হাওড়ে খাদ্যশস্যের বিবর্তন

বাংলাদেশ বিগত এক দশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং অতি দরিদ্রতা হ্রাসে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। তবে এখনো দরিদ্র জনসংখ্যার একটি অংশ সুষম খাদ্য গ্রহণে সক্ষম নয়। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দানাজাতীয় শস্য বিশেষ করে ধান উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য প্রণিধানযোগ্য, যা বৃহৎ জনগোষ্ঠীর খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে সবিশেষ ভূমিকা রাখছে। তদুপরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাঝেমধ্যেই খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে, যার মধ্যে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে আছে হাওড়, সাগর ও নদীপাড়ের মানুষ।

বাংলাদেশ বিগত এক দশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং অতি দরিদ্রতা হ্রাসে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। তবে এখনো দরিদ্র জনসংখ্যার একটি অংশ সুষম খাদ্য গ্রহণে সক্ষম নয়। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দানাজাতীয় শস্য বিশেষ করে ধান উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য প্রণিধানযোগ্য, যা বৃহৎ জনগোষ্ঠীর খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে সবিশেষ ভূমিকা রাখছে। তদুপরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাঝেমধ্যেই খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে, যার মধ্যে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে আছে হাওড়, সাগর নদীপাড়ের মানুষ।

হাওড় হলো প্লেট বা বৌল আকৃতির বৃহৎ ভূ-গাঠনিক অবনমন। প্রায় ছয় মাস (মে-অক্টোবর অথবা জুন-নভেম্বর) হাওড় এলাকা -১০ মিটার পানির নিচে থাকে, যা সাগরের মতো দেখায়। আর শুকনো মৌসুমের ছয় মাস দিগন্তজুড়ে ফসলের মাঠ ঘাসে শ্যামল প্রান্তরে রূপ নেয়। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বাংলাদেশে ছোট-বড় ৪১৪টি হাওড় রয়েছে, যার আয়তন লাখ ৫৮ হাজার ৪৬০ হেক্টর। ভাটি এলাকা হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জে ১৩৩টি, সিলেটে ৪৩, হবিগঞ্জে ৩৮, কিশোরগঞ্জে ১২২, নেত্রকোনায় ৮০, মৌলভীবাজারে চার ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় তিনটি হাওড় রয়েছে। প্রায় দুই কোটি মানুষ হাওড়, জলাভূমি জলাশয় সন্নিহিত এলাকার অধিবাসী। সারা দেশের মত্স্য চাহিদার ২০ ভাগ এবং ধানের ১৮ ভাগ সাত জেলায় উৎপাদন হয়। দেশের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত হাওড় এলাকার প্রচুর উদ্বৃত্ত ধান স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য জেলায়ও সরবরাহ করা হয়। ধান ছাড়াও এলাকায় অল্পবিস্তর আলু, মিষ্টি আলু, সরিষা, চিনাবাদাম ডালজাতীয় ফসল উৎপাদন হয়।

হাওড়ের মানুষ একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। এখানকার মূল শস্য বিন্যাস হলো বোরো-পতিত-পতিত। একটা সময় ছিল যখন হাওড়বাসী বিভিন্ন স্থানীয় জাতের বোরো ধান যেমনটেপি বোরো, রাতা বোরো, খইয়া বোরোর চাষ করত। এসব স্থানীয় জাতের ফলন কম হওয়ায় ধীরে ধীরে তারা উফশী জাতের বোরোর আবাদ শুরু করে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত ব্রি ধান২৮ ব্রি ধান২৯ হাওড় এলাকার জনপ্রিয় যেসব হাওড় এলাকায় আগাম বন্যা চলে আসে সেসব জায়গায় অপেক্ষাকৃত স্বল্পমেয়াদি জাত ব্রি ধান২৮ চাষাবাদ হয়। আর যেসব জায়গায় পানি একটু দেরিতে আসে সেখানে ব্রি ধান২৯-এর চাষ হয়। ব্রি ধান২৯-এর ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকদের কাছে এটি বেশি জনপ্রিয়। তবে ব্রি ধান২৮-এর চাল অপেক্ষাকৃত চিকন এবং এটি ব্রি ধান২৯-এর চেয়ে কম সময়ে পরিপক্ব হয়। বন্যা সহনশীল ধানের জাত যেমনব্রি ধান৫১, ব্রি ধান৫২ হাওড় এলাকায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে, যেগুলো -১৪ দিন পর্যন্ত পানিতে ডুবে থাকলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।

