পাকা চুল, স্বাভাবিক জীবনের অংশ। আর তাই একসময় চুল পাকাকে বয়সের চিহ্ন হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু আজকাল বিশের কোঠার তরুণ-তরুণীর মাথাতেও সাদা চুল দেখা যাচ্ছে। একে বলে অকালপক্বতা বা প্রিম্যাচিউর গ্রেয়িং। কেউ কেউ এটাকে ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হিসেবে গ্রহণ করলেও সাদা চুল অনেকের আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দেয়। প্রশ্ন একটাই—কেন এত তাড়াতাড়ি চুল পেকে যাচ্ছে?
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে—বংশগত প্রভাব, ফ্রি র্যাডিক্যাল, অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মতো একাধিক কারণ। তবে সবচেয়ে অবহেলিত কারণটি হলো খাদ্যাভ্যাস। শরীরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি চুলে রং পরিবর্তনের জন্য দায়ী।
ভিটামিনের অভাবেই নষ্ট হয় মেলানিন
মেলানিন আমাদের শরীরের চুল ও ত্বকের রং নির্ধারণ করে। মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের পুষ্টিবিদ সামান্থা দিয়েরাস জানিয়েছেন, ভিটামিনের ঘাটতি মেলানিন উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়। এতে চুলের ফলিকলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হয়। সেইসঙ্গে পিগমেন্ট তৈরির কোষগুলো নষ্ট হয়ে যায়।’ অর্থাৎ, যতই ব্যয়বহুল শ্যাম্পু ব্যবহার করুন না কেন, যদি ভেতর থেকে শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি না পায়, চুলের রং হারাবে নিশ্চিতভাবে।
প্রাকৃতিকভাবে চুলের রং ফিরিয়ে আনতে করণীয়:
- মেলানিন তৈরিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো কপার বা তামা। এর ঘাটতি হলে চুলের রঞ্জক পদার্থ কমে যায়। তাই খাদ্যতালিকায় রাখুন আলু, মাশরুম, ঝিনুক ও গরুর যকৃত।
- আয়রন কেবল রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে নয়, মেলানিন উৎপাদনেও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আয়রনের ঘাটতি থাকলে চুলের রং ম্লান হয়। তাই নিয়মিত খান লাল মাংস, মুরগি, ডাল, ছোলা ও পালং শাক।
- গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি-র অভাব চুল পড়া ও অকালপক্বতার সঙ্গে সম্পর্কিত। ভিটামিন ডি মেলানোসাইট কোষকে সক্রিয় রাখে, যা চুলের রঙ ধরে রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি পেতে খাবারে রাখুন স্যামন, সার্ডিন, দুধ ও কমলার রস।
- ভিটামিন বি১২ চুলের ফলিকলে অক্সিজেন সরবরাহে সাহায্য করে। এর অভাবে পিগমেন্ট উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বি১২ সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে মাছ, মাংস, ডিম, মুরগীর কলিজা ও দুগ্ধজাত খাদ্য।
- ডিএনএ মেরামত ও কোষ নবায়নে ফোলেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাবে চুলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ও রঙ ফিকে হয়ে যায়। পালং শাক ও গরুর যকৃত ফোলেটের ভালো উৎস।
শুধু খাবারই নয়, জীবনধারাতেও সচেতনতা জরুরি
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা একমত—শুধু ভিটামিন খাওয়াই নয়, মানসিক চাপ কমানো, পর্যাপ্ত ঘুম, ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্ট্রেস শরীরে কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে চুলের রঞ্জক উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করে। এ ছাড়া লিভারের ধারাবাহিক সমস্যা থাকলেও কম বয়সে চুল পেকে যায়। তাই সে ক্ষেত্রে লিভারের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাও জরুরি।
ভোগ ম্যাগাজিন অবলম্বনে