শত শত জুতার দোকানে আছে হাজার হাজার জুতা। তবুও পছন্দ, নকশা আর আরামের সমন্বয়ে ঠিকঠাক এক জোড়া জুতা কিনতে গেলেই যেন ঘাম ছুটে যায়। আবার সেই ঘাম ঝরিয়ে কেনা জুতাও অনেক সময় ব্যবহার শুরু করার পর দেখা যায়, পুরো টাকাই গচ্চা গিয়েছে।
এ কারণেই জুতা কেনার কিছু সাধারণ নিয়ম খেয়াল রাখা জরুরি।
জুতার মাপ
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এবং ওজন পরিবর্তনের কারণে মেয়েদের পায়ের মাপেও পরিবর্তন আসে। তাই পায়ের জুতার মাপ সবসময় একই থাকে- এ ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়।
ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ফিমেলফার্স্ট ডটকমের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নানা ভুল ধারণা থেকে নারীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ‘আনফিট’ হিল কিনেন।
পরে ঢিলা হয়ে যাবে- এ ভুল ধারণা থেকে ভুলেও টাইট জুতা কেনা যাবে না। সবসময় সঠিক পায়ের মাপে জুতা কিনতে হয়। সাধারণত বেশিরভাগেরই একটি পা কিছুটা বড় থাকে। তাই জুতা কেনার সময়, যে পা’টি বড় সেটার মাপে জুতা কিনতে হয়।
আবার ফ্যাশনেবল হলেও হিল পরা কিন্তু একেবারেই ভালো নয়। খুব অল্প সময়ের জন্য পরলেও হিল পায়ের এবং মেরুদণ্ডের ক্ষতি করতে পারে। তাই হিল কিনলে সঙ্গে এক জোড়া ফ্ল্যাট স্যান্ডেলও কিনুন। যেদিন হিল পরে বের হবেন, সেদিন ফ্ল্যাট জুতা জোড়াও সঙ্গে রাখুন। যাতে সমস্যা বোধ করলেই তা পাল্টে নিতে পারেন।
ভালো চামড়ার জুতা চেনার উপায়
জুতা কেনার সময় চামড়ার ‘টেক্সচার’, তলার ভেতরের অংশ এবং সেলাইয়ের মান দেখে নিন। সেই সঙ্গে লক্ষ্য রাখুন আরো কিছু বিষয়ও-
- আসল চামড়া চেনার সব চাইতে সহজ পদ্ধতি হল স্পর্শ। জুতায় চাপ দিলেই চামড়ায় পড়বে ভাঁজ তারপর সেটা উঠে আসবে। সেই সঙ্গে আসল চামড়ায় মিলবে প্রাকৃতিক এবং চকচকে অনুভূতি।
- মাপ সঠিক হলে জুতা টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
- ইনার সোল এবং সেলাই জুতার স্থায়িত্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভালোমানের একজোড়া জুতার ভেতরে একটি করে বাড়তি ইনার সোল থাকবে। নরম এই ইনার সোলের কারণে জুতার ভেতরে পায়ের পাতা স্থায়ীভাবে বসবে, ফলে পরে বেশি আরাম পাবেন।
- ইনার সোল আসল চামড়ার কি না তা দেখে কিনুন। কারণ ইনার সোলে আসল চামড়া ব্যবহার করলে পায়ে দুর্গন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও কমে।
- আসল চামড়ার জুতায় কোনো রাসায়নিক দ্রব্য কিংবা প্লাস্টিকের গন্ধ থাকবে না।
- ভালো জুতার তলা উপরের অংশের সঙ্গে সেলাই করা থাকবে, আঠা দিয়ে জোড়া দেয়া নয়।
- জুতার সেলাই হতে হবে পরিচ্ছন্ন। যতটা সম্ভব চোখের আড়ালে থাকবে সেলাই।
- জুতার ওপর কোনো কৃত্রিম বা প্লাস্টিকের আবরণ আছে কিনা তা দেখতে হবে। সাধারণত জুতায় বাড়তি দীপ্তি আনতে এই আবরণ দেওয়া হয়। যা পুরানো হয়ে গেলে চকচকে-ভাব হারায় এবং অনেকসময় উঠে আসে।