড় আয়ু বেড়েছে, পায়ে জুতো উঠেছে, শরীরে অন্তর্বাসও। কিন্তু যদি তুলনায় বসি, তাহলে হিসাবটা কেমন দাঁড়ায়? ভিয়েতনাম বা মালয়েশিয়ার তুলনায় এখন আমরা বহু পেছনে তো বটেই, অতি সম্প্রতি আমাদের চেয়ে খুব খারাপ দশায় থাকা বহু দেশেরও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর রূপান্তর আমাদের চেয়ে অনেক গুণ বেশি ঘটেছে। আত্মতুষ্ট থাকতে চাইলে ভারতের কয়েকটি প্রদেশ কেবল সান্ত্বনা দিতে পারে। এ কারণেই অগ্রগতিটা মাপতে হবে প্রথমত, আমাদের সম্ভাবনার সঙ্গে: কত সম্পদ তৈরি করে আমরা কতটুকু অর্জন করেছি। কিংবা, কত সম্পদ তৈরির সম্ভাবনা আমরা দুর্নীতি, অপচয় আর গোঁয়ার্তুমির কারণে নষ্ট করেছি। এগুলো হলো নিজেদের সম্ভাবনার সঙ্গে নিজেদের বাস্তব অবস্থার তুলনা।
দ্বিতীয় মাপটা হলো আমাদের কাছাকাছি বা আমাদের চেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা। এসব বিষয়ে যদি আমরা বৈশ্বিক অগ্রগতির সঙ্গে, কিংবা আরো ভালো হয়, আমাদের কাছাকাছি দশায় যারা ৬০-৭০-৮০ দশক ছিল, তাদের সঙ্গে তুলনা করলে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপে যত বোমা পড়েছিল, তার চেয়ে বেশি বোমা পড়েছিল ভিয়েতনামে। সেই ভিয়েতমানের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। ৬০ দশকের কোরিয়ার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। ৭০ দশকের মালয়েশিয়ার সঙ্গেও তুলনা করা যায়। বৈশ্বিক বিচারে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নাগরিক রূপান্তরের হারে, তাদের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা বা স্বাস্থ্যের বন্দোবস্ত করার বেলায় আমরা ভয়াবহ রকমের পিছিয়ে আছি। সড়কের মান কিংবা অন্যান্য সেবার বিচারেও।
নিজের সম্ভাবনার সঙ্গে নিজেদের বাস্তব অর্জনের বিচারটাই আসলে আসল বিচার। সেই বিচারে বলা চলে গ্রামীণ বিকাশ একটা বদ্ধ অবস্থার মধ্যে পড়েছে। খুব নির্মোহ বিচারে পরিষ্কার হবে যে গ্রামীণ অগ্রগতিটা সরকারগুলোর লক্ষ্য ছিল না, লক্ষ্য ছিল অন্যান্য নানান বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ। অগ্রগতিটা ঘটেছে উপজাত হিসেবে, লক্ষ্য হিসেবে অগ্রগতিটা প্রাধান্যে থাকলে তা বহুগুণ বেশি অর্জিত হতো। এসবের করণে ৬০ থেকে শুরু হওয়া, ৯০ দশকে সর্বব্যাপ্ত হওয়া বাণিজ্যিক আবাদ, মুরগি ও দুধের খামার এখন বীজ, সার, কীটনাশক, ওষুধ, পশুখাদ্য, যন্ত্রপাতি উৎপাদকের জন্য বিরাট মুনাফার ধারাবাহিক উৎস হলেও কৃষকের আয় ও মুনাফা ক্রমাগত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে। সত্যি বলতে কী, কখনই কৃষকের ক্ষমতায়ন ও তার উন্নতিকে ঘিরে পরিকল্পনা করা হয়নি। এর ফলে সংশ্লিষ্ট অন্যদের মুনাফার ভাগটা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও অতি প্রতিযোগিতার কারণে কিছুদিন পর পর বাজার ধসের কারণে ডিম ও দুধের উৎপাদকরা ঝামেলায় পড়ছেন, পড়ছেন শস্য আবাদিরা। এটাই বাংলাদেশের বিকাশের একটা বৈপরীত্য, বিশ্বের মাঝে সবচেয়ে কম আমিষ খাওয়া (ডিম-দুধ-মাংসের বিচারে) জাতি হলেও ক্রেতার সামর্থ্যের অভাবে এ সীমিত উৎপাদনও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রায়ই অতি-উৎপাদন হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যার ফলাফল মুনাফার হ্রাস কিংবা অনিশ্চয়তা।
এ বাস্তবতাতেই শিক্ষিত বেকার তরুণ ও প্রবাসীদের একটা বড় অংশ নতুন করে বাণিজ্যিক খামারে বিনিয়োগ করেছে। নগরে শিল্পায়নের ধীর গতি আবারো শিক্ষিত মধ্যবিত্তকে ঠেলে আনছে কৃষিতে। যদিও এরই মধ্যে এ কৃষির রূপ বদল ঘটেছে বিপুল হারে।
পাঁচ.