ছয় মাস অথৈ পানিবন্দি কর্মহীন জীবন আর ছয় মাস একটি মাত্র বোরো ফসল মত্স্য উৎপাদনের সংগ্রাম, যেন হাওড়বাসীর নিয়তির লিখন। ছয় মাসের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমে সোনার ফসল ঘরে উঠলে হাওড়বাসীর মুখে ফুটে তৃপ্তির হাসি। বড় কৃষকরা প্রচুর ধান পায়, যা বিক্রি করে শহরে পরিবার নিয়ে বিলাসী জীবনযাপন করে আর বেশির ভাগ ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ভূমিহীন কৃষক, যারা নিজের জমি বর্গা চাষ অথবা দিনমজুরের কাজ করে জমানো ধান মাছ ধরে কোনোমতে দিনাতিপাত করে। কিন্তু কোনো কারণে যদি একটিমাত্র বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সব আশার আলো নিভে যায়। তখন হাওড়বাসীর কষ্টের আর সীমা থাকে না। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ভূমিহীন কৃষকদের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা দুঃসাধ্য হয়ে যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সাম্প্রতিক কালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন হাওড়বাসীর নিত্য বছরের সঙ্গী হয়ে গেছে। চিঁটা শিলাবৃষ্টির কারণে ২০১৪ সালে এবং অকাল আকস্মিক বন্যায় ২০১৬ ২০১৭ সালে হাওড়ে বোরো ধান উৎপাদন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের আগে বোরো ধান রোপণ করলে ফেব্রুয়ারির শেষে মার্চের প্রথমে যদি রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নিচে থাকে তাহলে ঠাণ্ডাজনিত কারণে ধান চিঁটা হয়। আবার দেরিতে ধান রোপণ করলে এপ্রিলের শেষে অথবা মে মাসে অকাল আকস্মিক বন্যায় পাকা বা আধাপাকা ধান তলিয়ে কৃষকরা সর্বস্বান্ত হয়। উভয় সংকট অবস্থাই যেন হাওড়বাসীর জন্য কঠিন বাস্তবতা। তাই একটি মাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন উপযোগী ফসল, জাত প্রযুক্তি নির্বাচন করা, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কৃষকের বেঁচে থাকার অবলম্বন হারিয়ে না যায় এবং শস্য বহুমুখীকরণ নিবিড়তা বৃদ্ধি করে কৃষকের আয় তথা আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করা যায়।

মাছে ভাতে বাঙালি কথাটা হাওড় এলাকার মানুষের জন্য যেন শতভাগ প্রযোজ্য। হাওড় অঞ্চলের মানুষ তাদের জীবন জীবিকার জন্য মাছের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। বছরের প্রায় ছয় মাস তারা মাছ ধরে আমিষের চাহিদা পূরণ করে এবং পাশাপাশি মাছ বিক্রি করে আর্থিক চাহিদা মেটায়। হাওড় অঞ্চলে মূলত মিঠাপানির মাছ পাওয়া যায়। মিঠাপানির মাছের মধ্যে বোয়াল, চিতল, রুই, কাতলা, মৃগেল, আইড়, বাইম, টেংরা, শিং মাগুর উল্লেখযোগ্য। হাওড়ের উপরিভাগের পানি শীতকালে শুকিয়ে গেলেও হাওড়ের তলায় পানি থাকায় সারা বছর সেখানে মাছ পাওয়া যায়। হাওড়ে যখন প্রচুর মাছ পাওয়া যায় তখন হাওড় অঞ্চলের মহিলারা অতিরিক্ত মাছ শুকাতে শুরু করে। শুকানোর পর ঢাকা থেকে পাইকাররা সরাসরি হাওড়ের শুকনো মাছ কিনে নিয়ে যায়। গ্রামীণ নারীরা শুকনো মৌসুমে খাওয়ার জন্যও কিছু মাছ সংরক্ষণ করে। মাছ শুকানোর প্রক্রিয়ার সঙ্গে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীরা যুক্ত থাকে, তাই হাওড় অর্থনীতির ক্ষেত্রে নারীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। হাওড়ে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাঁচায় মাছ চাষ করা যেতে পারে। এতে মিঠাপানির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং হাওড় এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান আয়বৃদ্ধি পাবে।

