ফুডস জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় আম!

জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড স্টাডিজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর রায়েদেহ বাসিরি বলেন, ‘এখানে শুধু শর্করার মাত্রা নয়, খাবারের গুণগত মানটিই গুরুত্বপূর্ণ।’ আমসহ অন্যান্য ফলে যে প্রাকৃতিক শর্করা থাকে, তার সঙ্গে ফাইবার, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টিগুণও থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ব্যাপক মাত্রায় উপকারী। অন্যদিকে, সংযোজিত বা কৃত্রিম চিনিযুক্ত খাবার যেমন ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল; এমনকি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ নয় এমন কম শর্করাযুক্ত খাবারও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

উচ্চমাত্রার শর্করাযুক্ত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফলের তালিকায় আমের অবস্থান ওপরের দিকে। যদিও এ আমই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াভিত্তিক জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটির কলেজ অব পাবলিক হেলথের ডিপার্টমেন্ট অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড স্টাডিজের বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী অধ্যাপক রায়েদেহ বাসিরির নেতৃত্বে পরিচালিত ওই গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ শর্করাযুক্ত ফল হলেও প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে আম।

প্রসঙ্গত, যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হলেও তা ডায়াবেটিসে রূপ নেয়ার মতো পর্যায়ে পৌঁছয়নি, তাদের প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বলে ধরে নেয়া হয়।

এ বিষয়ে জর্জ ম্যাসনের ডিপার্টমেন্ট অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড স্টাডিজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর রায়েদেহ বাসিরি বলেন, ‘এখানে শুধু শর্করার মাত্রা নয়, খাবারের গুণগত মানটিই গুরুত্বপূর্ণ।’

আমসহ অন্যান্য ফলে যে প্রাকৃতিক শর্করা থাকে, তার সঙ্গে ফাইবার, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টিগুণও থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ব্যাপক মাত্রায় উপকারী। অন্যদিকে, সংযোজিত বা কৃত্রিম চিনিযুক্ত খাবার যেমন ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল; এমনকি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ নয় এমন কম শর্করাযুক্ত খাবারও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সায়েন্স ডেইলিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গবেষণাটি নিয়ে বলা হয়েছে, রায়েদেহ বাসিরির নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণাটিই প্রথম কোনো দীর্ঘমেয়াদি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, যেটিতে প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্তদের বিপাকক্রিয়া ও শারীরিক গঠনে আমের ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রায়েদেহ বাসিরি বলেন, ‘আমরা চাই মানুষ আমের মত ফলকে যাতে সম্পূর্ণরূপে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ করে নেয়। একই সঙ্গে এটিকে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ব্যবহারিক খাদ্য কৌশলেরও অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। ডায়াবেটিসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের এখন শুধু খাবারের শর্করা পরিমাণে মনোযোগ না দিয়ে পাশাপাশি তা কিভাবে প্রবেশ করছে সেটির ওপরও জোর দিতে হবে।’

বাসিরি ও তার সহকর্মীরা গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের দুই দলে ভাগ করেন। একদলকে প্রতিদিন একটি করে তাজা আম খাওয়ানো হয়। আরেকদলকে প্রতিদিন একটি কম মাত্রার শর্করাযুক্ত গ্র্যানোলা বার দেয়া হয়। ছয় মাস ধরে গবেষকেরা অংশগ্রহণকারীদের রক্তে শর্করার মাত্রা, ইনসুলিনের প্রতি শরীরের প্রতিক্রিয়া ও দেহে চর্বির মাত্রা পরিমাপ করেন।

গবেষণা শেষে দেখা যায়, উচ্চমাত্রার শর্করাযুক্ত ফল আম (প্রতিটিতে চিনির গড় মাত্রা ৩২ গ্রাম) কম শর্করাযুক্ত গ্র্যানোলা বারের (প্রতিটিতে ১১ গ্রাম চিনি) চেয়ে বেশি উপকারী প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিদিন আম খাওয়া ব্যক্তিদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতার উন্নতি, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি ও শরীরের চর্বি কমতে দেখা গেছে।

গবেষণায় পাওয়া ফলাফল সম্প্রতি ‘ডেইলি ম্যাঙ্গো ইনটেক ইমপ্রুভস গ্লাইসেমিক অ্যান্ড বডি কম্পোজিশন আউটকামস ইন অ্যাডাল্টস উইথ প্রিডায়াবেটিস: আ র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড স্টাডি’ শিরোনামে নিবন্ধ আকারে ফুডস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

আরও