এখনো বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬২ ভাগের বাস গ্রামে। এদের একটা বড় অংশই লোকসানি জনগোষ্ঠী, বাধ্য হয়ে জীবন ক্ষয় করে গ্রামে থাকে। তাদের লোকসানের খানিকটা পূরণ হয় প্রবাসী শ্রমিকদের টাকায়, বাকি ঘাটতিটা মেটান পোশাক শিল্পশ্রমিক আর রিকশাচালকরা। অধিকাংশ রিকশাচালক করোনার আগের সময়টাতে মাথাপিছু প্রতিদিন গড়ে ৩০০ টাকারও বেশি গ্রামে বিকাশ করতেন। বলা চলে বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতির রক্তসঞ্চালক এরাই। গ্রাম থেকে টাকা তুলে নেন অনুপস্থিত জমির মালিক, যদিও তার ভাগ কমছে ক্রমেই। কিন্তু বাড়ছে কৃষির নানা খাতে উপকরণ যারা জোগান দেয় তাদের ভাগ। আগেই বলেছি এদের কথা: সার, কীটনাশক, পশুখাদ্য, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের উৎপাদক ও ব্যবসায়ী। এরাও শহরবাসীই। কৃষিক্ষেত্রের বিকাশে এদের নানান মাত্রায় ভূমিকা থাকলেও খোদ উৎপাদকের মুনাফা নিশ্চিতকরণে এদের কোনো ভূমিকা কখনই দেখা যায়নি। নিজেদের উচ্চমুনাফার ভাগটা সুনিশ্চিত করে কৃষককে এরা ফেলে রেখেছে বাজারের অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে। এ বাস্তবতার মধ্যেও শিক্ষিত তরুণদের একটা অংশের কৃষিতে আগ্রহী হওয়ার প্রপঞ্চটির জন্ম এবং সম্ভাবনা আছে এ নতুন শিক্ষিত কৃষক প্রজন্ম হয়তো খেলাটা আজ কিংবা আগামীকাল ঘুরিয়ে দিতে পারে।
কৃষিতে টিকে থাকাটা অবশ্য এ শিক্ষিত, খোঁজখবর জানা অংশের জন্যও একটা প্রাণান্তকর সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। ভিয়েতনামি নারকেল নাকি মালয়েশিয়ার নারকেলের চেয়ে বেশি ভালো—তিন বছরে ফল ধরে, ফিলিপিনো আখে বাজার মাত কয়েক বছর ধরে। কাদাথনাথ মুরগির বাজার পড়ছে নাকি উঠছে, অনেক দাম দিয়ে ব্রাহ্মা গরুর খামার দেয়ার ঝুঁকি নেয়া ঠিক হবে কি না, পোশাক কারখানা বন্ধ হলে চাষের পাঙাশ কারা কিনবে, ফলন বেশি হলেও রেডলেডি পেঁপে গাছে ফাঙ্গাসের আক্রমণ হয় মারাত্মক, সৌদি খেজুর কিংবা বারী মাল্টা কোনটার চাষ নিরাপদ—অজগ্র ঝুঁকি আর শর্ত মিলিয়েই তরুণকে তার পুঁজি আর শ্রম বিনিয়োগের ক্ষেত্রটা খুঁজতে হয়। এর ফলে বাংলাদেশের গ্রামীণ পশুপাখি ও বৃক্ষরাজির মানচিত্রেও বিশাল বদল ঘটেছে, অস্থিরতা বেড়েছে বলার চেয়ে বহুগুণ বেশি মাত্রায়।
