ঘরের সাজে চিত্রকর্ম

আপনার ঘর জুড়ে একটা বিশাল অংশই কিন্তু দেয়াল। তাই আরাদায়ক আসবাবের সঙ্গে দেয়ালটিকেও যদি কিছুটা নান্দনিক করা যায় তাহলে ঘরের সৌন্দর্য দ্বিগুণ হতে বাধ্য। সে ক্ষেত্রে দেয়ালে ঝোলানো আঁকা ছবি বা চিত্রকর্মের কোনো তুলনা নেই।

দেয়ালে নান্দনিকতার প্রকাশ এখন অনেকটাই সর্বজনীন। মনের মাধুরি মিশিয়ে ঘরের দেয়ালকে নান্দনিক করে তুলছেন রুচিশীল লোকেরা। রুচিবোধ এবং আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে অবতীর্ন হয়েছে দেয়ালের সাজসজ্জা।

তবে দেয়ালে চিত্রকর্ম ঝোলানোর বিষয়টি কিন্তু সাম্প্রতিক কোনো সজ্জার অংশ নয়। বছরের পর বছর ধরে বাঙালি মধ্যবিত্ত ও অভিজাত পরিবারগুলো দেয়ালে চিত্রকর্ম ঝুলিয়ে অন্দর সজ্জাকে দিয়েছেন ভিন্ন মাত্রা।

ঘরের দেয়ালের রঙ যদি ম্লান মনে হয় তাহলে সেখানে একটা কালারফুল পেইন্টিং ঝুলিয়ে দিলেই দেয়ালটা আলাদাভাবে ফুটে উঠতে বাধ্য। সেই সঙ্গে যদি পেইন্টিংয়ের ওপরে লাইটিং করে দেয়া যায় তাহলে দেয়ালটা আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

তবে দেয়ালে চিত্রকর্ম ঝোলানোর ক্ষেত্রে কালার কনট্রাস্টের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। কোন রঙের দেয়ালে কেমন চিত্রকর্ম মানাবে সেটি খেয়াল রাখতে হবে। যেমন, সাদা রঙ করা দেয়ালে সবুজ রঙের পেইন্টিং ঝুলিয়ে দিলে দেখতে ভালো লাগবে। দেয়াল এবং পেইন্টিং দুটোতেই ফোকাস থাকবে।

আবার চাইলে বড় দেয়ালে থিম ভিত্তিক পেইন্টিংও ঝোলানো যায়। আজকাল কনসেপ্টচুয়াল ন্যাচারাল থিম, কালার থিম নিয়ে দেয়াল নান্দনিক করছেন অনেকেই।

তবে পেইন্টিং দিয়ে ঘর সাজানোর কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। কোথায় কেমন পেইন্টিং হবে তা ভেবেচিন্তে নির্বাচন করতে হয়। আবার পেইন্টিংয়ের ঠিকঠাক যত্ন না নিলে সেগুলো নান্দনিকতা ফুটিয়ে তোলার পরিবর্তে ঘরের জঞ্জাল হয়ে উঠতে পারে। তাই ক্যানভাসে আঁকা ছবি যেটায় কাচের আবরণ নেই সেগুলো পরিষ্কার করার সময় ব্রাশের ব্যবহার করা যাবে না। এতে ছবির ওপরের অংশে ক্ষতি হয়। নরম কাপড় বা এক টুকরা ভেলভেটের কাপড় দিয়ে আলতোভাবে ছবি মুছে নিতে হবে।

পেন্সিল ড্রয়িং, প্যাস্টেল এবং ওয়াটার কালারের ছবিতে কাচ লাগিয়ে নেয়া জরুরি। কারণ এ ধরনের ছবি খুব সহজেই ময়লা হয়ে যায়। কাচের আবরণ থাকলে ছবি অনেকদিন ভালো থাকে।

বাথরুম-সংলগ্ন দেয়াল বা বাইরের দিকের দেয়াল যেখানে ড্যাম্প ধরার আশঙ্কা বেশি, সেখানে ছবি লাগানো উচিত নয়। কারণ অতিরিক্ত আর্দ্রতা ছবির ক্ষতি করে। রান্নাঘরের লাগোয়া দেয়ালেও ছবি টানানো উচিত নয়। কারণ রান্নার ধোঁয়া, তেল, কালি পেন্টিংয়ে গায়ে জমে ছবির ক্ষতি হয়। আবার সরাসরি রোদ এসে পড়ছে এমন জায়গায়ও ছবি রাখা যাবে না। এতে পেইন্টিং তাড়াতাড়ি ফিকে হয়ে যায়।

বছরে অন্তত দু’বার ছবিগুলো দেয়াল থেকে খুলে দেখে নিতে হবে ছবিতে চিড় ধরা বা কুঁচকে যাওয়ার মতো কিছু হয়েছে কিনা। যদি দেখা যায় ছবিতে ছোট ছোট বাবল তৈরি হয়েছে বা ঢেউ খেলানো ভাব এসেছে, তাহলে দেরি না করে পেইন্টিং নিয়ে কাজ করে তাদের সাহায্য নিতে হবে।

আরও