উৎসবের মৌসুমে যত্নে রাখুন নিজেকে

নানা আয়োজন, সাজসজ্জা, পূজামণ্ডপ পরিদর্শন আর আত্মীয়স্বজন-বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সবকিছু মিলিয়ে পূজার দিনগুলো হয়ে ওঠে রঙিন। তবে আনন্দের পাশাপাশি শরীর ও মনে ক্লান্তি, অবসাদ কিংবা অসুস্থতার ঝুঁকিও তৈরি হয়।

শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় আচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি এক বিশাল উৎসব ও আনন্দ-উল্লাসের সময়। নানা আয়োজন, সাজসজ্জা, পূজামণ্ডপ পরিদর্শন আর আত্মীয়স্বজন-বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সবকিছু মিলিয়ে পূজার দিনগুলো হয়ে ওঠে রঙিন। তবে আনন্দের পাশাপাশি শরীর ও মনে ক্লান্তি, অবসাদ কিংবা অসুস্থতার ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই পূজার ব্যস্ত সময়কে আরো প্রাণবন্ত করে তুলতে চাই একটু সচেতনতা।

খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা

পূজার সময় অনেকেই মণ্ডপে বা বাইরে বিভিন্ন ভাজাপোড়া ও ঝাল-ঝাল খাবার খান। এগুলো তাৎক্ষণিক আনন্দ দিলেও হজমের সমস্যা, এসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিক তৈরি করতে পারে। তাই যতটা সম্ভব হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। প্রচুর পানি পান করুন, ফলমূল ও সবজি রাখুন নিয়মিত খাদ্যতালিকায়। উৎসবের দিনেও সময়মতো খাবার খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন। সঙ্গে রাখুন পানির বোতল।

ত্বক ও চুলের যত্ন

সাজসজ্জা ছাড়া পূজা ভাবাই যায় না। তবে টানা মেকআপে ত্বক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই রাতে অবশ্যই মেকআপ তুলে ফেলে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। ত্বক বেশি নির্জীব হলে সিরাম দিন। দিনে রোদে বের হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে ভুলবেন না। সম্ভব হলে সঙ্গে ছাতা রাখুন। ঘরে ফিরে চুলে তেল দিয়ে তারপর হালকা শ্যাম্পু ব্যবহার করলে ধুলাবালি থেকেও সুরক্ষা পাওয়া যায়। গোসলের পানিতে অ্যালোভেরা, ল্যাভেন্ডার অয়েল বা এসেনশিয়াল অয়েল ও মধু যোগ করলে শরীর ও মন দুয়েরই রিলাক্সেশন হবে।

পোশাকে আরাম ও আভিজাত্য

পূজার সাজে শাড়ি, পাঞ্জাবি, লেহেঙ্গা, কুর্তা—সবই থাকে। তবে পোশাক নির্বাচনের সময় আরামকে গুরুত্ব দিন। হালকা, বায়ু চলাচল উপযোগী কাপড়ের পোশাক পরলে দীর্ঘ সময় ভিড়ের মধ্যে থাকলেও স্বস্তি পাওয়া যাবে।

মানসিক শান্তি ও বিশ্রাম

পূজার ভিড়, সারাদিন দৌড়ঝাঁপ, নানা ব্যস্ততায় শরীর ও মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই প্রতিদিন অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন। ভিড় বা শব্দে বিরক্ত না হয়ে ধৈর্য ধরে উৎসব উপভোগ করার মানসিক প্রস্তুতিও জরুরি।

নিরাপত্তার দিকে খেয়াল

ভিড়ের মধ্যে মোবাইল, মানিব্যাগ বা মূল্যবান জিনিসপত্র সাবধানে রাখুন। শিশু ও বয়স্কদের দিকে বাড়তি খেয়াল রাখুন। যানজট বা ভিড় এড়িয়ে চলার জন্য আগে থেকে পরিকল্পনা করুন।

স্বাস্থ্যবিধি

যেখানে ভিড় বেশি সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি। তাই নিয়মিত হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। অসুস্থ থাকলে অযথা ভিড় এড়িয়ে চলাই ভালো।

পূজা শুধু আনন্দের নয়, এটি মিলনমেলারও সময়। তাই আনন্দ উপভোগ করতে হলে আগে নিজেকে সুস্থ, সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে হবে।

আরও