দীর্ঘ লাইনে না দাঁড়িয়ে ঘরে বসেই টিকিট কাটতে অভ্যস্ত হতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। এর ফলে কিছুটা হলেও মুক্তি মিলছে লাইনে দাঁড়ানোর ঝঞ্জাট থেকে। ঘরে বসে টিকিট ক্রয়ের জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন পরিষেবা। তবে কাগুজে টিকিটের সুবিধাজনক বিকল্প হলেও ভ্রমণের আগে ই-টিকিট প্রিন্ট করে নেয়াটাই ভালো।
বাংলাদেশ রেলওয়ে ই-টিকিটিং সার্ভিস
২০১২ সালের ২৯ মে চালু হয় ঘরে বসে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার ব্যবস্থা। বিভিন্ন ব্যাংক বা এমএফএসের (মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস) বদৌলতে দিন দিন আরো নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠছে এই সরকারি পরিষেবা।
eticket.railway.gov.bd এই ওয়েব অ্যাড্রেসে গিয়ে সর্বোচ্চ ১০ দিন আগে থেকে টিকিট কাটা যায়। টিকিট কাটতে প্রয়োজন হয় জাতীয় পরিচয়পত্র এবং মোবাইল নাম্বার। বিআরআইটিএস (বাংলাদেশ রেলওয়ে ইন্টিগ্রেটেড টিকিটিং সিস্টেম) ব্যবস্থাকে আরো এক ধাপ উন্নত করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিজস্ব অ্যাপ 'রেল সেবা'। যারা ট্রেনে যেতে চান, তারা এক লেনদেনে সর্বোচ্চ মোট ৪টি টিকিট কিনতে পারেন। প্রতিদিন লেনদেন করা যায় সর্বোচ্চ ২টি। অর্থাৎ একজন যাত্রী এক দিনে সর্বোচ্চ ৮টি টিকিট কাটতে পারেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
বিমান বাংলাদেশের গ্রাহকদের জন্য অনলাইন বিমান টিকিট বুকিং সুবিধা যুক্ত হয় ২০১০ সালে । ২০১৯ এ অ্যান্ড্রয়েড এবং অ্যাপেল দুই ব্যবহারকারীদের জন্যই তৈরি হয় বিমান অ্যাপ।
এছাড়াও বিমান বাংলাদেশ অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সি থেকে টিকিট কেনার সুযোগ আরো রয়েছে বিমান স্মার্ট কল সেন্টার নাম্বার ১৩৬৩৬। এটি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।
সহজ
মূলত বাসের টিকেটের জন্য জনপ্রিয়তা পেলেও সহজ বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে বেশি টিকিট বিক্রির রেকর্ড রয়েছে। ট্রেনের টিকিটগুলো বিআরআইটিএস ইস্যু করলেও সামগ্রিক কারিগরি বিষয়গুলো দেখাশোনা করে সহজ-সাইনেসিস-ভিন্সেন জেভি সিস্টেম।
২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সহজ। shohoz.com ওয়েবসাইটটি দেশের প্রায় সব পরিবহন প্রতিষ্ঠান, তাদের স্ব স্ব যাত্রাপথ, ও ভাড়া সংক্রান্ত তথ্যের এক বিশাল সংগ্রহশালা। বাস-ট্রেনের পাশাপাশি এখানে লঞ্চ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ প্লেনের টিকিটও পাওয়া যায়। যেকোনো পরিবহনে যাত্রা পরিবর্তন বা বাতিলকরণে তাদের গ্রাহক সেবা নম্বর ১৬৩৭৪ সার্বক্ষণিক উন্মুক্ত।
পরিবহন
দেশের অন্যান্য পরিবহন সেবার সঙ্গে এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টার্ফেস) ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে paribahan.com ওয়েবসাইটটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সেবা দিতে পারে। ফলে শুধু বাসেরই নয়, লঞ্চ ও প্লেনের টিকিটেরও ব্যবস্থা করতে পারে পরিবহন। এ ছাড়া টিকিট নিশ্চিতকরণে সার্বক্ষণিক সচল থাকে হটলাইন নাম্বার ০৯৬১৩৫৫৫০০০। সেইসঙ্গে রয়েছে দেশের প্রায় সবগুলো পেমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুবিধা।
শেয়ার ট্রিপ
২০১৪ সালে শেয়ার ট্রিপের জন্ম। এটিই বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন বিমান টিকিটিং সিস্টেম, যেটি শুরু থেকে ন্যাশনাল ও ইন্টারন্যাশনাল দুই ফ্লাইটই পরিচালনা করে আসছে।
শেয়ার ট্রিপের অ্যান্ড্রয়েড ও অ্যাপেল দুই প্ল্যাটফর্মের জন্যই মোবাইল অ্যাপ রয়েছে। এমনকি sharetrip.net ওয়েবসাইট ও অ্যাপ দুটোই ফ্লাইটগুলোর বর্তমান সময় ও মূল্যতালিকা প্রদর্শন করে। অর্থ পরিশোধের পর কর্মদিবসে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইস্যু করা ই-টিকিট ইমেইলের মাধ্যমে যাত্রীকে পাঠানো হয়। তবে ছুটি ও সপ্তাহের শেষ দিনগুলোতে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
ফ্লাইট বাতিল বা তারিখ পরিবর্তনের জন্য অ্যাপ বা ওয়েব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদন রাখা যেতে পারে। এ ছাড়া সরাসরি কল করা যেতে পারে গ্রাহক সেবা নাম্বার ০৯৬১৭৬১৭৬১৭ বা হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার ০১৯৫৮৩৯১১৬৪-এ।
অনলাইনে প্লেন, বাস, ও ট্রেনের টিকিট কাটার জস্য এসবের বাইরেও রয়েছে আরো কিছু পরিষেবা প্রতিষ্ঠান। হাজার প্রতিবন্ধকতায়ও এর মাধ্যমে কিছুটা উন্নতির মুখ দেখেছে পরিবহন ব্যবস্থা।