হঠাৎ করেই করোনাভাইরোসের প্রাদুর্ভাব এই পৃথিবীতে। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনে প্রথম দেখা দেয় এই ভাইরাস। তারপর পর্যায়ক্রমে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে কভিড ১৯ নামে পরিচিত মরণঘাতি এই ভাইরাস। ইতিমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেছে। উল্লম্ফণ গতিতে বেড়ে চলেছে এর সংক্রমণ। যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি’র বরাত দিয়ে ২৬ এপ্রিল ২০২০ সমকাল পত্রিকা জানায়, এ পর্যন্ত সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা আটাশ লাখ সাতানব্বই হাজার ছয়শত পয়তাল্লিশ এবং মৃত্যুর সংখ্যা দুই লাখ দুই হাজার আটশত আশি। সরকারি হিসেবে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার চারশত ষোল এবং মৃত্যুর সংখ্যা একশত পঁয়তাল্লিশ।
আধিপত্যবাদী চলমান বিভিন্ন যুদ্ধের কারণে সিরিয়া, ইয়েমেনে লাাখ লাখ মানুষের মৃত্যু বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে এতটা টলাতে পারেনি, যতটা পেরেছে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এই ভাইরাস। বিশ্ব ব্যবস্থা থুবড়ে পড়েছে। আমাদের দেশ তো দূরের কথা, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সূচকে উন্নত দেশগুলোরই তথৈবচ অবস্থা। স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক চাহিদা ও অধিকার যে কতটা অরক্ষিত তা ক্রমশই স্পষ্ট হচ্ছে। অর্থনীতির অবস্থাও ক্রমশই ভঙ্গুর হচ্ছে। দুর্ভিক্ষের আশংকা করা হচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর উপর এর চাপ পড়ছে বেশি। অনানুষ্ঠানিক খাতে নিযুক্ত ও দৈনিক উপার্জনের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর জীবন ইতিমধ্যেই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ নারীশ্রমিক কেন্দ্র (বিএনএসকে) কর্তৃক মোহাম্মদপুরের নিম্ন আয়ের মোট ১৫৬ জন নারীর উপর পরিচালিত এক জরিপের ফলাফল থেকে জানা যায় যে, ৯৬% নারী কভিড ১৯-এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে কর্মসংস্থান হারিয়েছেন, যারা মূলত গৃহকর্মীপরিচ্ছন্নতা কর্মী, গার্মেন্ট শ্রমিক এবং নির্মাণ খাতে অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন এবং মাত্র ৮.৫০% মার্চ মাসের পারিশ্রমিক পেয়েছেন।
এবার আসল কথায় আসা যাক। যেহেতু এই রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিত্সা নেই এবং মানুষে-মানুষে এর সংক্রমণ ঘটে, তাই একের পর এক দেশে ঘোষণা করা হচ্ছে লকডাউনের। সামাজিক/শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং বাড়িতে থাকাকেই করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র পন্থা হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে-বাড়িতে থাকুন, নিরাপদ থাকুন। আপাত অর্থে, করোনা থেকে বাঁচার সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হয়তো বাড়িতে থাকা। কিন্তু এই বাড়িতে থাকা এবং লকডাউন পরিস্থিতি মানবগোষ্ঠীর একটা অংশ— নারীর জন্য মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম ইতিমধ্যেই গার্হস্থ্য সহিংসতা বৃদ্ধির সংবাদ প্রকাশ করেছে।
