ডি-স্ট্রেস রুটিন: অফিসের ক্লান্তি থাক দরজার ওপাশে

মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, যখন কাজের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে, তখনই আমাদের বিশ্রামের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। কিন্তু পরিহাসের বিষয় হলো, চাপের মুখে কাজ থেকে মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়া কঠিন। একেই বলা হয় রিকভারি প্যারাডক্স। এ চক্র ভাঙতে না পারলে উদ্বেগ ও অবসাদ জেঁকে বসে

বর্তমান যুগে প্রযুক্তি ও হাইব্রিড কাজের সংস্কৃতির কারণে কাজ ও অবসরের মধ্যকার সীমারেখা প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেছে। অনেককে কাজের সময় শেষ হওয়ার পরও কর্মক্ষেত্রের ফোন ধরতে হয়, ইমেইল দেখতে হয়। আমরা কাজের চাপকে সঙ্গে নিয়ে ঘরে ফিরি। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত কাজের চাপ ও সব সময় অনলাইনে থাকার মানসিকতা আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে।

মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, যখন কাজের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে, তখনই আমাদের বিশ্রামের প্রয়োজন। কিন্তু পরিহাসের বিষয় হলো, চাপের মুখে কাজ থেকে মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়া কঠিন। একেই বলা হয় রিকভারি প্যারাডক্স। এ চক্র ভাঙতে না পারলে উদ্বেগ ও অবসাদ জেঁকে বসে। এখান থেকে উত্তরণের উপায়গুলো হলো:

দৈনিক রিল্যাক্সেশন রুটিন তৈরি করা

কর্মক্ষেত্র থেকে ফেরার পর সরাসরি ব্যক্তিগত কাজে না গিয়ে একটি নির্দিষ্ট অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটি হতে পারে গান শোনা, ব্যায়াম করা বা স্বল্প সময়ের গেম খেলা। এটি আপনার মস্তিষ্ককে সংকেত দেয় যে কাজের সময় শেষ।

কাজের সরঞ্জাম চোখের আড়াল করা

যারা বাসা থেকে কাজ করেন তাদের জন্য এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কাজ শেষে ল্যাপটপ, ফাইল বা ডায়েরি এমন জায়গায় রাখুন যেন তা আপনার নজরে না পড়ে। একটি নির্দিষ্ট ‘ওয়ার্ক স্পেস’ থাকা জরুরি যেখানে কাজ শেষে আপনি দরজা বন্ধ করে দিতে পারেন।

অসমাপ্ত কাজের তালিকা তৈরি

গবেষণা বলছে, কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ অসম্পূর্ণ রেখে দিলে বাসায় ফিরেও মন পড়ে থাকে সেই কাজে। তাই কাজ শেষ করার আগে আগামীকালের জন্য একটি টু-ডু লিস্ট তৈরি করুন। এতে আপনার মস্তিষ্ক নির্ভার হবে।

ডিজিটাল ডিটক্স

প্রযুক্তির কারণে আমরা এখন ২৪ ঘণ্টা অফিসের সঙ্গে যুক্ত। এ ‘ইলেকট্রনিক শিকল’ থেকে বাঁচতে কিছু পদক্ষেপ জরুরি:

  • ছুটির সময়ে অফিসের অ্যাপগুলোর নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন।
  • সম্ভব হলে কর্মক্ষেত্রের জন্য আলাদা ফোন ব্যবহার করুন।
  • ছুটির দিনে বা অফিসের বাইরে ইমেইলে 'আউট অফ অফিস' অটো-রিপ্লাই সেট করুন।

রিকভারি এক্সপেরিয়েন্স

কাজের ক্লান্তি দূর করতে তিনটি বিষয় কার্যকর:

  • সাইকোলজিক্যাল ডিটাচমেন্ট: অফিস থেকে ফিরে কাজ নিয়ে চিন্তা করা পুরোপুরি বন্ধ করা।
  • মাস্টারি: বাগান করা, সেলাই বা নতুন কোনো শখের কাজ করা যা আপনাকে আত্মতৃপ্তি দেয়।
  • অ্যাফিলিয়েশন: পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে গুণগত সময় কাটানো।

‘বার্নআউট’ থেকে সাবধান

অনেকে কাজকে ভালোবাসেন বলে দীর্ঘসময় কাজ করেন। কিন্তু মনে রাখবেন, বার্নআউট বা চরম মানসিক অবসাদ সাধারণত তাদেরই বেশি হয় যারা কাজকে প্রচণ্ড ভালোবাসে। তাই কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও নিজের শরীর ও মনকে বিশ্রাম দেয়ার জন্য সীমানা নির্ধারণ করা জরুরি।

আরও