সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই ভাইরাসকে হারানো সম্ভব

ইংল্যান্ডে চার সপ্তাহের লকডাউন শুরু হতে যাচ্ছে ৫ নভেম্বর, যেটি বলবৎ থাকবে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মনে পড়ে, মার্চে সবাইকে বলা হয়েছিল ‘ঘরে থাকতে’ এবং কোনো বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ইনডোর মিটিং বা ব্যক্তিগত পরিসরে জমায়েত না করতে।

ইংল্যান্ডে চার সপ্তাহের লকডাউন শুরু হতে যাচ্ছে ৫ নভেম্বর, যেটি বলবৎ থাকবে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মনে পড়ে, মার্চে সবাইকে বলা হয়েছিল ‘ঘরে থাকতে’ এবং কোনো বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ইনডোর মিটিং বা ব্যক্তিগত পরিসরে জমায়েত না করতে। আসন্ন লকডাউনে পাব, রেস্টুরেন্ট, ফিটনেস স্টুডিও ও জিম বন্ধ থাকবে। তবে প্রথম লকডাউন থেকে এবার যেটি ভিন্ন তা হলো স্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটি খোলা থাকবে।

অবশ্য নতুন বিধিনিষেধ প্রয়োগ করার পরও হাজারো লোক সামনের দিনগুলোতে কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে মারা যাবে। ইম্পেরিয়েল কলেজের একটি সাম্প্রতিক গবেষণামতে, ইংল্যান্ডে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ মানুষ ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে বাড়তে থাকা সংক্রমণ ও মৃত্যুসংখ্যা বলছে, কঠিন বিধিনিষেধ ছাড়া দ্বিতীয় ঝড় হয়তো প্রথমটির চেয়ে অধিক মরণঘাতী হতে পারে এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।

মার্চের শেষ দিক থেকেই দেশটি কিছু ক্ষেত্রে লকডাউন সহ্য করে আসছে। বেকারত্ব বাড়ছে ও অর্থনীতি ধীরে ধীরে রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। বসন্তে যে বলিদান দেয়া হয়েছে তারও কোনো সুফল আসেনি, যা আসছে তা কেবল আরো দুঃসংবাদ ও হতাশাজনক। ইংল্যান্ড নিজেদের এখন বিপজ্জনক অবস্থায় আবিষ্কার করেছে, যেখানে তারা এমন রাজনীতিবিদদের দ্বারা চালিত হয় যারা নেতৃত্বের চেয়ে জনমতকেই অধিক অনুসরণ করে। ইংল্যান্ডের এ পদছাপ মিলে যাচ্ছে ইউরোপের সঙ্গে। ফ্রান্স, জার্মানি ও আয়ারল্যান্ডও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সংক্রমণ সংখ্যা হ্রাস করার জন্য।

নর্দান আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডও আগাম উদ্যোগ নিয়েছে অতীতের ভুল এড়ানোর জন্য। কিন্তু এ তিনটি দেশ যেকোনো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে সাহায্যের জন্য যুক্তরাজ্যের ওপর নির্ভর করে। 

তবে সব সরকারকে একটি প্যারাডক্সের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক: অসুস্থতাকে রোধ করা এবং জীবন বাঁচানোর জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করে দোষের মুখে পড়া কিংবা এ বিধিগুলো আরোপের জন্য অপেক্ষা করা এবং তারপর এড়ানোযোগ্য মৃত্যুর জন্য দোষের মুখে পড়া। যুক্তরাজ্য সরকারের দেশব্যাপী লকডাউনের সিদ্ধান্ত দিতে দেরি করার ফলে এটি কেবলই দীর্ঘায়িত হবে এবং লকডাউনকে আরো কঠোর করে তুলবে। কভিড-১৯ দুনিয়ায় টিকে থাকার কৌশল কী হতে পারে, তা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই সরকার এখন হাল ছাড়ার পথে।

এখন রেডিও শোগুলোতেও উপস্থাপকরা টি সেল ইমিউনিটি নিয়ে তর্ক করছেন এবং কেউ কেউ সুইডেনের অনুমিত সাফল্যের দিকেও আঙুল তুলছেন। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সুইডেনের সংক্রমণের হার অনেক বেড়ে গেছে।

তবে এটা মোটেই ভাইরাস কতটা মরণঘাতী কিংবা পিসিআর টেস্ট কার্যকর কিনা তা নিয়ে একে অন্যের সঙ্গে লড়াইয়ের সময় নয়। এটা মূলত একটি সম্মিলিত লক্ষ্যে একমত হওয়ার সময়, যা সবার চাওয়া। এখানে চেষ্টা করতে হবে সব রোগীর জন্য স্বাস্থ্যসেবাকে সুরক্ষিত রাখা, শক্তিশালীরূপে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা, স্কুল খোলা রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং অসুস্থতা ও মৃত্যুহারকে যতটা সম্ভব কম রাখা।

প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে আমরা সবার জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর বিশ্ব নির্মাণ করতে পারি? এর লক্ষ্যে আমরা কীভাবে নিজেদের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারি? পরবর্তী মহামারীর জন্য আমাদের কেমন নেতৃত্ব দরকার? একাগ্রতা, যোগ্যতা, দায়, মমতা, সহনাভূতি, সঠিক লক্ষ্য এবং কঠোর পরিশ্রম এগুলো সেসব নেতার মূল বৈশিষ্ট্য বলে মনে হয় যারা কিনা তাদের জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন এবং দেশকে কার্যকরভাবে এ সংকট থেকে উদ্ধার করার পথে নিয়ে গেছেন।

দ্য গার্ডিয়ান থেকে সংক্ষেপে ভাষান্তরিত

আরও