শিক্ষিত ও প্রযুক্তিবান্ধব তরুণেরা কৃষিতে যুক্ত হওয়ায় অজগ্র নতুন প্রযুক্তি ও শস্যও মাঠে এসেছে। তাদের মেধা ও উদ্যমের ঘাটতি নেই। কিন্তু তারা যাদের জন্য উৎপাদন করবে, সেই শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আকার বাড়ছে বেশ ধীরে, শহুরে শ্রমিকদের আকার বড় হলেও তাদের ক্রয়ক্ষমতা সামান্য, পাঙাশ আর পোলট্রি মুরগির আমিষও তাদের নিত্য জোটে না। উদ্যোক্তা গ্রামীণ ও মফস্বলবাসী তরুণের ব্যর্থতায় নয়, রাষ্ট্রীয় নীতির সংকটের কারণে গ্রামীণ অর্থনীতির এ বিকাশের সম্ভাবনা বলা চলে একটা পর্যায়ের পর মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। কিংবা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এগোচ্ছে। একই সরকারি নীতির নেতিবাচক ভূমিকা তো আছেই। যেমন পত্রিকান্তরে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী ‘দেশে এখন ছাগলের সংখ্যা ১ কোটি ৯২ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৩। আর গরু আছে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৫টি। এ হিসাবে বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে শ্রমিক, পশুখাদ্য উৎপাদন, পরিবহন, হাটবাজার হয়ে কসাইখানা পর্যন্ত গ্রামীণ ও আধা গ্রামীণ যত মানুষের কর্মসংস্থান এ খাত তৈরি করে, তা লাখ তিরিশেকের চেয়ে বহু বেশি হবে। শহরে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়লে এ উৎপাদন এবং সেই সঙ্গে উদ্যোক্তার সংখ্যা ও কর্মসংস্থানের সংখ্যাও বহু গুণ বৃদ্ধির সুযোগ আছে। অথচ প্রায় কোনো সরকারি সহযোগিতা ছাড়া তৈরি হওয়া এই শিল্পও সরকারের তেমন সুরক্ষা পাচ্ছে না, বরং প্রতি বছর উত্তরোত্তর বেশি হারে বিদেশ থেকে গোমাংস আমদানি করা হচ্ছে!
ছয়.
গ্রামীণ রূপান্তরের একটা বড় ক্ষয়ক্ষতির দিকটি হলো তার প্রতিবেশগত সম্পদের বিপুল ধ্বংসসাধন। পানি, উর্বরতা ও মাটির ওপর অসম্ভব চাপ প্রয়োগ। বলা চলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর রূপান্তরের একটা বড় অংশ ঘটেছে প্রকৃতির পুঁজি ভাঙিয়ে, আদৌ তার পুনর্ভরণ না করে। আর্সেনিকের সমস্যা, পানির স্তর নেমে যাওয়ার সমস্যা, ক্রমেই বাড়তে থাকা উর্বরতার সমস্যা তাই দিন দিন মারাত্মক আকারে দেখা দিচ্ছে। আমার মা তার নিজের গ্রামে শৈশবের কাঁটাবহরী নামের ঝোপালো ফলের গাছটা খুঁজে পান না, এ ক্ষতি শুধু স্মৃতির ক্ষতি নয়। যে বিপুল জৈববৈবিচত্র্য ধ্বংস হয়েছে, তার বাণিজ্যিক মূল্যও বিপুল। আজকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা বিপুলাকৃতির ব্রহ্মা মুরগিটা আমাদেরই ‘আসলি’ জাতের মুরগিরই বংশধর। সংরক্ষণের অভাবে আমাদের দেশেই বিরল হয়ে গেছে সেটা। আজকে নতুন প্রজন্মের আগ্রহী খামারিরা দেশী মুরগির ছানা পেতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয় অথচ আশির দশকে দেশীয় মোরগের বদলে বিদেশী মোরগ বিনা মূল্যে বদলি করার কর্মসূচি নিয়ে দেশের বৈচিত্র্যপূর্ণ মুরগির জাতগুলোকে বিপন্ন করা হয়েছে, সেগুলোর কোনো জাত সংরক্ষণ বা গুণাগুণের