থিম অনুযায়ী ঘর সাজান এবারের ঈদে

আজকাল ঈদকে কেন্দ্র করে পুরো ঘরের চেহারাই পাল্টে ফেলা হয়। নতুন চাদর-পর্দার কিংবা একটি-দুটো আসবাবের পাশাপাশি ঘরের সাজসজ্জা আজকাল অনেক বেশি থিমেটিক হয়ে উঠেছে।

ঈদের সকাল মানেই নস্টালজিয়া। বাবা-ভাইয়ের শরীরের আতরের ঘ্রাণ, বিছানা-বালিশে নতুন চাদর-কাভার, সবই এক ঝটকায় নিয়ে যায় বহু বছর আগের কোনো এক ঈদের সকালে। অনেকেই আবার বদলে নিতেন দু-একটা আসবাব। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছু। আজকাল ঈদ কেন্দ্র করে পুরো ঘরের চেহারাই পাল্টে ফেলা হয়। নতুন চাদর-পর্দার কিংবা একটি-দুটো আসবাবের পাশাপাশি ঘরের সাজসজ্জা আজকাল অনেক বেশি থিমেটিক হয়ে উঠেছে। বোহো, মিলিমালিস্টিক কিংবা কনটেম্পরারি- নানান থিমে ঘর সাজাতে পছন্দ করেন রুচিশীল মানুষেরা।

এবারের ঈদে আপনিও যদি এমন কিছু করতে চান, তাহলে প্রথমেই বেছে নিন আপনার পছন্দের একটি থিম বা স্টাইল।

বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে ঈদের সময় নতুন জামা-জুতোর পাশাপাশি বাড়ির নতুন আসবাব কেনা আর ঘরকে নতুন একটি রূপ দেওয়ার চল আছে অনেক আগে থেকেই। তাহলে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে থিম ভিত্তিক রূপ দেবেন কীভাবে? কীভাবে ঠিক করবেন এই থিম? জেনে নিন এমন ৫টি থিমের বিষয়ে-

ট্র্যাডিশনাল

ট্র্যাডিশনাল থিমটি ক্লাসিক এবং টাইমলেস ডিজাইনকে প্রাধান্য দেয়। এতে কারুকার্য করা কাঠের ফার্নিচার, ঐতিহ্যবাহী কার্পেট এবং অন্যান্য অলঙ্করণ দেখা যায়। রঙের প্যালেট সাধারণত গাঢ় এবং উষ্ণ হয়, যেমন মারুন, গাঢ় নীল এবং সোনালী।

বোহেমিয়ান বা বোহো

বোহেমিয়ান বা বোহো থিমটি বর্তমানে বেশ ট্রেন্ডি। এই স্টাইলের ঘর শৈল্পিক, স্বাধীন ও রঙিন জীবনধারাকে প্রতিফলিত করে। বোহেমিয়ান থিমের ঘরে ব্যবহৃত হয় এক্সেন্ট্রিক প্যাটার্ন, উজ্জ্বল রঙ, মিশ্র টেক্সচার এবং হস্তনির্মিত বা প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি বিভিন্ন আসবাব। বোহো ডিজাইনে কোনো কঠোর নিয়ম নেই, বরং এটি ব্যক্তিত্ব ও সৃজনশীলতার প্রকাশের একটা মাধ্যম।

কনটেম্পোরারি

কনটেম্পোরারি স্টাইল আধুনিক এবং ট্রেন্ডি ডিজাইনকে প্রতিনিধিত্ব করে। এতে ক্লিন লাইন, স্মার্ট ফার্নিচার এবং আপ-টু-ডেট উপকরণের ব্যবহার করা হয়। রঙের প্যালেট সাধারণত নিউট্রাল হয়, তবে এক্সেন্ট রঙের মাধ্যমে চমক যোগ করা যায়। অর্থাৎ যখন যা নতুন, তা যুক্ত হয় এ থিমে।

রাসটিক

রাসটিক স্টাইল পুরাতনকে নতুন করে ফুটিয়ে তোলে। এতে কাঠ, পাথর, মাটির পাত্র এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। রঙের প্যালেট সাধারণত প্রকৃতির রঙের সঙ্গে মিলে যায়, যেমন বাদামী, খয়েরি, সবুজ এবং বেইজ।

মিনিমালিস্টিক

মিনিমালিজম থিমটি সবথেকে অল্প আসবাব এবং সর্বাধিক প্রয়োজনীয় জিনিসের প্রতি গুরুত্ব দেয়। এতে অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দিয়ে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় এবং অর্থপূর্ণ জিনিস রাখা হয়। রঙের প্যালেট সাধারণত নিউট্রাল এবং শান্তিপূর্ণ হয়, যেমন সাদা, কালো, ধূসর এবং বেইজ।

আরও