গত ৩ এপ্রিল ২০২০, লন্ডন থেকে প্রকাশিত দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার সূত্রে জানা যায় যে, ফেব্রুয়ারিতে চীনের উহানে ঘরে অভ্যন্তরীণ থাকার সময়ে পারিবারিক সহিংসতা অন্য স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় তিন গুণ বেড়ে গিয়েছিল। ৬ এপ্রিল ২০২০ বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, এই লকডাউনের কারণে ব্রিটেনসহ সারা বিশ্বে বেড়েছে নারীর প্রতি পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা। দ্য ন্যাশনাল ডমেস্টিক অ্যাবিউজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বরাত দিয়ে এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, লকডাউনের এই সময়ে লকডাউন পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় বর্তমানে তাদের কাছে সাহায্য চাওয়ার পরিমাণ বেড়েছে ২৫ শতাংশ।
৬ এপ্রিল ২০২০, ইউএন ওইম্যানের নির্বাহী পরিচালক এক বিবৃতিতে করোনার কারণে লকডাউন চলাকালে নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির পরিস্থিতিকে ছায়ামহামারি হিসেবে অভিহিত করেছেন। একই দিনে জাতিসংঘ মহাসচিব এক বিবৃতির মাধ্যমে কভিড ১৯ মোকাবিলার জন্য গৃহীত জাতীয় পরিকল্পনায় নারীর প্রতিসহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকারের বিষয়টি অর্ন্তভুক্ত করার জন্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এই ছায়ামহামারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে তা কভিড ১৯ পরবর্তী অর্থনৈতিক প্রভাবের ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে জাতিসংঘ মত প্রকাশ করে।
এইবার যদি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আসি— গত ০৮ এপ্রিল ২০২০, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয় যে, শুধু মার্চ মাসেই বগুড়া, জামালপুর ও কক্সবাজার জেলায় ৬৪টি ধর্ষণের ঘটনা এবং তিন শতাধিক পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ নারীশ্রমিক কেন্দ্র পরিচালিত উপরোল্লিখিত জরিপ থেকে জানা যায় যে, ৯৪% নারী করোনার এই সময়ে ঘরে অবরুদ্ধ থাকার কারণে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এই সব সহিংসতার বর্ণনা দিতে গিয়ে অনেকেই বলেছেন, “কোথাও যাওয়ার জায়গা নাই। এই সুযোগে ভাশুরও গায়ে হাত তোলে। স্বামী তাতে আরও উত্সাহ পায়”, “স্বামীর ক্রমাগত চড়-থাপ্পড়ের ফলে এখন আর কানে শুনতে পাচ্ছি না”, “জুয়ার টাকা দিতে না পারলেই মারে আপা, আগে তো কাম করছি, টাকা দিছি। এখন, ঘরে খাওন নাই, বাচ্চাগুলারেও মারে”। এই পরিস্থিতিকে এক নারী ব্যাখ্যা করেন এইভাবে, “বাইরে ভাইরাস, ঘরেও স্বামী ভাইরাস”। এর মধ্যে গত ১৫ এপ্রিল ফেনীতে ফেইস বুক লাইভে এসে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাটি গণমাধ্যমের সূত্রে অনেকেরই নজরে এসেছে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, করোনা’র প্রত্যক্ষঘাত হিসেবে রোগের বিস্তার সম্পর্কিত বিভিন্ন সংবাদের দিকে গণমাধ্যমের দৃিষ্ট কেন্দ্রীভূত থাকার ফলে নারীর প্রতি সহিংসতার খবরের গুরুত্ব এই মুহূর্তে নিশ্চয়ই ততটা গুরুত্ব বহন করছে না গণমাধ্যমের কাছে। গত ৭ এপ্রিল ২০২০ দৈনিক যুগান্তর “লকডাউনে নারী নির্যাতন বাড়ছে” শীর্ষক খবরটিকে ‘ছোটখবর’ পর্বে ছেপেছে! তারপরও গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত যে সংবাদগুলো প্রকাশিত হচ্ছে সেগুলো নিয়ে ভাববার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
