ঘরের কোণার দিকে তাকিয়ে কখনো মনে হয়েছে, এখানে কী রাখা যায়? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, আপনি একা নন। ঘরের কোণাগুলো, বিশেষ করে বসার ঘরের কোণাগুলো প্রায়ই ফাঁকা থেকে যায়। তবে একটু সৃজনশীলতা আর ঠিকঠাক পরিকল্পনার মাধ্যমে ঘরের ‘ডেড কর্নার’-গুলোই হয়ে উঠতে পারে আপনার ঘরের সবচেয়ে নজরকাড়া দিক।
কাস্টম বুকশেলফ
ঘরের ডেড কর্নার সাজিয়ে তুলতে দারুণ একটি উপায় হচ্ছে কাস্টম বুকশেলফ। সরু জায়গাতেও ওয়াল-মাউন্টেড শেলফ, কিউব ইউনিট বা ফ্লোটিং বুকশেলফ বসিয়ে বই, গাছপালা বা শো-পিস সাজানো যায়। আরেকটু নজর কাড়তে চাইলে ফার্নিচারের সঙ্গে ম্যাচ করে বুকশেলফের রং নির্বাচন করুন অথবা একেবারে কনট্রাস্ট করে ঘরের সাজে যোগ করুন আলাদা মাত্রা।
রিল্যাক্সেশন কর্নার
একটা আরামদায়ক চেয়ার, একটা ফ্লোর ল্যাম্প আর একটা ছোট টেবিল—এই সামান্য কয়েকটা জিনিসেই তৈরি হয়ে যেতে পারে একটা শান্তিপূর্ণ বিশ্রামের কোণা। জানালার পাশে হলে তো কথাই নেই—প্রাকৃতিক আলো এই স্পেসটাকে করে তুলবে আরো স্নিগ্ধ। হালকা পর্দা টানিয়ে বানিয়ে ফেলুন একটা ছোট শান্তির জায়গা ।
বেঞ্চ এন্ড ডেকর
একটা স্টাইলিশ বেঞ্চ রাখতে পারেন কোণায়। রঙিন কুশন বা একটা ছোট ল্যাম্প রাখলে সুন্দর দেখাবে। বই, ফুলদানী বা ম্যাগাজিন রাখার মতো ছোটখাটো ব্যবহারের জায়গা হিসেবেও কাজ দেবে। বেঞ্চটি জানালার নিচে রাখুন, অথবা দেয়ালে আর্ট বা আয়না দিয়ে সাজিয়ে দিন।
কমপ্যাক্ট ডেস্ক
ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছেন, কিন্তু জায়গা কম? কোণায় ছোট একটা ডেস্ক বসিয়ে ফেলুন। ওয়াল-মাউন্টেড বা কমপ্যাক্ট মডেল বেছে নিন। একটা আরামদায়ক চেয়ার আর ওপরে একটা শেলফ বসালেই হয়ে যাবে কাজের জন্য সুন্দর একটা কর্নার অফিস।
গ্যালারি ওয়াল
দু’টি খালি দেয়াল যেখানে একসঙ্গে মিশেছে, সেখানেই বানিয়ে ফেলুন আপনার গ্যালারি ওয়াল। ফ্রেম করা ছবি, আর্টওয়ার্ক বা পারিবারিক মুহূর্তগুলোর ফ্রেমে বেঁধে ঝুলিয়ে দিন।
গাছ, আলো ও আয়না
সবসময় বড় আসবাব দরকার পড়ে না—ছোট ছোট জিনিসই বড় প্রভাব ফেলে। লম্বা একটা ইনডোর গাছ নিয়ে আসুন। ঘরের কোণায় রাখা একটা মাত্র গাছই পুরো ঘরে নিয়ে আসতে পারে প্রাণ। আবার ঘরের কোণায় একটা স্কাল্পচারে ফ্লোর ল্যাম্প দিলে আলো আসবে, আবার কোণার চেহারাও পাল্টাবে। আর তার সঙ্গে একটি আয়না। ব্যাস! ঘর হয়ে উঠবে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।