পর্যালোচনা ছাড়াই! বেগুন, আম, ধান, ডালের অজস্র গাছের বহু প্রজাতি বৈচিত্র্য বিলুপ্ত হয়েছে, বিলুপ্ত হয়েছে অজগ্র দেশী প্রজাতির মাছ। ক্ষয়ক্ষতি বেশ অনেকদূর এগোনোর পরই আমরা জানতে পারছি সেগুলোর মূল্য। খেয়াল রাখা দরকার যে হালের গৌড়মতি নামের হইচই ফেলে দেয়া আমটির জাত এসেছে আশ্বিনার মতো একটি তুলনামূলকভাবে অবহেলিত ও ল্যাঙড়ার মতো অভিজাত আমের প্রাকৃতিক পরাগায়ন থেকে, দৈবাৎ। এমন অজস্র সচেতন গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ দেশের ফসল বৈচিত্র্য নিয়েই সম্ভব। এ রূপান্তরের প্রায় পুরোটা সম্পন্ন হয়েছে তাই খোদ গ্রামবাসীর সম্পদ-সম্ভাবনা-উপযোগিতার বিবেচনা না করে এবং রূপান্তরের কর্তাসত্তা হিসেবে কৃষক কিংবা গ্রামীণ জনগোষ্ঠী আদৌ ছিল না।
বরং কর্তাসত্তা আকারে আবির্ভাবের একটা চেষ্টা বা সম্ভাবনা এখন খানিকটা দেখা যাচ্ছে। ওষুধ ও রাসায়নিকের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত হওয়ার বা কমিয়ে আনার একটা আকাঙ্ক্ষা বেশ জোরালো আকারে দেখা দিচ্ছে। ‘গরুর ওষুধ আর ডাক্তারে সব লাভ খেয়ে নেবে, খামারিকে তাই রোগবালাই ঠেকাতে শিখতে হবে নিজেকেই’—এ মনোভাব কৃষির সব খাতেই তরুণদের মাঝে ক্রমাগত বাড়ছে। ভোক্তার স্বার্থে যেমন, তেমনি উৎপাদকের মুনাফা বৃদ্ধির জন্যও দরকার নিরাপদ কৃষির বিস্তার, সার-বীজ-কীটনাশকের বাড়তি খরচের ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমানো। একই সঙ্গে প্রয়োজন গ্রামীণ নতুন এ শিক্ষিত কৃষককুলের রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশও: এককভাবে তারা যদি সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থান তৈরি করে থাকে, দেশের অর্থনৈতিক নীতিও তাদের স্বার্থেই পরিচালিত হতে হবে। তাদের ওপর ভিত্তি করেই দেশের শিল্পভিত্তি তৈরি হতে হবে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রামীণ কৃষকের মুনাফা নিশ্চিত করে, তার ভোগ-উপভোগের সামর্থক্যকে বৃদ্ধি করে এবং তার সুলভ ঋণ, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে কেন্দ্রীয় বিবেচনায় নিয়ে যখন বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে, তখনই বাংলাদেশের সত্যিকারের গুণগত পরিবর্তন সম্ভব, সম্ভব বাংলাদেশের যে অমিত সম্ভাবনা, তার বাস্তবায়ন। বাংলাদেশের নতুন শিক্ষিত কৃষককুল সেই চেতনা নির্মাণ করতে পারবে কিনা, তার ওপর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎও অনেকটাই নির্ভর করছে।
ফিরোজ আহমেদ: রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য, গণসংহতি আন্দোলন। সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন