বইয়ে সাজবে ঘর

বই এমন স্থানে রাখা উচিত যাতে চোখে পড়ে, যেন বইটি চোখে পড়লে একবার হলেও মন চায় একটু স্পর্শ করে বইয়ের দুই একটা পাতা উল্টে কিছু লাইন পড়ি। এ কারণেই কেবল কেবিনেট কিংবা ড্রয়ারের রেখে দেয়া উচিত না।

ঘর সাজানোর উপকরণ হিসেবে বই কেবলমাত্র পাঠ্যসামগ্রী নেই। বর্তমানে এটি হয়ে উঠেছে একটি স্টাইল স্টেটমেন্ট। বাড়ির একেকটি কোণকে ব্যক্তিত্বময় ও রুচিসম্মত করে তুলতে বইয়ের ব্যবহার এখন ইন্টেরিয়র ডিজাইনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। রঙ, মাপ, কাভারের ডিজাইন – সব মিলিয়ে ঘরের শৈল্পিকতাকে ফুটিয়ে তুলতে পারে বই।

বই এমন স্থানে রাখা উচিত যাতে চোখে পড়ে, যেন বইটি চোখে পড়লে একবার হলেও মন চায় একটু স্পর্শ করে বইয়ের দুই একটা পাতা উল্টে কিছু লাইন পড়ি। এ কারণেই কেবল কেবিনেট কিংবা ড্রয়ারের রেখে দেয়া উচিত না। এতে করে অনেক সময় দিনের পর দিন মাসের পর মাস বই শুধু পড়েই থাকে, পড়া আর হয় না।

বাড়ির একটি কোণ, সিঁড়ির তলা, চিলেকোঠাকেই ব্যবহার করে পড়ার ঘর বানিয়ে নেয়া যায়। বাড়ির পুরনো বইয়ের তাক, আলো, চেয়ার-টেবিল, মাদুর থাকলেই শৈল্পিক পড়ার ঘর হয়ে উঠতে পারে ঘরের কোনো এক কোণাও।

পুরো ঘরেই নানান জায়গা সাজিয়ে রাখতে পারেন বইয়ে। ঘরে নতুন অতিথি বেড়াতে এসে যখন দেখবে প্রতিটি ঘরেই কোনো না কোনো জায়গায় বই রাখা আছে, তখন তারাও তাদের সময় কাটানোর জন্য সেই বইগুলো উল্টেপাল্টে দেখবে।

ঘরে জায়গা থাকলে মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত উঁচু বুকশেলফে প্রিয় বইগুলো সাজিয়ে সেখানে কয়েকটি ছোট গাছ, ভাস্কর্য বা আলোকসজ্জা যোগ করলে তৈরি হয় এক অনন্য পরিবেশ।

কোনো ঘরে বসার ঘরই তার মূল সৌন্দর্য। পরিবার থেকে শুরু করে অতিথি সকলের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সময় কাটানোর জায়গা বসার ঘর। বসার ঘরে একটি বুক কর্নার রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে অবশ্যই একটু ছোটো ধাঁচের বুক সেলফ রাখুন। সেখানে একই ধরনের বই না রেখে নানান ধরনের বই রাখুন। সোফার পাশের টেবিলে একটি ঝুড়ির মধ্যে কিছু বই রাখতে পারেন। সাইড টেবিলে লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন রাখা অবশ্য ভালো।

ড্রইংরুমের টেবিল সাজানোয় জনপ্রিয় কফি টেবিল বুকস থিম। অতিথিরা যখন আসেন, তখন এই বইগুলো চোখে পড়ে প্রথমেই। পাশাপাশি এগুলো অতিথিদের গল্পের খোরাকও জোগায়।

বই দিয়ে বেডসাইড টেবিল সাজানোও একটি চমৎকার ধারণা। ঘুমানোর আগে পড়ার বইগুলো রাখুন সেখানে; একটি ছোট বাতি আর ফুলদানির সঙ্গে একত্রে সেট করলেই তৈরি হয় এক স্নিগ্ধ আবহ। এমনকি অতিরিক্ত বই দিয়ে তৈরি করা যায় স্ট্যান্ড, শেলফের বেস বা এমনকি একটি ছোট্ট ‘বইয়ের দেয়াল’।

এছাড়া রঙিন কভার, ভিন্টেজ বই বা থিম অনুযায়ী বই সাজিয়ে আপনি আপনার ঘরকে দিতে পারেন ক্যাফে, লাইব্রেরি বা স্টুডিও-সদৃশ চেহারা। থিম হতে পারে সাহিত্যিক, ইতিহাস, ফ্যাশন কিংবা সিনেমা ।

ঘর সাজানোর সময় অনেকেই দেয়াল ফাঁকা রাখেন, অথচ সেই জায়গায় ফ্লোটিং শেলফে কিছু বই রাখলে সেটি হয়ে ওঠে ঘরের ‘কথাবলা অংশ’। অনেক ডিজাইনার এখন বই দিয়ে রং কোড করে সাজানোর আইডিয়াও দেন, যেমন – সবুজ কভারের বই একপাশে , নীল বা সাদা অন্য পাশে। এতে ঘর পায় একধরনের সিমেট্রি ও শৃঙ্খলা।

শোবার ঘর, হলরুম, বসার ঘর বা অফিস কক্ষ বা লাইব্রেরিতে ব্যবহারের জন্য নানা ধরনের বুক শেলফ রয়েছে। যেমন ফ্রি-স্ট্যান্ডিং, ক্ল্যাসিক, ভাসমান, স্টাডি টেবিল বা ওয়ার্কস্টেশনসহ বুক শেলফ, রুম ডিভাইডার ও মাই বুক শেলফ। এছাড়া নিজস্ব প্রয়োজন চাহিদা এবং ঘরের জায়গা অনুযায়ী মন মত করে ডিজাইন দিয়ে বুক সেলফ বানিয়ে নিতে পারেন।

বই দিয়ে ঘর সাজানো কেবল বাহ্যিক শোভা নয়, এটি একজনের রুচি, জ্ঞান ও ভালোবাসার প্রতিচ্ছবিও। এটি এমন একটি জিনিস , যা নিঃশব্দে বলে দেয় – ‘এই ঘরের মানুষ বই পড়ে, চিন্তা করে, স্বপ্ন দেখে।’

আরও