গার্হস্থ্য সহিংসতা ছাড়াও গণ পরিসরে সংঘটিত নারীর প্রতি সহিংসতার দু-একটি টুকরো খবরের দিকে এবার দৃষ্টি দেওয়া যাক। ১৮ এপ্রিল ২০২০ বাংলা ট্রিবিউন পত্রিকায় করোনার কারণে বেকার শ্রমিককে কাজের কথা বলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এই সংবাদ সূত্রে জানা যায় যে, কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুরে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে এক নারীকে গণধর্ষণ করেছে তারই চার সহকর্মী। উল্লেখ্য, এই নারী একটি বেকারিতে কাজ করতেন এবং করোনার কারণে বেকারিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি বেকার হয়ে যান। এই অবস্থায় ফোন করে বেকারি চালু হওয়ার মিথ্যা তথ্য দিয়ে ডেকে এনে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। গত ৮ এপ্রিল ২০২০ বরগুনার তালতলীতে ত্রাণ দেওয়ার জন্য খাদ্য সহায়তার তালিকায় তার পরিবারের নাম অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ইউপি সদস্য কর্তৃক দরিদ্র পরিবারের এক মেয়েকে ধর্ষণের খবর প্রকাশ করে বাংলাদেশ প্রতিদিন। অন্যদিকে, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কর্মস্থল গাজীপুর থেকে খুলনায় গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথে গোপালগঞ্জে এক গার্মেন্টসকর্মী ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশ করে সমকাল পত্রিকা (২১ এপ্রিল ২০২০, সমকাল)।
উল্লেখ্য, “কভিড ১৯ এবং নারীর প্রতি সহিংসতা, স্বাস্থ্য খাত কী করতে পারে” শীর্ষক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রকাশনায় মহামারিসহ যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি পায় বলে মন্তব্য করে বলা হয় যে, জরুরি অবস্থায় সংঘটিত নারীর প্রতি সহিংসতা নারীর স্বাস্থ্য এবং জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড়রকমের হুমকী হিসেবে কাজ করে। প্রাসঙ্গিকভাবেই এখানে ময়মনসিংহের ভালুকায় হাসপাতালে চিকিত্সা না দেওয়ার ফলে রাস্তায় সন্তান জন্মদানের ঘটনাটির কথা উল্লেখ করতে হয়, যা এই মহামারির সময়ে নারী ও শিশুসন্তানের স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টিকে স্পষ্ট করে তোলে (ভালুকায় রাস্তায় সন্তান প্রসব, ১৯ মার্চ ২০২০,বাংলাদেশ প্রতিদিন)। শুধু শারীরিক ক্ষতি নয়, যৌন, প্রজনন এবং মানসিক স্বাস্থ্যসহ নারীর প্রতি সংঘটিত সহিংসতার বহুমাত্রিক প্রভাব রয়েছে। কভিড ১৯ মহামারির এই বিপর্যয়ের সময়ে মানসিক চাপ বৃদ্ধি, সামাজিক এবং সুরক্ষা নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হওয়া এবং প্রয়োজনীয় সেবার পরিধি সংকুচিত হওয়ার ফলে নারীর প্রতি সহিংসতার ঝুঁকি তীব্র হচ্ছে। অন্যদিকে, গার্হস্থ্য সেবাকর্মের বোঝা বেড়ে যাওয়া এবং জীবিকার উপায় বিঘ্নিত হওয়ার ফলে অর্থনৈতিক সহিংসতারও শিকার হচ্ছে নারীরা।
যেহেতু সরকারের সব মনোযোগ এখন মরণঘাতি এই ভাইরাসকে প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা এবং এর উপায় হিসেবে ঘোষিত সাধারণ ছুটির আওতায় বিভিন্ন বেসরকারি আইনসহায়তাকারী সংগঠনগুলোর অফিসও বন্ধ রয়েছে, হেল্পলাইনে ফোন রিসিভ করে কাউন্সেলিং ও থানায় যাওয়ার জন্য অনলাইনভিত্তিক রেফারলে পরামর্শ দেওয়া ছাড়া বেসরকারি সংগঠনগুলো তেমন কোনো সহায়তা করতে পারছে না। অন্যদিকে, আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্যরাও মানুষের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণসহ করোনানিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রমে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত থাকার কারণে ধর্ষণ, হত্যার মতো গুরুতর সহিংসতা ছাড়া অন্যান্য সহিংসতাকে অগ্রাধিকার দিতে পারছে না। তবে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার খোলা রয়েছে।