হাওড়ে ফসল উৎপাদনের জমি বাদ দিলে অনেক খালি জায়গা থাকে, যা চারণভূমি হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। সেখানে প্রচুর ঘাস জন্মে এবং প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠে, বাড়তি কোনো যত্নের প্রয়োজন হয় না। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে পশুপালনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও হাওড়বাসী কিছু কিছু পশুপালন করে আবার কিছু বড় কৃষকের অনেক পশু রয়েছে, তারা খালি মাঠে প্রান্তরে বিচরণ করে যা বাথান নামে পরিচিত। সারা দিন খাওয়া শেষে যেখানে রাত হয় সেখানেই পশুগুলো রাতযাপন করে। সেক্ষেত্রে বিস্তর হাওড়ের মাঝখানে বড় বড় পশুর শেড বানাতে পারলে পশুপালন আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব। কারণ পশুর আশ্রয়ের সুযোগ সৃষ্টি হলে নিরাপত্তাও বাড়বে এবং হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টির কবল থেকেও পশু মানুষ রক্ষা পাবে। তাছাড়া হাওড়ের বিস্তর ভূমিতে তালগাছ রোপণ করলে মানুষ এবং পশু বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

হাওড় অর্থনীতি উন্নয়নের আরেকটি কৌশল হলো হাঁস প্রতিপালন করা। কিছু কিছু বড় খামারির অনেক বড় বড় হাঁসের খামার থাকে। সেখানে মুক্ত জলাশয়ে তার হাঁসগুলো প্রতিপালন করে। মুক্ত জলাশয়ে প্রচুর খাবার থাকায় অতিরিক্ত তৈরি খাবারের প্রয়োজন হয় না। ডিম পাড়ার উদ্দেশ্যে তারা হাঁস পালন করে এবং প্রতি হাটবারে তারা ডিম বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা পায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা ধানক্ষেতে মাছ চাষ প্রযুক্তিটিও ব্যবহার করে। এতে ধানের ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে মাছ ধানকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। অন্যদিকে ধানক্ষেতে প্রচুর প্লাংটন জন্মায়। সেগুলো মাছ খায়, ফলে মাছের জন্য বাড়তি খাবারের দরকার হয় না।

হাওড় এলাকার মানুষের শাকসবজি খাওয়ার প্রবণতা খুবই কম, ফলে মানুষের মাঝে পুষ্টিহীনতা প্রকট। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে পুষ্টিহীনতার মাত্রা তীব্র। বাংলাদেশ পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের মাধ্যমে জনগোষ্ঠীর মাঝে বিরাজমান পুষ্টি অবস্থা উন্নয়নেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে চলেছে। তার পরও অপুষ্টি সমস্যা অণুপুষ্টির অভাবজনিত জনস্বাস্থ্য সমস্যা বিরাজমান এবং এতে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য ঝুঁকি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী সৃষ্টিকে বাধাগ্রস্ত করে চলেছে। এসব পুষ্টি সমস্যা নিরসনে বিশ্বব্যাপী টেকসই উন্নয়ন অর্জনের জন্য ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার আটটি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পূর্বশর্ত হচ্ছে পুষ্টি অবস্থার উন্নয়ন। জনগণের সুস্বাস্থ্য সুস্থ জীবন নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যগ্রহণ অত্যাবশ্যক। তারই ধারাবাহিকতায় বোরো ফসল অবহেলা না করে বোরোর আগে স্বল্প সময়ে কিছু ফসল (সবজি, ডালজাতীয় ফসল, তৈলবীজজাতীয় ফসল) চাষ করার উপযোগিতা রয়েছে। সবজি হিসেবে আলু, লালশাক, গাজর, পুঁইশাক, চিনাশাক, মূলা, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ডালজাতীয় ফসল হিসেবে মুগডাল চাষ করা যেতে পারে। ওই ফসলগুলো চাষাবাদ হলে হাওড় জনগোষ্ঠীর একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে তারা আর্থিকভাবেও লাভবান হতে পারবে। গবেষণায় দেখা গেছে, বোরো ফসলের আগে স্বল্প সময়ের আলু (চল্লিশা), লালশাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো খুব ভালো হয়। তবে এখানে উল্লেখ্য যে সব ফসলের জাত যেন স্বল্পমেয়াদি হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

