ফিটনেস সচেতন হোন বা সুস্থ জীবনধারার পথে নতুন যাত্রী—খাদ্যতালিকায় গ্রিন টি রাখার পরামর্শ পাননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। অনেকের কাছেই দিন শুরুর এক কাপ গ্রিন টি কেবল একটি সতেজ পানীয়। তবে সতেজতার পাশাপাশি এটি শরীরের ভেতরটাকেও নতুন করে সাজিয়ে তুলতে সাহায্য করে।
সম্প্রতি হার্ভার্ড এবং স্ট্যানফোর্ড থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রখ্যাত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট এবং হেপাটোলজিস্ট ডা. সৌরভ সেঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিওর মাধ্যমে বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। ভারতীয় বংশদ্ভুত এই মার্কিন চিকিৎসক জানান, টানা ১৪ দিন নিয়ম মেনে গ্রিন টি পান করলে শরীরে এমন কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন আসে, যা দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনে।
দুই সপ্তাহে শরীরের যা ঘটে
ডা. সেঠির মতে, মাত্র দুই সপ্তাহের এই অভ্যাস শরীরের প্রধান অঙ্গগুলোয় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
যকৃত বা লিভারের সুরক্ষা: গ্রিন টি-তে থাকা অন্যতম প্রধান উপাদান হলো ইজিসিজি নামক ক্যাটেচিন। এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা লিভারের প্রদাহ কমাতে এবং মেটাবলিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে দারুণ কাজ করে। এটি শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করে কোষকে সুরক্ষিত রাখে।
মেটাবলিজম ও ইনসুলিন সংবেদনশীলতা: ডা. সেঠি জানিয়েছেন, গ্রিন টির উপাদানগুলো শরীরের ফ্যাট মেটাবলিজম বা চর্বি পোড়ানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এর ফলে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
মস্তিষ্ক ও মানসিক একাগ্রতা: কফির তুলনায় গ্রিন টিতে ক্যাফেইন কম থাকে। এছাড়া এতে রয়েছে এল-থিয়ানিন নামক এক বিশেষ অ্যামিনো অ্যাসিড। এই মিশ্রণটি মস্তিষ্কে এক ধরনের শান্ত ও স্থির শক্তির যোগান দেয়। ফলে কফির মতো স্নায়বিক অস্থিরতা বা ‘জিটারস’ তৈরি না করেই এটি মনোযোগ ও একাগ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞের সতর্কতা: কতটুকু খাবেন?
গ্রিন টির অনেক উপকারিতা থাকলেও ডা. সেঠি পরিমিতিবোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, দিনে ১ থেকে ৩ কাপ গ্রিন টি পান করাকে তিনি ‘সহজ ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া উচ্চ ঘনত্বের বা কনসেনট্রেটেড গ্রিন টি এক্সট্রাক্ট (সাপ্লিমেন্ট আকারে) গ্রহণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কারণ এই ধরনের অতিরিক্ত ঘনীভূত নির্যাস কখনো কখনো ‘হেপাটোসেলুলার ইনজুরি’ বা লিভারের মারাত্বক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
গ্রিন টি কোনো সাময়িক হুজুগ বা ওভারহাইপড ট্রেন্ড নয়। বরং এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। তবে প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি গ্রিন টি পান করাই যকৃৎ ও বিপাকক্রিয়ার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর।
এনডিটিভি অবলম্বনে