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে— গার্হস্থ্য সহিংসতা যেহেতু পারিবারিক পরিমন্ডলে সংঘটিত হয় এবং অপরাধ সংঘটনকারী এবং ভুক্তভোগী দুজনেই একই বাসস্থানে বাস করেন, লকডাউন চলাকালে বিকল্প হিসেবে নিরাপদ একটি আবাসস্থল পাওয়া একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করে। তাছাড়া অপরাধ সংঘটনকারীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে আইনি সহায়তা চাওয়াটাও এই সময়ের কঠিন একটি বাস্তবতা যা ভুক্তভোগী নারীকে হতাশা, বিষন্নতাসহ বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেয়।
আমরা জানি, করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার, বিশেষ করে সরকারপ্রধান যথেষ্টআন্তরিক। স্বাস্থ্য সেবাপ্রদানকারী ব্যক্তিগণ, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যগণ যথেষ্ট আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। তবে, করোনা মোকাবেলার পরিকল্পনায় করোনার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সব ধরনের প্রভাব, বিশেষ করে সহিংসতার কারণে নারী ও কন্যাশিশুর অরক্ষনীয়তার বিষয়টিকে সক্রিয় বিবেচনায় নিয়ে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। ত্রাণবিতরণের সময়ও যাতে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা না ঘটে তার দিকেও সতর্ক নজর রাখতে হবে। অনলাইনভিত্তিক সেবা ও নাগরিক সংগঠনগুলোর জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা, নারীর প্রতি সহিংসতা সংঘটনকারীর বিচার পরিচালনার স্বার্থে সীমিত আকারে হলেও বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, সহিংসতার শিকার নারীর জন্য নিরাপদ আশ্রয়কে অত্যাবশ্যকীয় সেবা হিসেবে ঘোষণা করা, সহিংসতা প্রতিরোধে বিশেষ করে পুরুষদের যুক্ত করে জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা, সহিংসতা সংঘটনকারীর অগোচরে কিভাবে সহায়তা চাওয়া যায় সেই রকম বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা চালু রাখার মতো বিষয়ের উল্লেখ করে ইতিমধ্যে জাতিসংঘের তরফ থেকে সুনির্িদষ্ট কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। আশা করি, আমাদের সরকার এই সুপারিশগুলোকে সক্রিয় বিবেচনায় নিবে।
তাছাড়া, মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি আইনসহায়তাপ্রদানকারী সংগঠনসমূহের দিক থেকেও বিকল্প উপায় হিসেবে হেল্পলাইন ব্যবস্থা, মনো-সামাজিকসহায়তা এবং অনলাইনভিত্তিক কাউন্সেলিং সেবাকে শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। গণমাধ্যমেরও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। “বাড়িতে থাকুন, নিরাপদ থাকুন” এই শ্লোগানটির সাথে সমান গুরুত্ব দিয়ে সহিংসতামুক্ত থাকার বিষয়েও প্রচারণা চালাতে হবে।
সরকারি-বেসরকারি আনুষ্ঠানিক বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ের একটি অনুরোধ রাখতে চাই। নারীকে হেয় করে, এমন কৌতুক করা থেকে বিরত থাকুন। এমন অনেক পরিবার রয়েছে, যারা করোনার সময়কে পারস্পরিক সম্পর্ককে মজবুত করার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছেন। ঘরের কাজে পুরুষেরা আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করছেন। চলুন না, এই চর্চাগুলোকে বরং উত্সাহিত করি।
লেখক:আইনজীবী ও অধিকারকর্মী