হাওড়ে অনেক খালি জায়গা থাকে, যেখানে বোরো ধান চাষ করা যায় না, সেগুলো কান্দা নামে পরিচিত। জায়গাগুলোতে উচ্চমূল্যের ফসল যেমন ভুট্টা, রসুন, আলু (দীর্ঘমেয়াদি) চাষ করার সুযোগ রয়েছে। ভুট্টা চাষের একটি বিশেষ সুবিধা হলো শুকনো গাছগুলো জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে হাওড়ে যে জ্বালানির সমস্যা তা অনেকাংশে দূর হবে। ভুট্টা, রসুন,আলু ইত্যাদি ফসল হাওড়ে স্বল্প বা বিনা চাষেও উৎপাদন করা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, হাওড়ের পানি যখন শুকিয়ে যায় তখন হালকা কাদায় উপরোক্ত ফসলগুলো চাষ করা যেতে পারে। হাওড়ে বোরো ধান আবাদের পাশাপাশি সবজি, ডাল তৈলজাতীয় ফসল অন্তর্ভুক্ত করা গেলে এটা হবে কৃষিতে হাওড়ের জন্য একটি নতুন রূপ। অবহেলিত হাওড়বাসীর পুষ্টির অভাব দূর হবে, পুষ্টির অভাবজনিত রোগ কম হবে। ওই ফসলগুলো বিদ্যমান শস্য বিন্যাসে যুক্ত হলে কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হবে এবং শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধি পাবে। উচ্চমূল্যের ফসল চাষ করলেও কৃষকের চাহিদা পূরণ হবে। হাওড় জনগোষ্ঠীর আয়ের উৎস সৃষ্টি হবে এবং ফসল নিবিড়তাও বাড়বে। হাওড় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নতুন ফসলের অন্তর্ভুক্তি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি হাওড়কে বিনোদনের উৎস হিসেবেও ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। হাওড়ে যখন পানি থাকে তখন ঠিক সাগরের মতোই দেখায়। প্রতি বছর হাজারো মানুষ হাওড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য ছুটে যায়। সেক্ষেত্রে হাওড়ের রাস্তাঘাট যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন, বড় বড় হাওড়ের উপরিভাগে বিলাসবহুল অবকাশযাপনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাছাড়া সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে হাওড়ে প্রবেশের আগে পার্ক, চিড়িয়াখানা ইত্যাদি স্থাপন করার সুযোগ রয়েছে। আধুনিক জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে পারলে ভ্রমণপিপাসু মানুষের সংখ্যা অনেকাংশে বেড়ে যাবে। এতে হাওড়বাসীর ছয় মাস অলস জীবনে পরিবর্তন আসবে। তৈরি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান, বৃদ্ধি পাবে সরকারের রাজস্ব আয়।

পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক ফসল প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে হাওড় এলাকায় উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব। হাওড় এলাকার পতিত জমিতে নতুন ফসল প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ফসলের বৈচিত্র্য আনয়নের মাধ্যমে একক ফসলের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো যাবে। যার মাধ্যমে হাওড় এলাকার কৃষকের জীবনযাত্রা আয়ের পরিবর্তনমূলক কাঠামো নির্ধারণ সহজতর হবে।

 

. উত্তম কুমার সরকার: সহযোগী অধ্যাপক, কৃষিতত্ত্ব বিভাগ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

আরও