সুখী দাম্পত্যের ক্ষেত্রে সাধারণত সঙ্গীর স্বভাব, রুচি বা মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেয়া হয়। কিন্তু সঙ্গীর সঙ্গে বয়সের ব্যবধানের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রায়ই আলোচনার আড়ালে থেকে যায়। নারীরা পুরুষের তুলনায় শারীরিক ও মানসিকভাবে দ্রুত পরিণত হয়। তাই কমবয়সী নারীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করাটা অনেক সংস্কৃতিতে প্রথার মতো চর্চা হয়ে আসছে।
বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের ব্যাখ্যায় বলা হয়, নারী ও পুরুষের সঙ্গী নির্বাচনের সহজাত প্রবৃত্তি ভিন্ন। উন্নত সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিবেচনায় অনেক নারী বয়সে বড় ও প্রতিষ্ঠিত পুরুষ পছন্দ করেন। অন্যদিকে, অধিকাংশ পুরুষ বয়সে ছোট সঙ্গী পছন্দ করেন, বিবর্তনের ভাষায় এটি প্রজনন সক্ষমতার প্রতীক।
মিডিয়ামে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, একজন পুরুষের জন্য সন্তান জন্মদানের সেরা সময় ২১ থেকে ৩৫ বছর। ৩৫ বছরের পর থেকে সাধারণত শুক্রাণুর (স্পার্ম) মান কমতে থাকে। ৪০–এর পর শুক্রাণু কমতে কমতে অর্ধেকে নেমে আসে। ৫০–এর পর অনেক পুরুষই শারীরিকভাবে সন্তানের বাবা হওয়ার মতো ‘ফিট’ থাকেন না।
নারীদের ক্ষেত্রে ‘আর্লি টুয়েন্টিজ’ মা হওয়ার সেরা সময়। ২৫ থেকে ২৯ বছরের ভেতর মা হওয়াও নিরাপদ। বয়স ৩০ পেরিয়ে গেলে প্রজননক্ষমতা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। নারীদের ক্ষেত্রে ৪০–এর পর মা হওয়া মা ও শিশু উভয়ের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
তবে আধুনিক বিশ্বে সুখী দাম্পত্যে সম্পদ বা সন্তানের চেয়ে মানসিক সংযোগই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। রিলেশনশিপ সায়েন্স-এর কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে বড় ব্যবধানের দম্পতিরা সমবয়সীদের তুলনায় একে অপরের ওপর বেশি বিশ্বাস রাখেন এবং তাদের মধ্যে অযথা ঈর্ষা কম থাকে।
জার্নাল অব পপুলেশন ইকোনমিক্স ও বিভিন্ন সোশ্যাল সাইকোলজি রিসার্চ বলছে, দাম্পত্য সন্তুষ্টির সঙ্গে বয়সের ব্যবধানের একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ০ থেকে ৩ বছর ব্যবধানের দম্পতিদের মধ্যে মানসিক মিল ও সম্পর্কের স্থায়িত্ব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
গবেষকদের মতে, ৪ থেকে ৬ বছরের ব্যবধানে সন্তুষ্টির মাত্রা সামান্য কমলেও, ব্যবধান যখন ৭ থেকে ১০ বছর বা তার বেশি হয়, তখন সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। এর একটি বড় কারণ ‘লাইফ সাইকেল’। ভিন্ন বয়সের মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা, সন্তান গ্রহণ বা অবসরের পরিকল্পনা ভিন্ন হয়, যা দীর্ঘমেয়াদী দ্বন্দ্বে রূপ নিতে পারে।
চুড়ান্ত প্রতিশ্রুতির আগে ৫টি জরুরি জিজ্ঞাসা
থেরাপিস্টদের পরামর্শ, বয়সে অনেকটা বড় বা ছোট কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে নির্বাচন করার আগে নিজেদের কিছু প্রশ্ন করা জরুরি:
- ক্যারিয়ার, সন্তান ও অর্থব্যবস্থাপনা নিয়ে আপনাদের দুজনের পরিকল্পনা কি একই?
- বয়সের পার্থক্যের কারণে রুচির ভিন্নতা থাকলেও এমন কোনো শখ আছে কি যা আপনারা দুজনেই পছন্দ করেন?
- ধর্ম, রাজনীতি ও জীবনের নৈতিক ভিত্তি কি আপনাদের একই রকম?
- একে অপরের জীবনের ভিন্ন পর্যায়কে সম্মান জানিয়ে কি আপনারা ছাড় দিতে প্রস্তুত?
- বাইরের মানুষের নেতিবাচক মন্তব্য উপেক্ষা করার মতো মানসিক শক্তি কি আপনাদের আছে?
দিনশেষে বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। একটি সফল সম্পর্কের চাবিকাঠি বয়সের ব্যবধানে নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সততা ও বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে।
তথ্যসূত্র: দ্য কনভারসেশন, রিলেশনশিপ সায়েন্স, ভেরিওয়েল মাইন্ড ও সোশ্যাল সাইকোলজি রিসার্চ।