সকালে চা-কফি ছাড়াই রিচার্জ হবেন যেভাবে

নাশতায় রাখুন পর্যাপ্ত প্রোটিন। এটি ধীরগতিতে হজম হয় এবং সারাদিন শরীরে স্থিতিশীল শক্তি জোগায়। সেদ্ধ ডিম, চিনি ছাড়া সয়া মিল্ক, টক দই বা ছানা হতে পারে চমৎকার প্রোটিন সোর্স

সকালে চোখ খুলতেই শরীরজুড়ে অদ্ভূত এক ক্লান্তি আর আলসেমি অনুভূত হয়। হাত দুটো স্বাভাবিকভাবেই খুঁজে নেয় স্মার্টফোন, নয়তো পা জোড়া সরাসরি চলে যায় রান্নাঘরে—এক কাপ কফির খোঁজে। গরম কফির চুমুকে সাময়িক একটা ‘কিক’ মেলে ঠিকই, কিন্তু সেই চাঙ্গাভাব কতোক্ষণ টিকে থাকে?

ক্যাফেইন আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে সাময়িকভাবে জাগিয়ে তুললেও, এর রেশ কাটতেই দুপুর নামার আগেই ক্লান্তি দ্বিগুণ হয়ে চেপে বসে। কফির এ কৃত্রিম বুস্টারের ওপর ভরসা না করে, শরীরের প্রাকৃতিক ছন্দকে কাজে লাগিয়েই পুরো দিন চাঙ্গা থাকা সম্ভব।

তাইওয়ানের বিখ্যাত পুষ্টিবিদ গাও মিনমিন বলছেন, সকালের মাত্র তিনটি সহজ অভ্যাস বদলে দিতে পারে আপনার সারাদিনের এনার্জি লেভেল:

প্রোটিন দিয়ে সকাল শুরু (কার্বোহাইড্রেটকে বলুন না)

সকালে শুধু এক কাপ কফি পান করে কাজে ছোটা কিংবা নাশতায় অতিরিক্ত শর্করা (যেমন- সাদা পাউরুটি, পরোটা বা মিষ্টি খাবার) খাওয়ার অভ্যাস ছাড়তে হবে। এতে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে গিয়ে আবার হু হু করে নেমে যায়, যার ফলে দুপুরের আগেই ঝিমুনি ধরে।

সমাধান: নাশতায় রাখুন পর্যাপ্ত প্রোটিন। এটি ধীরগতিতে হজম হয় এবং সারাদিন শরীরে স্থিতিশীল শক্তি জোগায়। সেদ্ধ ডিম, চিনি ছাড়া সয়া মিল্ক, টক দই বা ছানা হতে পারে চমৎকার প্রোটিন সোর্স।

পিপাসা অনুভূত হওয়ার আগেই পানি পান

শরীরে পানির ঘাটতি হলেও অনেক সময় সেটিকে আমরা ক্লান্তি, ঘুমের ঘাটতি কিংবা অতিরিক্ত কাজের চাপ বলে ধরে নিই। অথচ সামান্য পানিশূন্যতাও মনোযোগ, চিন্তার গতি ও স্মৃতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সমাধান: ঘুম থেকে উঠে মুখ ধুয়েই এক গ্লাস পানি পান করুন। একবারে ঢকঢক করে অনেকখানি না খেয়ে সারাদিন অল্প অল্প করে পানি পানের অভ্যাস করুন। ২০২১ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত পানি পান মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখানোর গতি ও মনোযোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ফোনের নীল আলো নয়, গায়ে মাখুন সকালের রোদ

সকালের প্রাকৃতিক আলো শরীরের ঘুম-জাগরণের ছন্দ ঠিক করতে সহায়তা করে। সূর্যের আলো মেলাটোনিন নামের ঘুম-সম্পর্কিত হরমোনের নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করে এবং শরীরকে দিনের শুরু সম্পর্কে সংকেত দেয়। বিপরীতে, ঘুম থেকে উঠেই ফোনের পর্দায় চোখ রাখলে একসঙ্গে ক্ষতিকর আলো আলো ও নানা মস্তিষ্ককে ক্লান্ত করে ফেলে।

সমাধান: বিছানা ছেড়েই সোজা জানালার পাশে বা বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ান। সকালের প্রকৃতির আলো চোখে-মুখে লাগতেই শরীরে ‘মেলাটোনিন’ (ঘুমের হরমোন) তৈরি বন্ধ হয়ে যায় এবং জৈবিক ঘড়ি জানান দেয়—এখন জাগার সময়! আলোয় দাঁড়িয়ে কয়েকটা দীর্ঘ শ্বাস নিন; মস্তিষ্ক এক নিমেষেই সতেজ হয়ে উঠবে।

আরও